আন্তর্জাতিকপ্রথম পাতা

বুতেফ্লিকার শাসন শেষ,কী হবে আলজেরিয়ার? পড়ুন মাসুম খলিলীর কলাম

আলজেরিয়া উত্তর আফ্রিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। ১৯৬২ সালে আলজেরিয়া ফ্রান্সের দখলদারি থেকে মুক্তি পায়। প্রায় ১০ লক্ষ ফরাসি নাগরিক আলজেরিয়া থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। তার কিছুদিন পর থেকে আলজেরিয়া এক ধরনের স্বৈরাচারী শাসনের সম্মুখীন হয়। ১৯৯১ সালে পার্লামেন্টের যে নির্বাচন হয় তাতে ইসলামিক সেলভেশন ফ্রন্ট বিজয়ী হয়। কিন্তু ইসলামপন্থীদের বিজয় পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলি– বিশেষ করে ফ্রান্সের অপছন্দনীয় ছিল। ফলে সামরিকবাহিনী বিজয়ী ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো শুরু করে। এরপর ১৯৯৯ সালে প্রেসিডেন্ট আবদেল আজিজ বুতেফ্লিকা সেনার সমর্থনে বিজয়ী হন। তারপর থেকে লাগাতার তাঁর স্বৈরশাসনই চলছিল। এবার জনগণের আন্দোলনের ফলে তাঁকে ইস্তফা দিতে হয়েছে। এখন সেনাবাহিনী-কবলিত আলজেরিয়া কোন পথে যাবে— সেটাই হচ্ছে প্রশ্ন।বিশ্লেষণে মাসুম খলিলী

 

 

আলজেরিয়ার রাষ্ট্রপতি আবদেল আজিজ বুতেফ্লিকার দুই দশকের শাসনের অবসান ঘটেছে। রাজপথের শক্তিমত্তার ব্যাপারে নতুন পর্যায়ে যে আরব বসন্ত শুরু হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে তার প্রথম সাফল্য এটি। দশকের গোড়ার দিকে আরব বসন্তের একই ধরনের গণবিক্ষোভে মিসর লিবিয়া এবং ইয়েমেনে যে পরিবর্তন এসেছে তার পরিণতি সেসব দেশের জন্য মোটেই সুখকর হয়নি। সিরিয়ার আরব বসন্তের পরিণাম সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। এখন প্রশ্ন হলো আলজেরিয়ায় বুটেফ্লিকার পতনের পর কি হবে?
আলজেরিয়ার রাষ্ট্রপতি আবদেল আজিজ বুটেফ্লিকা গত মঙ্গলবার রাতে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, তার রাজনৈতিক আকাক্সক্ষার বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভের কয়েক সপ্তাহ পর তাঁর দুই দশকের শাসনের অবসানের প্রথম খবরটি দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা। আর সর্বশেষ খবর অনুসারে আলজেরিয়া গোয়েন্দা প্রধান, অথেন্ত তরতগকে তার পদ থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল তরতগ গত বৃহস্পতিবার গণ বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি আবদেল আজিজ বুটেফ্লিকার অতি ঘনিষ্ট সহযোগী ছিলেন।

বুটেফ্লিকার প্রস্থানের পর গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবিতে রাস্তার ব্যাপক বিক্ষোভকে নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রচেষ্টায় আলজেরিয়ার সামরিক বাহিনী সাবধানে প্রশাসন পরিচালনা করছে। তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আলজেরিয়ার ক্ষমতা এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে রয়েছে। কিন্তু মূল ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ যে সামরিক বাহিনীর হাতে তাতে সংশয়ের অবকাশ কমই রয়েছে।

বুটেফ্লিকার পদত্যাগের ঘোষণা যে কোন সময় আসতে পারে এটি আগে থেকেই প্রত্যাশা করা হচ্ছিল। আর বাস্তবে সেটি আসার পর সে রাতেই রাজধানী আলজেরিয়ার্সের স্কোয়ারগুলোতে জনতার উল্লাস শুরু হয়। অনেকে আলজেরীয় পতাকা উড়াতে থাকে অথবা নিজেদের তার মধ্যে আবৃত করে রাখে। অন্যরা গাড়ির হর্ণ বাজিয়ে উৎসব করে এবং রাস্তায় নেচে গেয়ে বুটেফ্লিকার পতন উদযাপন করে।
এই দফায় রাজপথের আন্দোলনে বুটেফ্লিকার পতন ঘটলেও একসময় মিশর, তিউনিশিয়া, লিবিয়া এবং ইয়েমেনের সাথে যোগদানকারী উত্তর আফ্রিকান এই দেশটিতে ব্যাপক ক্ষোভ বিক্ষেভের পরও স্বৈরশাসনই বহাল তবিয়তে থেকে যায়। ফলে চূড়ান্ত বিদায়ের আগ পর্যন্ত বুটেফ্লিকার কি হবে তা নিয়ে সন্দেহ সংশয় যাচ্ছিল না।

