দেশপ্রথম পাতাব্রেকিং নিউস

১৪ এপ্রিলকে ভারতের বিজয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হোক, দাবি তুললেন জাহিরুল হাসান

মণিপুরে আজাদ হিন্দ ফৌজের পতাকা উত্তোলন বার্ষিকী

গোলাম রাশিদ


১৯৪৪ -এর ১৪ এপ্রিল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজ কর্নেল শওকাত আলি মালিকের নেতৃত্বে ব্রিটিশদের পরাজিত করে মণিপুরের মৈরাং-এ পতাকা উত্তোলন করে। দেশের মূল ভূখণ্ডে সেটাই ভারতীয়দের প্রথম বিজয়। সেই ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৪ এপ্রিল দিনটিকে ভারতের বিজয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হোক, এমনই দাবি তুললেন বিশিষ্ট গবেষক ও সাহিত্যের ইয়ারবুকের প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক জাহিরুল হাসান। রবিবার পার্ক সার্কাসের আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাকক্ষে এই দিনটি উদযাপন করতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে দৈনিক পুবের কলম ও ‘একটি কুসুম ’। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাহিরুল হাসান জানান, বংলাদেশের বিজয় দিবস আছে(১৬ ডিসেম্বর), আমাদের সাধারণতন্ত্র দিবস ও স্বাধীনতা দিবস আছে। কিন্তু কোনও বিজয় দিবস নেই। কেন নেই? আমরা বিনা রক্তপাতে স্বাধীনতা পেয়েছি বলেই কি? তিনি বলেন, আমাদের স্বাধীনতা পেতেও রক্ত ঝরেছে। আজাদ হিন্দ ফৌজের সংগ্রাম তারই উদাহরণ। তাই আমাদেরও একটি বিজয় দিবস থাকা দরকার।

তিনি বত্তৃ«তায় আরও বলেন, অভিযোগ করা হয়, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নাকি মুসলিমদের কোনও অবদান নেই। তাহলে আজাদ হিন্দ ফৌজে এত মুসলমান কোথা থেকে এল? আবিদ হাসান ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া ছেড়ে দিয়ে বার্লিনে নেতাজির সঙ্গে যোগ ফৌজে দিয়েছিলেন। জার্মানি থেকে সাবমেরিনে করে জাপান যাওয়ার সময়ে নেতাজির সঙ্গী ছিলেন তিনিই। হাবিবুর রহমান শেষ সময় পর্যন্ত নেতাজির সঙ্গী হিসেবে বহুল পরিচিত। আজাদ হিন্দ ফৌজের তিনটি শধই উর্দু। নেতাজি যখন দেশ ছেড়ে যাচ্ছেন –ত খন তাঁর ছদ্মনাম ছিল ‘জিয়াউদ্দিন’। নেতাজির মুসলিম-যোগের এইসব উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসবের আড়ালে নেতাজি কি কোনও শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন না? নেতাজির ফৌজের পক্ষ থেকে যে তেরঙ্গা মৈরাং-এ উত্তোলন করা হয়েছিল– তার মাঝে ছিল বাঘের প্রতিকৃতি। সেই বাঘ টিপু সুলতানের তৈরি করা ‘অটোমেটেড বাঘ’-এর ছবি।

জাহিরুল হাসান মন্তব্য করেন, আমাদের দেশে গভীর ভাবে নেতাজি চর্চা হয়নি। সুভাষ বলেছিলেন, সাংস্কূতিক ঘনিষ্ঠতা না হলে সম্প্রীতি গড়ে উঠবে না। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেটাই বেশি প্রয়োজন।
নেতাজির সংগ্রাম ও আজাদ হিন্দ ফৌজের এই আত্মত্যাগের মর্যাদা দিতে তিনি ১৪ এপ্রিলকে বিজয় দিবস হিসেবে পালন করার আহবান জানান উপস্থিত সকলকে– ‘আপনারা বাড়িতে পালন করুন দিনটি– বন্ধু-বান্ধবদের পালন করতে বলুন।’ সরকারকে এ ব্যাপারে প্রস্তাব পাঠানোর কথাও তিনি বলেন। তিনি বলেন, আজকের দিনটি এত গুরুত্বপূর্ণ। তবুই দেশের কোথাও উদযাপন হচ্ছে না। এটা যেমন দুঃখের বিষয়– তেমনই পুবের কলমের পক্ষ থেকে কলকাতায় এটি পালিত হচ্ছে, সেটা বড় শ্লাঘারও বিষয়।

Show More

Related Articles

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker
WhatsApp us