নামাযের সময় হলেই সবাই এক জায়গায় জড়ো হচ্ছেন। অযু করে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাযে দাঁড়াচ্ছেন প্রত্যেকে। এদের মধ্যে কেউ চুরি, হত্যা, প্রতারণা কিংবা আরও নানা কারণে অভিযুক্ত। স্থান–আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট প্রিজন সোলানো, হালফিলে বাংলায় যাকে বলে সংশোধানাগার।

এই জেলে রয়েছে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ। নানা অপরাধে অভিযুক্ত ৩৮৩২ জন আটক রয়েছেন এই সংশোধানাগারে।কেউই তেমন একটা ধর্ম পালন করেন না। ব্যতিক্রম–প্রায় ২০০ জন মুসলিম। তারা তাদের ধর্মের প্রতি আনুগত্য রেখে নিয়মিত নামায পড়েন, ধর্মীয় বক্তব্য শোনেন। অথচ, এরা কিন্তু আগে থেকেই মুসলিম ছিলেন না। জেলে এসেই তারা ইসলামে আকূষ্ট হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

কেন তাঁরা ইসলাম গ্রহণ করছেন? এক কয়েদি হাসানি বার্লেসন জানাচ্ছেন, ইসলাম আমাদের মনে শান্তি ও স্বস্তি এনে দিয়েছে। জেলের মধ্যে আলাদা এক বিশ্বের সন্ধান দিয়েছে এই ধর্ম।

তাই কঠোর নিয়মানুবর্তিতা ও কঠোরতার মধ্যেও তারা ধর্মের অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, জেল কর্তূপক্ষের কাছ থেকে বাড়তি সুযোগসুবিধা পাওয়ার জন্য তারা তাদের দাবিদাওয়াও পেশ করছেন সম্মিলিতভাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৯/১১ ঘটনার পরে ইসলাম নিয়ে আমেরিকাবাসীর আগ্রহ বেড়ে যায়। তারা ইসলামকে জানতে পড়াশোনা শুরু করে। জেলেও সেই কাজ শুরু হয়। এছাড়া, বিভিন্ন ইসলামিক সংস্থা ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটানোর জন্য ইসলাম প্রচার শুরু করে। আর এসবের ফলেই ইসলাম আজ আমেরিকার জেলগুলিতে সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ধর্মের মর্যাদা লাভ করেছে।অনেক সময় জেলে আসা নতুন প্রিজনারদের হুমকি দেয় পুরনোরা, মারধর করে। সেই সময় মুসলিম বন্দীরা তাদের সাহায্য করে, রক্ষাকর্তা হিসেবে এগিয়ে আসে। তখন থেকেই আলাদা আকর্ষণ জাগে ইসলাম সম্বন্ধে। আর এ্রর ফলেই একদিন ইসলামকে নিজেদের ধর্ম হিসেবে তারা বাছাই করে নেয়।

  https://www.youtube.com/watch?v=3S8Tom-9OaU

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of