নীরবে পরিবেশকে প্লাস্টিকমুক্ত করে চলেছেন মূক বধির হায়দার সেখ

- আপডেট : ৭ ডিসেম্বর ২০২১, মঙ্গলবার
- / 10
রেবাউল মণ্ডল, করিমপুর: স্বচ্ছ ভারত অভিযান-এর অনেক আগে থেকেই নীরবে স্বচ্ছ এলাকা অভিযান শুরু করেছিলেন নদিয়ার বছর ৩৫-এর মূক ও বধির এক যুবক। নদিয়ার নাজিরপুর হাগনাগাড়ী থেকে নতিডাঙা করিমপুর। প্রায় ২০ কিমি এলাকায় তার অবাধ বিচরণ। সবটাই যেন তার নিজের। সবার ঘুম ভাঙার আগেই সে শুরু করে দেয় রাস্তার দু’পাশ পরিষ্কারের কাজ। চায়ের দোকান থেকে গৃহস্থালি– কিংবা পথচলতি মানুষ, সবার ফেলে দেওয়া ক্যারি– থার্মোকল– প্লাস্টিকের প্রতিই ওর যত ক্ষোভ। দেখতে পেলেই এক জায়গায় জড়ো করে পকেট থেকে গ্যাস লাইট বের করে ধরিয়ে দেয় আগুন। আর এভাবেই বাকশক্তিহীন এই যুবক বিনাস্বার্থে– বিনা পয়সায় প্লাস্টিক দূষণের হাত থেকে পরিবেশকে রক্ষা করে চলেছেন বছরের পর বছর।
করিমপুর-২ ব্লকের থানারপাড়া থানা সংলগ্ন এই নির্বাকের বাড়ি। বাবা নেই– দরিদ্র দিনমজুর দাদার কাছেই মানুষ। ওদের অভাবের সংসারে কেউ খোঁজ রাখে না। নাম তার হায়দার। কিন্তু ‘কালা’ নামেই সবার মুখে মুখে ফেরে হায়দার সেখ।
হায়দারের ভাই গাজলু সেখ বলেন– ‘ছোটবেলা থেকে প্লাস্টিকের প্রতি ওর চরম ঘৃণা। মানুষের ক্ষতি হবে হয়তো এটাই ভেবে দু’হাতে গুছিয়ে ওগুলি পুড়িয়ে দেয়। কথা বলতে পারে না বলে স্কুলেও যাওয়া হয়নি ওর। বাড়িতেও খুব একটা থাকে না’। নাজিরপুর– হাগনাগাড়ী– থানারপাড়া– গমাখালী– নতিডাঙার মানুষরা বলছেন– আমরা সবাই যখন নিশ্চিন্তে ঘুমাই। আমাদের ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকগুলি ওকে ঘুমোতে দেয় না। বিনিময়ে কারও কাছ পয়সা নেয় না। যে-যা দেয় তাই খায়– ওই তো সমাজ ও দেশের প্রকৃত সেবক।
গমাখালি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক সাহাবুদ্দিন মণ্ডল বলছিলেন– ‘ ও কোনও স্কুলে পড়ে পরিবেশ সচেতনতার পাঠ নেয়নি– অথচ পরিবেশ নিয়ে যথেষ্ট সজাগ। আমরা চাই ওর খাওয়া-পরার ন্যূনতম প্রয়োজন মিটিয়ে ওকে সমাজ সেবার কাজে সঠিকভাবে নিয়োগের ব্যবস্থা করুক প্রশাসন।’
পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের করিমপুর বিজ্ঞান কেন্দ্রের সম্পাদক সমিত দত্ত বলেন– ‘হায়দার বধির হলেও হয়তো পরিবেশের কান্না শুনতে পায়। ওর প্লাস্টিক পুড়িয়ে ফেলার মাধ্যমে মৃত্তিকা দূষণের হাত থেকে কিছুটা হলেও পরিবেশ বেঁচে যাচ্ছে।’