জেলাপ্রথম পাতা

ভুয়ো সার্টিফিকেট মামলায় বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য-সহ তিন জনের ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

ভুয়ো সার্টিফিকেট দিয়ে অধ্যাপনা ও সেই সার্টিফিকেটে সহি করে প্রত্যয়িত করার দায়ে বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য সহ তিন জনের ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করল বোলপুর অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় আদালত। বুধবার বিকেলে বিচারক অরবিন্দ মিশ্র তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বোলপুর অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় বিচারক অরবিন্দ মিশ্র বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য দিলীপ সিংহ, প্রাক্তন কর্মসচিব দিলীপ মুখোপাধ্যায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ফ্যাকাল্টি মেম্বার মুক্তি দেবকে ভারতীয় দন্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় ৫ বছরের সশ্রম কারবাস এবং ১ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও একমাস হাজত বাসের সাজা শোনায় আদালত। পাশাপাশি, ৪৬৯ ধারায় রুজু করা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হিসেবে অভিযুক্তদের বিশ্বভারতীর সম্মানহানি ঘটনায় ২ বছরের কারাদণ্ড এবং এবং ১ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও একমাস হাজত বাসের সাজা শোনায় আদালত। দুটো সাজা একসাথে চলবে এবং পাশাপাশি অভিযুক্তরা যতদিন জেল খেটেছেন, সেটা মূল সাজা থেকে বাদ যাবে, বলে জানান সি আই ডির স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর নব কুমার ঘোষ।

এদিন সকালে আদালতে তোলা হলে তিনজন অভিযুক্ত তাঁদের নির্দোষ বলে দাবি করেন। রায়দানের পর প্রাক্তন উপাচার্য দিলীপ সিংহ বলেন, আমার আইনজীবীর সাথে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব। অন্যদিকে প্রাক্তন কর্মসচিব দিলীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, আমার আইনজীবী উচ্চতর আদালতে যাবে। দিলীপ সিংহের পক্ষে এদিন আইনজীবী ছিলেন মহঃ মহিউদ্দিন, মুক্তিদেবের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন শ্যামসুন্দর কোনার এবং বিশ্বভারতীর তরফে আইনজীবী ছিলেন সন্দীপ মুখোপাধ্যায়।

বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গেছে, ১৫ বছর আগে ২০০৪সালের মে মাসে বিশ্বভারতী বোলপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে এই অভিযোগে যে মুক্তি দেব গণিতের লেকচারার হিসেবে অধ্যাপনা করেছেন কিন্তু তাঁর শিক্ষাগত প্রামাণ্য নথি জমা না দিয়েই। তদন্ত চালিয়ে পুলিশ মুক্তি দেব এবং দিলীপ সিংহকে ২০০৪ সালের জুন মাসেই গ্রেফতার করে। পুলিশি তদন্তে প্রকাশ হয় যে, মুক্তি দেব শুধুমাত্র উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। কিন্তু ১৯৯৭ সালের জানুয়ারি মাসে ইন্টারভিউ বোর্ডের কাছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নকল এম এস সি পাশ হিসেবে নথি জমা দেন এবং যাতে প্রত্যয়িত করা ছিল উপাচার্য দিলীপ সিংহের। শুধু তাই নয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নকল বি এস সি সার্টিফিকেট এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম ফিলের নকল কাগজ পত্র জমা দেন তিনি। আর এই সমস্ত ভুয়ো শংসাপত্রে দিলীপ সিংহের সহি ছিল এবং দিলীপ সিংহ তখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনারারি রাসবিহারী চেয়ার সম্মানের অধিকারী ছিলেন। ২০০৫ সালের মার্চ মাসে সি আই ডি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৬৯, ৪৭১, ৪৭৪ ধারায় এই তিন জনের বিরুদ্ধে বোলপুর আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

Show More

Related Articles

মন্তব্য করুন

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker
WhatsApp us