প্রথম পাতাব্রেকিং নিউসমহানগর

ধর্ম-নিরপেক্ষতা রক্ষার লড়াই করছেন মমতা, দেশের মানুষের আস্থা তাঁর দিকেই: ফিরহাদ

একান্ত সাক্ষাৎকারে ফিরহাদ হাকিম

‘তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে লড়াই করছেন সেটা দেশ রক্ষার লড়াই, দেশের গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াই, দেশের সংবিধান, সার্বভৌমত্ব, ধর্মনিরপ্রেক্ষতা বাঁচানোর লড়াই। তাই মমতার হাতকে শক্ত করতে হবে।’ এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে এ কথা বললেন কলকাতার মেয়র, রাজ্যের মন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক ফিরহাদ হাকিম। এ ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের দায়িত্ব যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ, তাও তিনি জানালেন জোরালোভাবে। খ্রিস্টান, মুসলিম ও দলিতদের প্রতি বিজেপি সরকার আচরণ করে যাচ্ছে তা সর্বজনবিদিত বলে মন্তব্য করেন ফিরহাদ হাকিম। তাই অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই সংখ্যালঘু ও দুর্বল শ্রেণিদের মমতার পাশে দাঁড়ানো উচিত বলে মনে করছেন এই বরিষ্ঠ নেতা। বাম বা কংগ্রেসকে সমর্থন করে সংখ্যালঘু ও দুর্বল শ্রেণিরা যাতে বিজেপির সুবিধা না করে দেয় সাক্ষাৎকারে সে বিষয়ে সকর্তবার্তা উচ্চারণ করেন ফিরহাদ হাকিম।
মঙ্গলবার ‘পুবের কলম’কে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে কলকাতার মহানাগরিক বলেন, ‘ঈশ্বর না করুন, এই রাজ্যে যদি বিজেপি ক্ষমতায় আসে তাহলে সংখ্যালঘুরা নিজেদের ইচ্ছামতো খাবার খেতে পারবেন না। টুপি পরে ইচ্ছামতো নামায পড়তে পারবেন না। খ্রিস্টান ও দলিত সম্প্রদায়কেও নানা ধরনের অত্যাচার ও হুমকির মধ্যে পড়তে হবে। তাঁদের মাথা নত করে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হয়ে থাকতে হবে। আমি ধারণা নয়, দেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতেই এসব কথা বলছি। আর মুসলিমরা তো বিশ্বাস করেন, আল্লাহ্ ছাড়া কারওর কাছে মাথা নত করার চেয়ে মৃত্যুবরণ করা অনেক ভালো।’
ফিরহাদ এক্ষেত্রে সিপিএম ও কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর কথায়, বাম ও কংগ্রেস ধর্মনিরপেক্ষ ভোটে ভাগ বসিয়ে বিজেপির হাতই শক্ত করতে চাইছে। ভোট যদি ভাগ হয়ে যায়, তাহলে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তার ফল হবে আমাদের অস্তিত্বই সংকটের মুখে পড়বে। গুজরাত, ইউপির মতো ফ্রিজে কোনও মাংস পাওয়া গেলেই তাকে পিটিয়ে মারা হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত সিপাহসালার ফিরহাদের আবেদন, অপদার্থ সিপিএম ও কংগ্রেসের কথায় ভুল পথে না পরিচালিত হয়ে নিজেদের অস্তিস্ব রক্ষার স্বার্থে একযোগে সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ান। একসঙ্গে বলুন, ‘মমতা তুমি দিল্লি জয়ের লড়াই চালিয়ে যাও, আমরা তোমার পাশে আছি।’
রাজ্যে যে দু-একজন সংখ্যালঘু বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদের বয়কট করার ডাক দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। তাঁর বক্তব্য, ‘উত্তরপ্রদেশে একজনও মুসলমান প্রার্থী দেয়নি বিজেপি। আর এখানে মানুষকে বোকা বানাতে দু-একটা মুসলমানকে হারবে জেনেও প্রার্থী করেছে। যাঁরা বিজেপির টিকিটে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের বয়কট করা উচিত। অনেকে অর্থের লোভে বিজেপির হয়ে দালালি করছেন।’ ফিরহাদ দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেন, ‘আজ সামনে দেশ রক্ষার প্রশ্ন। আর এজন্য বাংলা থেকেই আওয়াজ তুলতে হবে।’
এই রাজ্যে বিজেপি ৮টি আসন পাবে বলে নিয়েলসনের এক সমীক্ষায় জানানো হয়েছে। এ নিয়ে প্রশ্ন করলে ফিরহাদ বলেন– ‘পশ্চিমবাংলায় কিছুই করতে পারবে না বিজেপি। আট-টা কেন– আধটাও পাবে না বিজেপি। এই ধরনের এক সমীক্ষা ২০১৬ সালে বিরোধী দলে আমাদের বসিয়ে দিয়েছিল! কিন্তু দেখা গেল বিধানসভায় ২১১টি আসন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এলেন। মমতা জনগণের কাছে পৌঁছে প্রচারে ঝড় তুললে সেই ঝড়ে সব উড়ে যাবে। আমরা সব জায়গায় বলছি—প্রার্থী একজনই– তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ এটা দেশ রক্ষার লড়াই। ভারতের সংবিধান রক্ষার লড়াই।
প্রচারে কেমন সাড়া পাচ্ছেন? এই প্রশ্নের উত্তরে ফিরহাদ বললেন, ‘নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। মানুষ দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করছেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস– দিদি যা বলেছেন অর্থাৎ ৪২-এ আমরা ৪২-ই পাব। এই বাংলা মমতাময় ছিল– আছে– থাকবে।’
প্রশ্ন ছিল– বলা হচ্ছে বিজেপি মোটরসাইকেল সহ অন্যান্য জিনিস দিয়ে কর্মীদের আকর্ষণ করে প্রচারে নামাচ্ছে– মানুষকে কাছে টানতে চেষ্টা করছে। এ সম্পর্কে ফিরহাদের সাফ বক্তব্য– বাংলায় টাকা দিয়ে রাজনীতি হয় না। বাংলার মানুষ তাঁদের বিবেককে এভাবে বিক্রি করে না। তাই যেটা অন্য রাজ্যে সম্ভব– সেটা এখানে সম্ভব নয়। আমরা এটা নিয়ে চিন্তিত নই।
শুধু বাংলা নয়– গোটা ভারত এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিজেপি-বিরোধী গণতন্ত্রের রক্ষাকারী একটি মুখ হিসাবে দেখতে চান বলেও এ দিন মন্তব্য করেছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী। তিনি বলেন– ‘মমতার কথা গোটা ভারতের মানুষ শুনতে চান। বিশাখাপত্তনমেও আপনারা তার নমুনা দেখছেন। ভবিষ্যতে ইউনাইটেড ইন্ডিয়া সরকারে মমতা এক প্রধান মুখ হয়ে দাঁড়াবেন। এখানে বাংলায় মেয়েরা কন্যাশ্রী পাচ্ছে। তখন গোটা ভারতের মেয়েরাই কন্যাশ্রী পাবেন। কৃষকদের আর আত্মহত্যার পথে যেতে হবে না। বে-রোজগাররা চাকরি পাবে– মহিলাদের অসম্মান রোখা হবে– ব্যবসা ক্ষেত্রে পুঁজিপতি ও সাধারণ মানুষ সমান সুযোগ পাবেন আর দেশে ভয়মুক্ত পরিবেশ ফিরে আসবে।’

-সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন নজরুল আহমেদ

Show More

Related Articles

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker
WhatsApp us