Sun, July 21, 2024

ই-পেপার দেখুন

জামিন পেতে দিতে হয়েছিল ঘুষ, সরকারি হাসপাতালে 'পুলিশ কেস' বলে ফেলে রেখেছিল- আদালতে চাঞ্চল্যকর দাবি আবু সিদ্দিকের পরিবারের

আবুল খায়ের

Published: 11 July, 2024, 05:40 PM
জামিন পেতে দিতে হয়েছিল ঘুষ, সরকারি হাসপাতালে 'পুলিশ কেস' বলে ফেলে রেখেছিল- আদালতে চাঞ্চল্যকর দাবি আবু সিদ্দিকের পরিবারের

 

 

পুবের কলম, ওয়েব ডেস্কঃ ঢোলাহাটে যুবকের মৃত্যু ঘিরে এবার নয়া মোড়। জামিনের জন্য পুলিশকে দিতে হয়েছিল ঘুষ। বৃহস্পতিবার আদালতে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। জামিনের জন্য ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা পুলিশকে ঘুষ দিতে হয়েছিল তাদের। এ দিন আবু সিদ্দিক হালদারের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেহ সংরক্ষণ করারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পুলিশ হেফাজতে প্রচণ্ড মারধরের জেরেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করে তদন্ত চেয়ে বুধবার আদালতের দ্বারস্থ হয় আবু সিদ্দিক হালদারের পরিবার। বৃহস্পতিবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়।

আবেদনকারীর আইনজীবী শামিম আহমেদ জানান, ৩ জুলাই পরিবারের এক আত্মীয়ের বাড়িতে চুরির অভিযোগ দায়ের হয়। ৪ জুলাই ভোররাতে পুলিশ ধরে নিয়ে যায় আবু সিদ্দিককে। তাঁর দেহে ইলেকট্রিক শক দেওয়ার চিহ্ন রয়েছে। আঘাতের চিহ্ন আছে দেহের বিভিন্ন অংশে। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক পুলিশ কেস বলে ফেলে রেখেছিল। বিনা চিকিৎসায় দীর্ঘক্ষণ পড়ে থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর পুলিশ দেহ নিয়ে গিয়ে ময়নাতদন্ত  করে। যেহেতু পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাই ময়নাতদন্ত ঠিক করে হয়নি বলেই মনে করছেন তাঁরা। সংশ্লিষ্ট থানার ইন্সপেক্টর রাজদীপ সরকারের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ এনেছে মৃত যুবকের পরিবার ।

এদিন বিচারপতি অমৃতা সিনহা পুলিশের কাছে জানতে চান ময়নাতদন্ত কি হয়েছে? ময়নাতদন্তের সময় কে কে উপস্থিত ছিলেন? ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ নিয়ে কি পুলিশ কাজ করেছিল? কোনও ভিডিও ফুটেজ রয়েছে কি?

উত্তরে সরকারি আইনজীবী জানান, ময়নাতদন্ত হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ ছিল। একটা চুরির অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ মেডিক্যাল করিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। তখন সে সুস্থই ছিল। পরে মৃতের মা হেফাজতে মারধরের যে অভিযোগ করে তার ভিত্তিতে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়।

আবু সিদ্দিকের পরিবারের লোকজনের দাবি, গত ৩০ তারিখ ঢোলাহাটের ঘাটমুকুলতলা এলাকায় ওই যুবকের কাকার বাড়িতে চুরি হয়। সেই ঘটনার পর চোর সন্দেহে আবু সিদ্দিককে পুলিশের হাতে তুলে দেয় পড়শিরা। আদালতে তোলা হলে জামিন পায় ওই যুবক। পরের দিন ছাড়া পেয়ে বাড়িতেও ফিরে আসে। বাড়ি ফেরার পরেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তাঁকে মথুরাপুর ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর অবস্থার অবনতি হওয়ায় নিয়ে যাওয়া হয় ডায়মন্ডহারবার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে   কলকাতার চিত্তরঞ্জন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয় ওই যুবককে। পরে পার্কসার্কাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। ৮ জুলাই রাতে মৃত্যু হয় তার। পুলিশের দাবি, তার জন্ডিস ছিল বলে রিপোর্ট দিয়েছিল ওই নার্সিংহোম।

এই মৃত্যুর বিষয়ে বুধবার  কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। বিচারপতি মামলা দায়ের করার অনুমতি দেন। বৃহস্পতিবার তাঁর এজলাসেই এই মামলার শুনানি হয়। যে নার্সিংহোমে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে, তাদের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণেরও নির্দেশ দেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।

Leave a comment