ভাবার পরমাণু বিজ্ঞানী শিকড়ের টানে বারুইপুরে

0
291

সাকিল আহমেদ, বারুইপুর
জীবন এক খোঁজ। জীবন ও জীবিকার সন্ধানে মানুষ মঙ্গল গ্রহেও পাড়ি দেন। কিন্তু মনটা পড়ে থাকে যেখানে জন্মভূমির শিকড়– মা-মাটি-মানুষের টান পড়ে থাকে। না হলে ভাবার পরমাণু বিজ্ঞানী শত ব্যস্ততার ফাঁকে কেন ছুটে আসেন সুদূর চেন্নাই থেকে দক্ষিণবঙ্গের ফলের শহর বারুইপুরে। আর এই বারুইপুর হাইস্কুলে গ্রামের আলপথ দিয়ে হেঁটে সূর্যপুর গ্রামের অপু-দুর্গার মতো রেল লাইন আর ধানক্ষেত তাল-পিয়ালের গাছ ভেদ করে স্কুলে আসা। তারপর জীবন এক খোঁজ। জীবিকার সন্ধানী মানুষ রাজাবাজার সায়েন্স কলেজের রসায়ন অনার্সের ছাত্র কাজী সারিফুর রহমান বিটেক করে এমটেকের প্রস্তুতি নিতে মুম্বই পাড়ি দেন। ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারে চাকরির জন্যে মামুলি একটা দরখাস্ত করেন। সেটা জানতেন সহপাঠী বন্ধু এমদাদউদ্দিন। একদিন কলকাতার কারমাইকেল হস্টেলের ঠিকানায় ইন্টারভিউয়ের চিঠি আসে। বন্ধু এমদাদউদ্দিন সেই চিঠি পেয়ে বাড়িতে খবর পাঠান। খবর পান কাজী সারিফুর রহমান। একদিকে এমটেক করার তীব্র বাসনা– অন্যদিকে পরমাণু বিজ্ঞানী হয়ে এ পি জে আবদুল কালামের মতো জীবনকে এই নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের ডাক ছাত্র সারিফুরকে ঘুমাতে দিল না। গ্রামের আলপথ দিয়ে হাঁটা এক মেধাবী এখন করবেন কী? জীবনটা তো একটা বড় চ্যালেঞ্জর জায়গা। তাই সুযোগের সদ্ব্যবহার করলেন তিনি। যোগ দিলেন ভাবা পরমাণু গবেষণাকেন্দ্রের গবেষক হিসেবে।
সারিফুর এখন বহু তরুণের স্বপ্ন। তিনি ভারতীয় বিজ্ঞান সাধনায় আজ অন্যতম প্রেরণা। দু-দু’টি পরমাণু কেন্দ্রের সুপারিনটেন্ডেন্ট। বারুইপুর পুরসভার চেয়ারম্যান শক্তি রায়চৌধুরি বললেন– এখানকার কুমারহাট গ্রামের ভূমিপুত্র ও বারুইপুর হাইস্কুলের এই ছাত্রের জন্যে বুকটা গর্বে ভরে ওঠে। শক্তিবাবু জানান– বারুইপুরের আর এক কৃতী সন্তান বিজ্ঞানী বাস্তুকার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর সময় রাজস্থানের পোখরান বিস্ফোরণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
সেসব আজ ইতিহাস। বিজ্ঞানী ড. সারিফুর রহমানের অধীনে পরমাণুকেন্দ্রে গবেষণা করছেন দেশ ও জাতির সেবায় অন্তত ৩০ জন বিজ্ঞানী। ১৯৮৬ সালের মেধাবী এই ছাত্রটি বঙ্গবাসী কলেজ থেকে ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে ষষ্ঠ স্থান লাভ করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আজ তিনি অগণিত যুবক-যুবতীর প্রেরণা। চেন্নাইয়ের স্থায়ী বাসিন্দা সারিফুরের দুই ছেলে তানভীর রহমান ও আবির রহমান দু’জনেই মেধাবী। স্ত্রী মালদার ইংরেজবাজারের নাসরিন বেগম প্রাণীবিদ্যাতে এমএসসি। সন্তান প্রতিপালনের জন্য গৃহবধূ হিসাবে জীবনযাপন করছেন সন্তান মানুষ করার জন্য। দু’জনই এমটেক করছেন।
মাটি ও আত্মার টানে গ্রাম ঘুরে গেলেন। খোঁজ নিলেন প্রিয়বন্ধু এমদাদ উদ্দিন ও তাঁর পরিবারের। বললেন জীবনে সবসময় সুযোগ আসে না। সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হয়। পিছিয়েপড়া মুসলিম সমাজের এক আলোকবর্তিকা হিসেবে সারিফুর এক গ্রাম বাংলার তরুণ শিক্ষিত সমাজের রোলমডেল।

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of