২০১৩ সালে স্ট্রোকের পর থেকে অসুস্থ বুটেফ্লিকাকে হুইলচেয়ারে চলতে হচ্ছিল। ৮২ বছর বয়সি প্রেসিডেন্টকে খুব কমই জনসমক্ষে দেখা যেত। কিন্তু এর পরও তিনি আরো ৫ বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট হতে চেয়েছিলেন।

তার এই চাওয়ার বিরুদ্ধে গত ছয় সপ্তাহের বড় বিক্ষোভের সময় বুটেফ্লিকা দেখেন যে বেশিরভাগ শক্তিশালী নেতা ও ব্যক্তিবর্গ তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। তার পদত্যাগের কয়েক ঘন্টা আগে, দেশের সেনাপ্রধান অবিলম্বে বুটেফ্লিকার প্রতি রাষ্ট্রপতির অফিস ছেড়ে চলে যাওয়ার দাবি জানিয়ে এক বিবৃতি দেন। বুটেফ্লিকাকে পদত্যাগের এই আহ্বান জানানোর একদিন পর ঘোষণা দেয়া হয় যে, রাষ্ট্রপতির পদ থেকে তিনি ২৮ এপ্রিলের আগেই পদত্যাগ করবেন। সেই সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয় যে, বুটেফ্লিকা এমন পদক্ষেপ নেবেন যাতে অন্তবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের কাজ অব্যাহত রাখতে পারেন।
এই বক্তব্যটির পর বেশিরভাগ আলজেরীয়র মধ্যে এই উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে যে বুটেফ্লিকা সম্ভবত তার একজন বশংবদ উত্তরাধিকারীকে ক্ষমতায় বসিয়ে যেতে চাইছেন। আর এর মধ্য দিয়ে দৃশ্যের পিছনে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় তার ঘনিষ্ট চক্রই দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকবেন। এর পর মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা আবার বিক্ষোভে রাস্তায় নেমে পড়ে।

আলজেরিয়ার শক্তিশালী সামরিক প্রতিষ্ঠানেও উদ্বেগ ছিল। মঙ্গলবার উপ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও সেনা প্রধান জেনারেল আহমেদ গায়দ সালাহ জাতীয় প্রতিরক্ষা ও শীর্ষ কমান্ডারদের সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি বুটেফ্লিকাকে অযোগ্য ঘোষণা করে অফিস থেকে অপসারণের জন্য সংবিধানের অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করার প্রস্তাব দেন।

সালাহ বলেন, “আমাদের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট এবং অপ্রতিরোধ্য, বুটেফ্লিকাকে রাষ্ট্রপতির অফিস অবিলম্বে খালি করে দিতে হবে। আমরা জনগণের দাবি পুরোপুরি বাস্তবায়ন এবং তারা সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত জনগণকে সমর্থন করব।”

সালাহ আরও বলেন, “আর সময় নষ্ট করার প্রয়োজন নেই এবং বুটেফ্লিকাকে বিদায় করার সাংবিধানিক ব্যবস্থা অবিলম্বে গ্রহণ করা উচিত।” এই মন্তব্যের পর প্রেসিডেন্ট পদত্যাগের চাপ অতিশয় তীব্র হয়ে উঠে। মঙ্গলবারই বুটেফ্লিকা রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বিদায়ের সিদ্ধান্ত সাংবিধানিক কাউন্সিলকে অবহিত করেন।

আলজেরিয়ায় দীর্ঘতম সময়ের রাষ্ট্রপতি বুটেফ্লিকা ১৯৯৯ সাল থেকে দেশটি শাসন করে আসছিলেন। তিনি ফ্রান্স থেকে আলজেরিয়ার স্বাধীনতা লাভের যুদ্ধের একজন সৈনিক ছিলেন। ক্ষমতায় থাকাকালে তার সাথে সহকর্মী স্বাধীনতা যুদ্ধবীর ছাড়াও ব্যবসায়িক টাইকুন, সামরিক কমান্ডার এবং প্রভাবশালী উপজাতীয় সদস্যরা ছিলেন। তারা একসঙ্গে দেশটির ক্ষমতার বলয় হিসাবে পরিচিত ছিল।

