পুবের কলম প্রতিবেদকঃ বগটুইয়ের ঘটনার পিছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছিল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। বুধবার এই ঘটনায় প্রথম মুখ খুলে সেই ষড়যন্ত্রের তত্ত্বকেই হাতিয়ার করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে জয়বাংলা প্রকল্পে ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই রামপুরহাট কাণ্ড নিয়েও সরব হলেন তিনি। শুধু তাই নয় এ দিন এই মঞ্চ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন তিনি স্বয়ং রামপুরহাট যাচ্ছেন। বুধবারই হয়তো যেতেন তবে তিনি কোনও সংঘাত চান না।
আরও পড়ুন:
আজ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি রামপুরহাট গিয়েছে। তাই আজ বৃহস্পতিবার যাবেন তিনি। রামপুরহাটের ঘটনা ঘটার পর বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি চেয়েছিল বিজেপি।
আরও পড়ুন:
পরে অবশ্য সরকারের তরফ থেকে বিবৃতি দেন পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তবে কাল এই নিয়ে একটি কথাও বলেননি মমতা। আজ সেই নীরবতা ভেঙে মমতা বলেন, ‘সরকারটা আমাদের। আমরা কি চাইব কেউ খুন হোক। আমরা কি চাইব কেউ বোমা মারুক। এটা তারাই করে যারা সরকারে নেই। যারা চায় সরকারটা ব্যতিব্যস্ত হোক। খুব স্বাভাবিক ভাবেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যে রাজনৈতিক মহল বিরোধীদের ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব খুঁজে পেয়েছে। রামপুরহাটে ঘটনার পেছনে যে ষড়যন্ত্র করছে এদিন স্পষ্ট ভাষায় আরও একবার জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
শুধু তাই নয়, মঙ্গলবারের ঘটনা থেকে তার সরকার যে চুপ করে বসে থাকেনি সেকথাও জানাতে ভোলেননি তিনি। তিনি বলেন, রামপুরহাটে একটা ঘটনা ঘটেছে তা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। যারা ঘটনাটা ঘটিয়েছে তারা কেউ ছাড় পাবে না। আমি গতকাল পঞ্চাশবার ফোন করেছি। ওসি-এসডিপিও-কে সরিয়ে দিয়েছি। সিট গঠন করেছি। পুলিশের ডিজি সেখানে পড়ে আছেন। তাই আজ আমি যাব।
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রী রামপুরহাট যাওয়ার কথা বললেও তার আগেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মুহাম্মদ সেলিম।
এদিনই রামপুরহাট গেলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর এই অবস্থায় বিরোধীদের উদ্দেশ্যে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়ে মমতা বলেন, আমি বুধবারই যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আরও অনেকে গেছেন। তাঁরা 'ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে ল্যাংচামহলে' পৌঁছান। তার পর ল্যাংচা খেয়ে আসানসোল হয়ে রামপুরহাটে যাবেন। এর পর গেলে রাত হয়ে যেত, তাই আমি এদিন গেলাম না।আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, ঘটনার পর্যাপ্ত তদন্ত হবে। অভিযুক্তরা শাস্তি পাবেনই। কেউ রেহাই পাবে না। রামপুরহাটের ঘটনা নিয়ে 'অ্যাকশন' হবে।