দেশ

ইভিএমে ব্যাপক বিভ্রাট, প্রথম দফার ভোটে বিক্ষিপ্ত অশান্তি

ইভিএম মেশিনে চরম বিভ্রাট আর রক্তপাতের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হল সপ্তদশ লোকসভা ভোটের প্রথম দফার নির্বাচন। দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলসহ ২০টি রাজ্যের ৯১টি লোকসভা কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার ভোটদানকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘর্ষে দু’জনের মৃতু্য ও বহু আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইভিএম মেশিনের চরম বিভ্রাটের ফলে কয়েকটি রাজ্যে ব্যাপক গন্ডগোল হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল অন্ধ্রপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশ। এছাড়া এ রাজ্যেও কয়েকটি বুথে ইভিএম বিভ্রাটের অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীও। কোচবিহারের একটি কেন্দ্রে ইভিএম মেশিন ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। এর ফলে ভোটপ্রদান পর্ব বিলম্বিত হয়। ইভিএমে কারচুরি অভিযোগ উঠেছে অন্ধ্রপ্রদেশ – উত্তরপ্রদেশ ও কাশ্মীরেও।
তবে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে– ৯১ টি লোকসভা কেন্দ্রে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত ৫৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে– বিহারে ৫০.২৬ শতাংশ– তেলেঙ্গানায় ৬০.৫৭ শতাংশ– মেঘালয়ে ৬২ শতাংশ– উত্তরপ্রদেশে ৫৯.৭৭ শতাংশ– মণিপুরে ৭৮.২ শতাংশ– লাক্ষাদ্বীপে ৬৫.৯ শতাংশ– অসমে ৬৮ শতাংশ ও পশ্চিমবঙ্গে … … ভোট পড়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশে চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিপি ও ওয়াইএসআর রেড্ডির দলের মধ্যে সংঘর্ষে দুজনের মৃতু্য হয়েছে। অন্যদিকে কোচবিহারে বিজেপির আক্রমণে তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চলপ্রধানের মাথা ফেটেছে। মহারাষ্ট্রে একটি বুথের কাছে মাওবাদীরা আইইডি বিস্ফোরণ ঘটালেও কোনও মৃত্যু হয়নি।
প্রথম দফার নির্বাচনে ৯১টি লোকসভা কেন্দ্রের ১৪ কোটিরও বেশি ভোটার ভাগ্য নির্ধারণ করবেন ১২৭৯জন প্রার্থীর। তবে প্রথম দফার নির্বাচনে যে কটি রাজ্যের দিকে সকলের নজর তার মধ্যে অন্যতম হল উত্তরপ্রদেশ– পশ্চিমবঙ্গ– অন্ধ্রপ্রদেশ– বিহার ও মহারাষ্ট্র।
উত্তরপ্রদেশের বহু বুথে রিগিং করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। কাইরানা লোকসভা কেন্দ্রের একটি বুথে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে বিএসএফকে শূন্যে গুলি চালাতে হয়। অরুণাচলের তালি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট চলাকালীন দুটি রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জেলা নির্বাচন আধিকারিক সন্তোষ কুমার রাই জানিয়েছেন– পিপসোরাঙ্গ বুথের বাইরে এই সংঘর্ষ ঘটায় কয়েকজন আহত হয়। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তবে– উত্তরপ্রদেশের একটি বুথে পোলিং অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে এক দলিত মহিলা তার ভোট বহুজন সমাজপার্টিকে দিতে বললেও বিজেপিকে দিয়েছেন। ভিভিপ্যাটে যে স্লিপ বেরিয়েছে তাতে বিজেপির পদ্মফুল প্রতীক দেখে লাউটি মেঙ্ক গ্রামের বুথের ওই দলিত মহিলা অভিযোগ জানিয়েছেন। আর অন্ধ্রপ্রদেশে প্রায় ৩০ শতাংশ বুথে ইভিএম মেশিন বিভ্রাটের অভিযোগ ওঠায় সেখানে প্রায় ১৫০টি