বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচন অাসন্ন। বিরোধী পক্ষকে ভয় দেখানো, সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ-সহ নানা বিষয় সামনে অাসছে। একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা৷ তবে তাঁদের উদ্বেগ এবং হুঁশিয়ারিকে পরোয়া করে না বলে জানিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ৷

অন্যদিকে সূত্রের খবর, বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে না ইইউ পার্লামেন্ট৷ কোনো পর্যবেক্ষক মিশন পাঠাবে না ইউরোপীয় ইউনিয়নও৷ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ডেমোক্রেসি সাপোর্ট ও ইলেকশন কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে৷

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে অস্ট্রিয়ার রাজনীতিক জোসেফ ভাইদেনহোলজার বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য অনেক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ৷ এই নির্বাচনই শেষ সুযোগ, যেখানে নির্ধারিত হবে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারা ও আইনের শাসন অব্যাহত থাকবে, নাকি পরিস্থিতি অরাজকতা আর বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত হবে৷

গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হলে বাংলাদেশে শুল্ক ও বাণিজ্য সুবিধা বন্ধ করে দেয়া হবে– ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কোনো কোনো সদস্যের বক্তব্যে এমন হুঁশিয়ারি ছিল বলেও জানা গেছে৷

এ প্রসঙ্গে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র মাহাবুব-উল-আলম হানিফ বলেন,‘‘এসব হুমকিতে আমরা ভয় পাই না৷ বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তারা কথা বলেন, অথচ মায়ানমার এত রোহিঙ্গাকে নির্যাতন করল, আমরা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তা দেখেছি, সেটা নিয়ে তারা কোনো হুমকি দিচ্ছে না৷ তারা মনে করলে আমাদের যে বাণিজ্য-সুবিধা দেয়, সেটা বন্ধ করে দিক৷ অ্যামেরিকা তো জিএসপি বন্ধ করে দিয়েছে, তাতে কী হয়েছে? বরং আমাদের গার্মেন্টস সেক্টর আরো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে৷ আসলে তারা আমাদের যে সুবিধা দেয়, সেটা তাদের স্বার্থেই দেয়৷ কারণ, আমাদের চেয়ে কম দামে আর কোনো দেশ তাদের পোশাক দিতে পারে না৷ বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশ৷ এখন বিদেশিদের হুমকি-ধামকি বা চোখ রাঙানির দিন হয়তোবা শেষ৷’’

 ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা বহাল রাখতে চাইলে বাংলাদেশকে অবশ্যই মানবাধিকার ও অন্যান্য ইস্যুতে তার অঙ্গীকারগুলো পূরণ করতে হবে৷ ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে যে ধরনের সহিংসতা হয়েছিল, তা তারা আর দেখতে চান না৷ প্রখ্যাত আলোকচিত্রী শহীদুল আলমের বন্দিদশা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে তাদের৷

 বিতর্কে অংশ নিয়ে অষ্ট্রিয়ার রাজনীতিক জোসেফ ভাইডেনহোলজার বলেন, ‘‘আগামী নির্বাচনে হয়ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অংশ নিতে পারবেন না৷ বিরোধীরা অভিযোগ করেছে, তাঁকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে৷’’ পার্লামেন্টে তুমুল বিতর্ক শেষে ভোটাভুটির মাধ্যমে এ সব বিষয়ে একটা খসড়া প্রস্তাবও গৃহীত হয়েছে৷

আলোচনায় অংশ নেওয়া এমপিদের প্রায় সবাই আলোকচিত্রী শহীদুল আলমের বন্দি দশা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিভিন্ন ধারার অপব্যবহার, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম-খুন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকবাধীনতা সংকোচনসহ সার্বিক পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন৷ তাঁরা পরিস্থিতির উন্নয়নে বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য বাণিজ্য সুবিধা কাটছাঁটের প্রস্তাব করেছেন৷

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of