বুটেফ্লিকা আলজেরিয়ার দশকব্যাপি ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধের সমাপ্তি টেনে শান্তি আনার দিকে নজর দেন, যার ফলে তিনি জনগণের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। এই গৃহযুদ্ধে প্রায় ২লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল। তবে তিনি ক্ষমতায় থাকাকালে সরকারী দুর্নীতি বৃদ্ধি পায় এবং আলজেরিয়ার অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ে। আর প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর নির্ভরশীল দেশ জ্বালানির কম বৈশ্বিক মূল্যের কারণেও ভুগতে থাকে। এসব কারণে তার শাসনের জন সমর্থনের ভিত অব্যাহতভাবে দুর্বল হতে থাকে।
বুটেফ্লিকার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ আগেও ঘটেছে, কিন্তু নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বাহিনী সেসব কঠোর হাতে দমন করেছে। কিন্তু পঞ্চম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট প্রার্থি হবার ব্যাপারে বুটেফ্লিকার সিদ্ধান্তের পর ফেব্রুয়ারিতে যখন হাজার হাজার আলজেরীয় রাস্তায় অবস্থান নিয়ে তার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে তখনও স্বল্প সংখ্যক মানুষের বিশ্বাস ছিল শেষ পর্যন্ত এই ক্ষমতাধর পঙ্গু বুড়োর পতন ঘটবে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত, নিরাপত্তা বাহিনী, বিক্ষোভকারীদের টিয়ার গ্যাসের সেল চালিয়ে ছত্রভঙ্গ করলেও তা বেপরোয়া দমন অভিযানে রূপ নেয়নি। আর বুটেফ্লিকা প্রাথমিকভাবে এই মাসে নির্ধারিত নির্বাচন স্থগিত করেন এবং রাজনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালান। আর আগের মতো তিনি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের অঙ্গীকারও করেন। কিন্তু আলজেরিয়ার লোকজন তার প্রতি আস্থা আনার পরিবর্তে আরো ব্যাপকভাবে রাস্তায় নেমে ঘোষণা করে যে বুটেফ্লিকা তার ক্ষমতার চতুর্থ মেয়াদকেই প্রসারিত করার চেষ্টা করছেন। তারা তার অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন।

এরপরে, বিচারপতি, ব্যবসায়ী এবং আইন প্রণেতাসহ বুটেফ্লিকার প্রভাবশালী সহযোগীরা বিক্ষোভকারীদের সাথে যোগ দেন। কিন্তু সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ পক্ষটি গত সপ্তাহে এসেছিল, যখন সামরিক বাহিনী প্রধান সালাহ প্রথমবারের মত বুটেফ্লিকাকে অফিসের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করেন। এটি এখন পরিষ্কার যে বুটেফ্লিকার প্রধান সমর্থকরা দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক সংকট সমাধানের জন্য তাঁর প্রস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।

সপ্তাহান্তে বুটেফ্লিকা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদগুলিতে বড় পরিবর্তন আনার ঘোষণা দেয় এবং দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত কয়েকজন নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয় অথবা তাদের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। কিন্তু রাস্তায় উত্তেজনা ঠেকানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে অনেকেই এটিকে দেখেছেন।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো সেনা প্রধান সালাহ তার অবস্থান সুসংহত করেছেন, এটি ক্ষমতার উপর তার কর্তৃত্ব¡ বজায় রাখার একটি ইঙ্গিত বলে মনে করা হয় । মঙ্গলবার তিনি জোরালো বক্তব্য আবার দেন আর এতে শেষ পর্যন্ত বুটেফ্লিকার শাসনের অবসান ঘটে।

দেশের সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের উচ্চকক্ষের প্রধান আব্দেল কাদের বেনসালাহ, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তিন মাস অন্তবর্তী নেতা হবেন। এখন দেখা হবে যে, বিক্ষোভকারীরা এর কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়। অনেকেই বলেছেন যে, তারা কেবল বুটেফ্লিকার অপসারণেই সন্তুষ্ট নয় বরং তার পেছনে থাকা শক্তিশালী চক্রের ক্ষমতারও বিদায় চাইছেন। বেনসেলাহকে ব্যাপকভাবে বুটেফ্লিকার সহযোগী হিসাবে দেখা হয়।
বিক্ষোভকারীরা এর মধ্যে অন্তবর্তী সময়ে সংবিধানে বর্ণিত পদ্ধতির অধীনে সরকারের প্রতিস্থাপনের বিরোধিতা করেছে, এর পরিবর্তে একটি সম্পূর্ণ “গণতান্ত্রিক রূপান্তর” দাবি করছে তারা। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার এক টুইটে দুটি বার্তা দেয়া হয়: প্রথমটি হলো: “আলজেরীয়দের জীবনের ভবিষ্যতের দিনগুলির প্রথম দিন আজ।” আর দ্বিতীয়টি হলো: “সিস্টেমটি হলো পরবর্তী লক্ষ।”

