বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর ৯০টি মসজিদ বানিয়েছেন বলবীর সিং

0
15

বলবীর সিং ওরফে মুহাম্মদ আমির একজন রাজপুত ছিলেন। বাবরি মসজদ ধ্বংসের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তিনি অপরাধবোধ করছেন। আমির বলেছেন,‘আমি বুঝতে পারছি যে আমি আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে ভারতীয় সংবিধানের অবমাননা করেছি। আমি আমার অপরাধের সাক্ষ্য দিতে এবং শাস্তি পেতেও রাজি আছি। ’ মুহাম্মদ আমির গেরুয়া শিবিরের সমর্থক ছিলেন। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের আগে ভারতের রাজনৈতিক আন্দোলনগুলির সাক্ষী ছিলেন আমির। পানিপথের কাছেই এক গ্রামে আমির জন্মগ্রহণ করেছিলেন । আমিরের বাবা দৌলাত রাম ওই গ্রামের স্কুল শিক্ষক ছিলেন। পরে তিনি তার পরিবারকে নিয়ে পানিপথে বসবাস করতে শুরু করেন। সেখানে বালা সাহেব ঠাকরের সংস্পর্শে এসে আমির শিবসেনায় যোগদান করেন। তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন এবং
১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মতো অপরাধমুলক কাজের সঙ্গে জড়িত হয়েছিলেন। আমির শিব সেনার দলনেতা ছিলেন। মুহাম্মদ আমির এবং তার বন্ধু মুহম্মদ ওমার (পুর্বে যোগেন্দ্র পাল নাম পরিচিত ছিলেন) দুজনে মিলে অযোধ্যায় রাম মন্দির বানানোর জন্য বাবরি মসজিদ ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর তারা নিজেদের অপরাধকে লাঘব করার জন্য ১০০ টি মসজিদ বানানোর জন্য অঙ্গিকারবদ্ধ হয়েছিলেন।

আজ সারা ভারতে ৯০ টি মসজিদ বানিয়ে তারা সেই প্রতিশ্রুতি পুরণ করতে পেরেছে। ১৯৯২ সালের পয়লা ডিসেম্বর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারের বেশি কর সেবকদের সঙ্গে অযোধ্যায় যোগ দিয়েছিলেন আমির। সেই বছরের ৬ ডিসেম্বর আমিরই সর্বপ্রথম ব্যক্তি ছিলেন যিনি বাবরি মসজিদের মধ্যের গম্বুজটি উচ্ছেদ করেছিলেন। মুহাম্মদ আমির বলেছেন,‘ আমরা ভেবেছিলাম মসজিদ প্রাঙ্গনে বড় সংখ্যায় সেনা প্রস্তুত থাকবে। কিন্তু সেখানে মাত্র কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী উপস্থিত ছিল এবং তারা আমাদের সহযোগিতাও করেছিল– ফলে আমরা মসজিদ ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পেয়েছিলাম।’ সোনিপথ এবং পানিপথের কর সেবকদের সঙ্গে মিলিত হয়ে আমির মসজিদের গম্বুজগুলি উচ্ছেদ করেছিলেন। আমির বলেছেন– ‘আমি যখন গ্রামে ফিরলাম তখন আমাকে গ্রামবাসীরা হিরোর মতো স্বাগত জানিয়েছিলেন।’ তবে আমিরের পরিবার তার কাজে খুশি ছিলেন না। বর্তমানে মুহাম্মদ আমির একটি স্কুল চালান যেখানে ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হয়ে থাকে।

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of