জেলা

রাজ্য সরকার ও কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতায় দৃষ্টিহীন ছাত্রী পরীক্ষায় বসল

দেবশ্রী মজুমদার, বীরভূম, ১২ ফেব্রুয়ারি: অভাবনীয়! অভূতপূর্ব! বললেও কম বলা হয়। বেলুটি এম কে এম গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী। ফার্স্ট জেনারেশন লার্নার নীলা সাহা এবার মাধ্যমিকের ছাত্রী। তাই বোধহয় রাইটার পেতে গেলে যে দুমাস আগে পর্ষদের অনুমতির জন্য আবেদন করতে হয় জানা ছিল না এই অন্ধ ছাত্রীটির। অন্ধ হওয়ায় এমনিতেই তার একজন রাইটার পাওয়ার কথা। তার পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল নানুর টি কে এম গার্লস হাইস্কুলে। পরীক্ষা কেন্দ্রে পোঁছে সে জানতে পারে তার এবার পরীক্ষা দেওয়া হবে না। কারণ তার না আছে রাইটার নেওয়ার জন্য বোর্ডের অনুমতিপত্র বা কোনো রাইটার।

এমন অবস্থায় খুজুটি পাড়া গার্লস হাইস্কুলের শিক্ষিকা তথা ভেনু এডিশনাল সুপারভাইজার সঞ্চিতা মণ্ডলের নজরে আসে বিষয়টি। তিনি জেলা শিক্ষা কনভেনার প্রলয় নায়েকের নজরে আনেন বিষয়টি। প্রলয় নায়েক বিষয়টি জেনে, এস আর ডি এ চেয়ারম্যান অনুব্রত মণ্ডলকে জানান। অনুব্রত মণ্ডল তড়িঘড়ি বিষয়টি শিক্ষা দফতরের নজরে আনেন। প্রলয় নায়েক পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাথে কথা বলেন। তখন প্রলয়বাবু মহম্মদ বাজারের ডেউচার একটি স্কুলে ভিজিট করছিলেন। সেখান থেকেই নানুর টি কে এম গার্লস হাইস্কুলে একটি মেল করে ওই দৃষ্টিহীন পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেন। শুধু তাই নয়, তৃণমূল পরিচালিত সংগঠনের শিক্ষকদের কাজে লাগিয়ে বেলুটি এম কে এম গার্লস হাইস্কুলের ক্লাস নাইনের ছাত্রী বেবী মণ্ডলকে রাইটার হিসেবে পরীক্ষাকেন্দ্রে আনার ব্যবস্থা করা হয়। গোটা ব্যবস্থাটা হয় অত্যন্ত দ্রুততার সাথে। যা অভাবনীয় বললেও কম বলা হয়। এমনিতেই ৪৫ মিনিট সময় নষ্ট হয় রাইটার নিয়ে লিখলে। সেই অতিরিক্ত সময় পরীক্ষার্থীকে দেওয়া হয়। স্বল্পভাষী নীলা সাহা খুব খুশি। পরীক্ষার শেষে ওই দৃষ্টিহীন পরীক্ষার্থীকে পাশে বসিয়ে তৃপ্তির হাসি ফুটে ওঠে প্রলয় নায়েকের মুখে।

তিনি জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষ আবেদন করেনি। সেটা একটা গাফিলতি ছিল। আবার অভিভাবকের তরফেও ত্রুটি ছিল। বাচ্চা মেয়েটির কোনো দোষ নেই। ও ভেবেছিল, এতদিন স্কুলে যেভাবে পরীক্ষা দিয়ে এসেছে, হয়তো সেভাবেই পরীক্ষা দেবে। যা হোক ভুল যার তরফেই হোক। দিনের শেষে আমাদের সকলের আশা পূরণ হয়েছে। যার পুরো কৃতিত্ব অনুব্রত মণ্ডল এবং আমাদের সরকারের দায়িত্বশীলতা, মানবিকতা এবং তৎপরতার। ছাত্রীটি জানত না, বোর্ডের কাছে দুমাস আগে আবেদন করতে হয়। তারপর আবেদন মঞ্জুর হয়। বিষয়টি নজরে আসে ভেন্যু এডিশনাল সুপারভাইজার সঞ্চিতা মণ্ডলের। তিনি বিষয়টি জানানোর পর এস আর ডি এর চেয়ারম্যান শিক্ষাদপ্তরে যোগাযোগ করা হয়। আজকের পরীক্ষায় বসার জন্য অনুমতি পাওয়ার পর, আজকেই ফর্ম ফিল অাপ করে আবেদন করা হয় বোর্ডে। আজই তার মঞ্জুরী মিলেছে।

Show More

Related Articles

মন্তব্য করুন

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker
WhatsApp us