ইউরোপীয় কাউন্সিলের সাথে উত্তর আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য প্রাচ্যের সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ আন্ডার লেবুভিচ বলেন, “বুটেফ্লিকার পদত্যাগে তাৎপর্যপূর্ণভাবে দেখা যায় যে, কিভাবে তার পূর্ববর্তী সহযোগী ও সরকারের স্তম্ভগুলি তাকে পরিত্যাগ করেছে। কিন্তু এটি কেবল এক অনিশ্চিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সূচনা।” তিনি উল্লেখ করেন, “আমি মনে করি বুটেফ্লিকা চলে যাবার পর বিক্ষোভকারীরা এখন বৃহত্তর পরিবর্তনের দাবি করবে, কিন্তু আমরা এখনও জানি না এটি কী ধরনের অবয়ব শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করবে।”

আলজেরিয়ার ঘটনাকে সাদামাটাভাবে দেখলে মনে হবে এটি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রাস্তার শক্তি তথা জনগণের বিজয়। প্রকৃত সত্য সেটি পুরোপুরি নাও হতে পারে। মিসরেও একইভাবে প্রায় তিন দশক ক্ষমতায় থাকা স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতন ঘটেছিল। কিন্তু গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাফল্যের পথ ধরে এক বছরও নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। এর পর মোবারকের চেয়ে কঠিন স্বৈরাচার হিসাবে আবদেল ফাত্তাহ সিসির আবির্র্ভাব ঘটে। ২০৩৮ সাল পর্যন্ত এই লোক ক্ষমতায় থাকার জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

আলজেরিয়ায়ও যে বুটেফ্লিকার পর সালাহের মতো কোন জেনারেল সিসি হিসাবে আবির্ভুত হবেন না তার গ্যারান্টি কোথায়? মিশরের সেনাবাহিনীর জেনারেলরা পূত্র গামাল মোবারককে হোসনি মোবারকের উত্তরাধিকারি হিসাবে মেনে নিতে পারেননি বলে তার বিরুদ্ধে গণবিক্ষেভের সময় তারা কঠোরভাবে দমনের পথে যায়নি। অথচ সিসির ক্ষমতা নিষ্কন্টক করার জন্য তারা মিসরের ইতিহাসে রেকর্ড রক্তক্ষয় করেছে। সেই ধারা এখনো অব্যাহত রাখা হয়েছে।

আলজেরিয়ায় উচ্চাবিলাসি কোন জেনারেল আবারো বুটেফ্লিকার ক্ষমতায় থাকার বাসনাকে মেনে নিতে পারেননি বলেই হয়তো তার বিরুদ্ধে রাজপথের আন্দোলন দমনে কটোরতা দেখায়নি। কিন্তু এরপর কি হবে সেটি বলা কঠিন। ৮০’র দশকের শেষে আলজেরিয়ার বহুদলীয় নির্বাচনে ইসলামিক স্যালভেশন ফ্্রন্ট জয়ী হবার পর সেনা বাহিনীর জেনারেলরাই সেই নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে এক রক্তক্ষয়ী দমনাভিযান পরিচালনা করে। এক দশকব্যাপি সেই দমনাভিযানে ২ লাখ লোকের মৃত্যু হয়। এই কারণে আলজেরিয়ার ব্যাপারে বেশি আশাবাদি হবার আগে এসব ইতিহাস সামনে রাখতে হবে।

এখন অনেক বিশ্লেষকই বলছেন, আরব জাগরণের পেছনে স্বতস্ফুর্ততা যতটা ছিল তার চেয়ে বেশি ছিল মধ্যপ্রাচ্যে রক্তপাত ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে ইসরাইলের কর্তৃত্ব সংহত করার গোপন একটি পরিকল্পনা। জেরুসালেম আর গোলান হাইটসে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় তারই স্বীকৃতি মিলে। সেই ধরনের কোন পরিকল্পনা নতুন জাগরণের পেছনে সুপ্ত রয়েছে কিনা সেটিই এখন উদ্বেগ ও ভাবনার বিষয়।

Show More

Related Articles

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker
WhatsApp us