অসমের তিনসুকিয়ায় পাঁচ বাঙালিকে সন্দেহভাজন অজ্ঞাত জঙ্গিরা গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে অসম বনধে বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

আজ বাঙালি যৌথ সমন্বয় সমিতির ডাকে চব্বিশ ঘণ্টার অসম বনধে গুয়াহাটি, শিলচরে বনধের প্রভাব পড়েছে। এসব এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল। সড়কে নামমাত্র যান চলাচল করেছে। লামডিংয়ে বনধ সমর্থকরা রেল অবরোধ করলে ব্রহ্মপুত্র মেলসহ গুয়াহাটি-শিলচর গামী ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়। কয়েকটি জেলায় বনধ সমর্থকরা রেল লাইনের ওপরে ধর্না অবস্থানে বসা-সহ পাথর নিক্ষেপ ও সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন ক্ষুব্ধ মানুষজন।

কাছাড় ও করিমগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় দোকানপাট, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি দফতর বন্ধ ছিল। এসব এলাকায় সড়কে যানবাহন চলাচল করেনি।

এদিকে, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় অসমের বিলাসীপাড়ার বাঙালিরা তিনসুকিয়ায় বাঙালি হত্যার প্রতিবাদে উগ্রপন্থি সংগঠন উলফার বিরুদ্ধে সড়কে নেমে উলফা নেতা মৃণাল হাজারিকা ও জিতেন দত্তের কুশপুতুল পুড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনসুকিয়া জেলার খেরাবাড়ি এলাকায় পাঁচ বাঙালি যুবককে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে সামরিক পোশাক পরা অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা। ভয়াবহ ওই ঘটনায় উলফা (স্বাধীন) জঙ্গিগোষ্ঠীকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সন্দেহ করা হলেও তারা এক বিবৃতিতে ওই ঘটনার দায় অস্বীকার করেছে।

পুলিশ ওই ঘটনায় উলফার লিঙ্কম্যান সন্দেহে দেখলাই গগৈসহ আলোচনাপন্থি উলফা নেতা মৃণাল হাজারিকা ও আরেক নেতা জিতেন দত্তকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসবাদ করেছে।

এ প্রসঙ্গে অসমের হাইলাকান্দির বিশিষ্ট সমাজকর্মী আব্দুল মান্নান লস্কর আজ শনিবার ‘পুবের কলম’ প্রতিবেদককে বলেন, ‘এটা বাঙালিদেরকে টার্গেট করা হয়েছে। উগ্র অসমিয়া জাতীয়তাবাদী শক্তি তারা সবসময় চায় বাঙালিদেরকে অসম থেকে শেষ করে দিতে। সেক্ষেত্রে বর্তমানে ওঁরা চরমসীমা অতিক্রম করেছে। যে পাঁচজন বাঙালিকে হত্যা করা হয়েছে সে ব্যাপারে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে উগ্র অসমিয়া জাতীয়তাবাদী সংগঠন নিষিদ্ধঘোষিত আলফার হাত রয়েছে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাঙালিদের পক্ষ থেকে আজ স্বতঃস্ফূর্ত বনধ পালিত হয়েছে। এ পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই।’

অন্যদিকে, আজ কলকাতায় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অসমের ঘটনার প্রতিবাদে কালাদিবস পালন করা হয়। এদিন কংগ্রেস সমর্থকরা ‘অসমে গণহত্যা কাণ্ডে দায়ী বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ চাই’ লেখা সম্বলিত বড় ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। আজ মেদিনীপুর, দার্জিলিং ও শিলিগুড়িসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কালাদিবস কর্মসূচি পালন করা হয়।

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of