লাইফস্টাইল

বিখ্যাত মানুষরা সকালে উঠে কী করেন, জানেন কি?

কথায় আছে, ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’। দিনের শুরুটা যদি ভালো কাটে, তাহলে বাকি দিনটাও ভালো কাটার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়। কিন্তু যদি গোড়াতেই গলদ থেকে যায়, তাহলে পুরো দিনে ভালো কিছু ঘটার সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে যায়। তাই সকালটা আমরা কীভাবে কাটাব, কিংবা বলা ভালো কীভাবে কাটানো উচিত, এ ব্যাপারে আলোচনার বিশেষ প্রয়োজন আছে।

সফলতার নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা নেই ঠিকই, তারপরও নিজ প্রচেষ্টায় বিপুল অর্থের মালিক হওয়া বিলিয়নিয়ারদেরকে সফল বলে ধরে নেয়া যেতেই পারে।

জ্যাক ডরসি
জ্যাক ডরসির পরিচয় হল, তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারের প্রতিষ্ঠাতা। ভোর পাঁচটার সময়ই তিনি দিন শুরু করেন। ৩০ মিনিট মেডিটেশন করার পর পালাক্রমে তিন দফা ওয়ার্ক-আউট করেন। প্রতিবার ওয়ার্ক-আউটের সময়কাল সাত মিনিট করে। এরপর সকালের কফি পান করে টুইটারে চেক-ইন করেন তিনি।


ওয়ারেন বাফেট


ঘুমোতে ভালোবাসেন ওয়ারেন বাফেট। সাধারণত রাতে পুরো আট ঘণ্টা ঘুমান তিনি। তবে তাই বলে ‘লেট রাইজার’ নন তিনি। উঠে পড়েন ভোর ৬.৪৫ বাজতেই। ঘুমের পাশাপাশি তার অন্য ভালোবাসার কাজটি হল পড়া। তাই ঘুম থেকে উঠে দিনের শুরুটাও তিনি করেন পড়ার মাধ্যমেই। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং ইউএসএ টুডে’র মতো সংবাদপত্রগুলো তিনি সকাল সকালই পড়ে শেষ করেন।


জেফ বেজোস
আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের কাছেও ঘুম সবচেয়ে মূল্যবান। তাই ঘুমকে প্রায়োরিটি লিস্টে সবার উপরে রাখেন তিনি। তবে মজার ব্যাপার হল, বেজোসকে ঘুম থেকে জাগার জন্য কোনো অ্যালার্ম সেট করে রাখতে হয় না। নিজে থেকেই উঠে পড়তে পারেন তিনি। এবং গুরুত্বপূর্ণ, ‘হাই আইকিউ’ মিটিংগুলো তিনি সকালবেলা ঠান্ডা মাথাতেই সেরে ফেলতে পছন্দ করেন। দশটা থেকে শুরু করে লাঞ্চের আগেই সব মিটিং শেষ করেন তিনি।


মার্ক জুকারবার্গ
মার্ক জুকারবার্গের সাথে অনেকেই হয়তো নিজেদের মিল খুঁজে পাবেন। কারণ জাকারবার্গও প্রতিদিন সকাল আটটার সময় চোখ মেলেই প্রথমে মোবাইল হাতে ফেসবুকে ঢুকে পড়েন, নিউজফিড ঘেঁটে জেনে নেন বিশ্বের কোথায় কী উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটলো। এরপর তিনি মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ চেক করেন। তবে একটি ব্যাপার ভুলে গেলে চলবে না, অন্যদের কাছে ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ স্রেফ শখের বা অভ্যাসের বস্তু হলেও, জাকারবার্গের কর্মজগৎ কিন্তু এগুলোকে কেন্দ্র করেই! আরেকটি বিষয় হলো, জাকারবার্গ ছোটখাট সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনে সময় নষ্ট করতে একদমই পছন্দ করেন না। এ কারণে প্রতিদিন তিনি একই ডিজাইনের পোশাক পরে কাজে যান। এছাড়া তিনি চেষ্টা করেন প্রতিদিন সামান্য সময়ের জন্য হলেও ওয়ার্ক-আউট করতে বা একটু দৌড়ে আসতে।


বিল গেটস

দিনের শুরুটাই বিল গেটস করেন শরীরচর্চার মাধ্যমে, বিশেষত কার্ডিও এক্সারসাইজ করে। অন্তত এক ঘণ্টা তিনি ট্রেডমিলে কাটান। তবে ওই সময়টুকুতে শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কও যেন কাজে লাগানোর মতো কিছু রসদ পায়, সে লক্ষ্যে শিক্ষামূলক ডিভিডি দেখতে থাকেন তিনি। তার নিজের দাবি, শরীরচর্চা শেষে তিনি কোকোয়া পাফস সিরিয়াল খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু তার স্ত্রী মেলিন্ডার অভিযোগ, আজকাল তিনি সকালে নাস্তা করেনই না!

Show More

Related Articles

মন্তব্য করুন

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker
WhatsApp us