বলিউডের অভিনেত্রী আলিয়া ভাট একটি টক শো-তে এসে জানিয়েছিলেন, রনবীর কাপুর ইনস্টাগ্রামে তাঁর নিজের নামে নেই৷ অথচ নায়কের নামে ইনস্টাগ্রামে যে প্রোফাইলটি আছে, তার ফলোয়ার সংখ্যা ৬,১০০০০৷ সোশ্যাল মিডিয়ার রাজ্যে এমন উদাহরণ ভুরি ভুরি৷ হলিউডের এমা স্টোন থেকে ড্যানিয়েল রাডক্লিফ বা বলিউডের কারিনা কাপুর খান সকলেরই ভুয়ো অ্যাকাউন্টের ছড়াছড়ি৷ টলিউডের তারকারাও বাদ নেই৷ এমনকি ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের স্ত্রী ও কন্যারও ভুয়ো অ্যাকউন্ট নিয়ে অভিযোগ জমা পড়েছে৷ সম্প্রতি এই ভুয়ো অ্যাকাউন্টের জন্যই পুলিশের দ্বারস্থ হলেন অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মেয়ে পৌলমী বসু৷

প্রবীণ অভিনেতা সৌমিত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় নেই৷ তবু তাঁর নাম ও ছবি সমেত অ্যাকাউন্ট রয়েছে ফেসবুকে৷ সেখানে টিকটিকি নিধনের উপায় থেকে শুরু করে মিঠুন চক্রবর্তীকে ইঙ্গিত করেও পোস্ট দেওয়া হয়েছে৷ এসব দেখেই তাঁর মেয়ে পৌলমী বসু পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন৷ এই ঘটনা অবশ্য টলিপাড়ায় নতুন নয়৷ প্রায়ই তারকারা সাইবার ক্রাইমের দপ্তরে গিয়ে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট নিয়ে অভিযোগ জানান৷ ‘কুসুমদোলা’, ‘বোঝে না সে বোঝে না’ মেগাসিরিয়ালখ্যাত অভিনেত্রী মধুমিতা চক্রবর্তীর প্রায় খান তিরিশেক ভুয়া প্রোফাইল আছে৷ ২০১৬ সালে একটি ওয়েবসাইটে অভিনেত্রীর বিকৃত ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি লালবাজার সাইবার দফতরে অভিযোগ জানান৷ কিন্তু তারপরেও তাঁর ভুয়ো অ্যাকাউন্টের সংখ্যা কমেনি৷ এমন ঘটনা খুঁজলে যে অনেকই মিলবে, সে নিয়ে সন্দেহ নেই৷
তারকাদের ভুয়ো অ্যাকাউন্ট কখনো কখনো কিছু অসাধু মানুষের চেষ্টায় সাধারণ মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমও হয়ে উঠছে৷ সেটা তাঁদের মাথাব্যথারও কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে৷ অভিনেতা অর্জুন চক্রবর্তী, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় ও ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভুয়ো অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের সিনেমায় নামানোর প্রলোভন দেখানো হতো৷ তেমনই এক ফাঁদ পেতে এক নারীর কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা আদায় করা হয় গত জুন মাসে৷ অথচ গত বছরই অভিনেতারা ভুয়ো অ্যাকাউন্ট নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন৷

এ ব্যাপারে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের সতর্ক করা হলেও প্রতারণা চলছে৷ ভাস্করের মন্তব্য, ‘‘আমি ফেসবুকে জানিয়েছি, এটা আমার অ্যাকাউন্ট নয়৷ অমিতাভ বচ্চন চাইলেও কি আমরা টাকা দিয়ে দেবো? একবার যাচাই করব না?টাকা দেওয়ার আগে বুঝব না, ব্যাপারটা সত্যি না ভুয়ো?” নাম ভাঁড়িয়ে এসব চললেও ইমেজের ক্ষতি হচ্ছে না বলে মনে করেন ভাস্কর, তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমাকে যাঁরা জানেন, তাঁরা বুঝতে পারছেন৷ তবে যাঁরা টাকা দিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন, তাঁরা আমাকে ভুল বুঝছেন৷ আসলে অর্ধশিক্ষিত দেশে সবার ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ হয়ে গিয়েছে৷ কিন্তু কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, সেটা অনেকেই জানে না৷”

এককালের বাংলা ছবির খ্যাতনামা নায়ক অর্জুন চক্রবর্তীর ফেসবুকে দুটি অ্যাকাউন্ট আছে৷ সেখানে এই অভিনেতা পোস্ট করেন৷

অর্জুন চক্রবর্তী বললেন, ‘‘আমাদের ছবি এখন সহজেই পাওয়া যায়৷ আমাদের ছবি ব্যবহার করে নারীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে৷ নাম ভাঁড়িয়ে সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করে৷ কিন্তু এভাবে বেশিদিন চালানো যায় না৷ এটা একরকম মানসিক বিকৃতি৷”

অর্জুনের কথায় সহমত মনোবিদ ড. কামাল হোসেন৷ তিনি বলেন, ‘‘যা নই, তেমন সাজার ইচ্ছেকে তো মানসিক বিকৃতি বলাই যায়৷ এটা অনেকে মজা হিসেবে নেয়, অনেকে তা দেখে মজা পায়৷ কিন্তু আখেরে কোনো লাভ হয় না৷”

২০১৭ সালে ফেসবুক ১০০ কোটি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছিল৷ অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে ইনস্টাগ্রাম নয়া সুরক্ষাবিধি চালু করেছে৷ হাত গুটিয়ে বসে নেই টুইটারও৷ তা সত্বেও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো অ্যাকউন্টের রাজত্ব চলছে৷

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of