দেশপ্রথম পাতাসম্পাদকীয়সম্পাদকের-পছন্দ

বিজেপির অস্ত্র–নাগরিকত্ব বিল, এনআরসি, অযোধ্যা ও কাশ্মীর : পড়ুন এ এইচ ইমরানের বিশেষ কলাম

লোকসভা নির্বাচন জিততে হবে। বিজেপির নেতৃবৃন্দ ইতিমধ্যেই মূল্যায়ন করে নিয়েছেন— হাওয়া খুব সুবিধের নয়। মাঝখানে প্রধানমন্ত্রী এবং বিজেপির একমাত্র স্টার প্রচারক নরেন্দ্র মোদি বিকাশ ও উন্নয়নের সমস্ত জুমলা ছেড়ে পড়েছিলেন— পাকিস্তানে বিমান হামলা, পুলওয়ামায় কনভয়ে বিস্ফোরণের ফলে সেনা-মৃতু্য এবং ‘দেশপ্রেমের’ ভাষণবাজিতে। সেনার কৃতিত্বকে নিজের বলে লাফালাফিতে জনপ্রিয়তা খানিকটা বাড়লেও, তা দিয়ে বৈতরণি পার হওয়া যাবে কিনা— সে সম্পর্কে ঘোরতর সন্দেহে রয়েছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। আর তাই দেখা যাচ্ছে বিজেপি তার সংকল্পপত্রে আবারও তুলে ধরেছে— কট্টর হিন্দুত্ববাদী নীতি-কৌশলগুলিকে। এর মধ্যে রয়েছে– সিটিজেন্সশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল এবং কাশ্মীর।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি বিজেপি অসমসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি এবং পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র বিরোধিতার মুখে রাজ্যসভায় পাস করাতে পারেনি। এই বিলে মোদি সরকার ওয়াদা করেছিল যে– বন্ধুরাষ্ট্র বাংলাদেশ– আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশে যেখানে মূলত হিন্দুরা নির্যাতিত হচ্ছেন বা হবেন, তাঁদের ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এই বিলটি নিয়ে বহু প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ওয়াকিফহাল মহল বলছেন, এই বিলটি আইনে পরিণত হলে মূলত বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে দলে দলে হিন্দুরা ভারতে চলে আসবে। বাংলাদেশ থেকে যারা আসবেন, তাঁরা মূলত আশ্রয়ের জন্য বেছে নেবেন অসম, পশ্চিমবঙ্গসহ উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিকে।ফলে এর বিরুদ্ধে প্রবল আন্দোলন শুরু হয় বিশেষত অসম ও উত্তরপূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে। প্রবল বিরোধিতার মুখে রাজ্যসভায় বিলটি আটকে গেছে। বিজেপি এখন বলছে– তারা যে কোনও মূল্যে পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশ থেকে আগত অমুসলিমদের ভারতের নাগরিকত্ব দেবেনই। তাদের এই হুংকার গোবলয়ে বহু মানুষকে বিজেপিকে ভোট দিতে প্ররোচিত করবে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন,

বিজেপির এই ধরনের সংকল্পের ফলে প্রতিবেশি বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের সংখ্যালঘুরা আলাদা করে মুশকিলে পড়বেন। তার থেকে বরং যদি ভারত সরকার বলত– প্রতিবেশি দেশগুলিতে সংখ্যালঘুদের নির্যাতন চলবে না— তা বেশি কার্যকর হত। দেশেও সমস্যার সৃষ্টি হত না। নেহরু-লিয়াকৎ চুক্তি এবং ইন্দিরা-মুজিব চুক্তিতে এর যথেষ্ট সুযোগ ভারতের হাতে ছিল। হিন্দুত্ববাদীরা খুশি হলেও বিলটি প্রতিবেশি দেশগুলিকেও প্রবলভাবে সমস্যায় ফেলবে।
এ ছাড়া বিজেপি হুমকি দিয়েছে– তারা অসম ছাড়া অন্যান্য প্রদেশেও এনআরসি করে বহু বাসিন্দাকে মূলত ‘বাঙালি হিন্দু ও মুসলিম’ ভারত থেকে বিতাড়িত করবে কিংবা ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখবে। এ বিষয়টিও সংঘপন্থীদের উজ্জীবিদ করবে কিন্তু দেশকে বিপদে ফেলবে।
উপরন্তু রয়েছে কাশ্মীর। ৩৭০ ধারা ও আর্টিকেল ৩৫এ সংবিধান থেকে বিলুপ্ত করলে যে শর্তে কাশ্মীর ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল তা পুরোপুরি নস্যাৎ হয়ে যাবে। তাদের কাশ্মীরিয়ৎ বলে কিছু রইবে না। এ ধরনের সংবিধান পরিবর্তন পরিবর্তনের ঘোষণা যে কাশ্মীরিদের আরও বিক্ষুব্ধ করে তুলবে— তাতে সন্দেহ নেই। তবে বিজেপি ও সংঘ পরিবারের সমর্থকেরা অবশ্যই খুশি হবে।
এ ছাড়া রয়েছে অযোধ্যা। সুপ্রিম কোর্ট যাই বলুক না কেন বিজেপির বক্তব্য– বাবরি মসিজদের জমিতেই রামমন্দির বানানো হবে। ফলে নির্বাচনের আগে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সৃষ্টির প্রচেষ্টাকে বিজেপির ‘সংকল্পপত্র’ যে আরও ঘনীভূত করল— তাতেও সন্দেহ নেই।

Show More

Related Articles

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker
WhatsApp us