Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
Breaking News
Home / জেলা / হিন্দু-মুসলিমের মহামিলনের ক্ষেত্র নানুরের নওদা

হিন্দু-মুসলিমের মহামিলনের ক্ষেত্র নানুরের নওদা


দেবশ্রী মজুমদার, বীরভূম (নানুর),০৫ মার্চ: মাঝে শুধু মাত্র একটি দেওয়াল। এক দিকে পীরের মাজার আর অন্যদিকে বৈষ্ণবের সমাধি। উভয় ধর্ম স্থানের সহবস্থানকে ঘিরে আজও বিভিন্ন উৎসবে মেতে ওঠে বীরভূমের নওদা গ্রাম। বোলপুর থেকে ১৪ কিমি দূরে এই ছোট্ট জনপদ। হিন্দু প্রধান গ্রাম। সাকূল‍্যে তিন হাজার মানুষের বাস। ধর্মীয় ভেদাভেদ থেকে অনেক দূরে এই গ্রামের মানুষ যেন চিরায়ত ছোট্ট ভারতবর্ষ।

১৯ ফাল্গুন থেকে এখানে শুরু হয় হজরত সৈয়দ শাহ রুহ উল্লাহ বন্দেগী পীর সাহেবের মাজারে উরুস উৎসব। এখানে একটি বৈশিষ্ট্য যে কোন উৎসব ও অনুষ্ঠানে মাজার ও ভক্ত বৈষ্ণব যোগী বাবাকে শ্রদ্ধা জানান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ। হিন্দুদের যেকোনো অনুষ্ঠানে আগে মাজারে চাদর চড়ানো হয় তার পর বৈষ্ণব যোগী বাবাকে পুজো করেন। অন‍্যদিকে, একইভাবে মুসলিম সম্প্রদায় আগে বৈষ্ণব আস্তানায় সিন্নি দেন। অভিনবত্ব এখানেই, যখন মাজারে আল কোরআন পাঠ হয়, সেখানে ভক্তিভরে উপস্থিত থাকেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। কিন্তু কেন এমন হয়? বিষয়টি পরিষ্কার করে জানালেন গ্রামের বাসিন্দা বিপদ তারণ হাজরা। তিনি বলেন, আজ থেকে প্রায় ছ’শো বছর আগে এইখানে এক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বা পরধর্মে শ্রদ্ধার নজির তৈরি হয়েছিল যার ধারা আজও যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। বাপঠাকুরদার মুখ থেকে অনেকের শোনা প্রায় ছ’শো বছর আগে এই এলাকা জঙ্গলে ঘেরা ছিল। এখানেই প্রথম আস্তানা গড়েন ভক্ত বৈষ্ণব যোগী বাবা। তার কয়েক মাস পরেই এখানে আসেন হজরত সৈয়দ শাহ রুহ উল্লাহ বন্দেগী পীর সাহেব। তাঁরা দুজনই খুব ভালো বন্ধু হয়ে যান। তাঁদের প্রভাবেই এই এলাকায় বৈষ্ণব ও সুফি সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ে। তাঁদের বন্ধুত্ব এত গাঢ় ছিল যে, তাঁদের মিলিত ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁদের পাশাপাশি কবর বা সমাধি দেওয়া হয়। পীরের বংশধর সফিকুল ইসলাম জানান, মাজারে উরুস উৎসবের আগে আমার বৈষ্ণব বাবাকে শ্রদ্ধা জানাই। রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত সুবল দাস বৈরাগ‍্য সোমবার এই উরুস উৎসবের জন্য এই ধর্মীয় স্থানে আসেন। তাঁর মত অনেকেই আসেন পীরবাবাকে শ্রদ্ধা জানাতে। হিন্দু মুসলিম উভয় সম্প্রদায় পীর বাবার মাজারে চাদর চড়ান। সৈয়দ সফিকুল ইসলাম বলেন, অনেকের কাছে হয়ত এই পরম্পরা মনঃপুত হতে নাও পারে। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, মানবতার কোন ধর্ম হয় না। তাই অনায়াসেই হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ভক্তিভরে কোরআন পাঠ শোনেন। মানবতার এই পথ মানব সভ্যতাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এই অনুষ্ঠানের কোন প্রচার হয় না। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। পাশের কুলে গ্রামের বাসিন্দা সুবল দাস বৈরাগ‍্য একবাক্যে সেই কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, হিন্দু মুসলিম ধনী দরিদ্র এক সাথে পঙত্তি ভোজন সারে। এখানে বেহেশত বা স্বর্গ না থাকলে, আর কোথায় আছে? প্রশ্ন সুবল দাস বৈরাগ‍্যর।

Check Also

প্লাস্টিক মুক্ত ঘোষিত হল পাথর চাপুরীর পবিত্র ঊরুস মোবারক ও মেলা

কৌশিক সালুই বীরভূম ১৯ মার্চঃ-  ফের প্লাস্টিক মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে  পাথর চাপুরীর দাতা বাবা মেহেবুব …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

WhatsApp us