বুথে পুননির্বাচনের দাবি তুলেছেন তেলুগু দেশম পার্টির নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু। এছাড়া কংগ্রেসের তরফ থেকে ইভিএম নিয়ে ৩৯টি অভিযোগ জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। কাশ্মীরের দুটি লোকসভা কেন্দ্রে ইভিএম মেশিনের কংগ্রেস বাটন কোনও কাজ না করার অভিযোগ তুলেছেন ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহ। জম্মুতে এক বিএসএফ কর্মী বিজেপিকে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দিলে বিক্ষোভ হয়। পরে সরিয়ে দেওয়া হয় বিএসএফ কর্মীকে।
প্রথম দফায় উত্তরপ্রদেশের যে ৮টি লোকসভা কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার ভোট হয়েছে তার মধ্যে উল্লে্যূযোগ্য কল কাইরানা। অন্য সাতটি লোকসভা কেন্দ্র হল– সাহারানপুর– মুজাফাফরনগর– বিজনৌর– মিরাট– বাগপত– গাজিয়াবাদ ও গৌতমবুদ্ধ নগর। মাস কযেক আগে কাইরানা লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপি দলে প্রার্থী পরাজিত হয়েছিলেন বিরোধী জোটের প্রার্থী তাবাসসুম হোসেনের কাছে। তিনি এবারও লড়ছেন বিএসপি-সপা জোটের প্রার্থী হিসেবে। তাই এবার যোগী আদিত্যনাথের কাছে চ্যালেঞ্জ কাইরানা পুনরুদ্ধার নিয়ে। এনিয়ে সকাল থেকেই উত্তেজনা ছিল কাইরানা কেন্দ্র নিয়ে। বিশেষ করে এই কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে শামলি। শামলিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় বহু মুসলিমের হত্যা প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছিল যোগী সরকারকে। সেই শামলিতে বিনা পরিচয়পত্রে ভোট দিতে গেলে আপত্তি ওঠে। আঙুল ওঠে বিজেপির দিকে। জানা গেছে– ২৫ থেকে ৩০জন ব্যাক্তি কোনও পরিচয়পত্র ছাড়াই শামলির বুথে ভোট দিতে ঢোকে। এতে আপত্তি জানালেও তারা বুথের বাইরে আসতে অস্বীকার করে। সেসময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিএসএফের জওয়ানরা শূন্যে গুলি চালাতে বাধ্য হয়। পুলিশও জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠি চালায়। যদিও কেউ মারা যায়নি। এ ব্যাপারে শামলির জেলাশাসক সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন– কিছু মানুষ ভোটার কার্ড ছাড়াই বুথে ঢুকে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তজনিত কারণে বিএসএফ শূন্যে গুলি চালায়। সেূানে ভোট গ্রহণ স্থগিত রাূা হয়েছে। তবে– মাও অধ্যুষিত ছত্তিশগড়ের বস্তার এলাকায় মানুষ প্রায় নির্ভয়ে ভোট দিয়েছে।
প্রথম দফার ভোটে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট রাজনীতিকের ভাগ্য নির্ধারণ হবে তার মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন বিরোধী দলের নেতা। মুজফফরনগর থেকে েভাটে লড়ছেন আরএলডির প্রধান অজিত সিং। বাঘপত কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সত্যপাল সিংয়ের বিরুদ্ধে লড়ছেন অজিত সিংয়ের ছেলে। এই দু’জনের বিরুদ্ধে কংগ্রেস কোনও প্রার্থী দেয়নি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামবিলাস পাসোয়ানের ছেলে চিরাগ পাসোয়ান বিহার থেকে লড়ছেন। অসমে কিরেণ রিজিজুর পাশাপাশি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের ছেলে গৌরব গগৈও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রথম দফার ভোটে।

Show More

Related Articles

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker
WhatsApp us