হিংসা আর বিদ্বেষে উন্মত্ত করসেবকরা ১৯৯২-এর ৬ ডিসেম্বর শাবল, গাঁইতি দিয়ে মুহুর্মুহু আঘাত করে ভেঙে ফেলে ষোড়শ শতকে গড়া স্থাপত্য বাবরি মসজিদ। তাদের দাবি ছিল, এখানে আগে মন্দির ছিল, সেটা ভেঙেই মসজিদ তৈরি হয়েছে। তাদের এই দাবিকে সমর্থনও করেছিল আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। কিন্তু বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ২৬ বছর পর প্রকাশ্যে এল আসল তথ্য। প্রত্নতত্ত্ববিদরাই জানালেন, এএসআই ভুল তথ্য দিয়েছে, বাবরি মসজিদের ভিত্তির তলে কোনও মন্দিরের কাঠামো ছিল না। যা ছিল তা হল স্রেফ মসজিদেরই আরেকটি পুরনো ভিত।

২০০৩ সালের আগস্ট মাসে এএসআই এলাহাবাদ হাইকোর্টে যে তথ্য জানিয়েছিল তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দুই পুরাতত্ত্ববিদ, সুপ্রিয়া বর্মা ও জয়া মেনন এই বিস্ফোরক তথ্য হাজির করেছেন। তাদের মতে, এএসআই মাটি খোড়ার আগেই জেনে গিয়েছিল ওখানে মন্দিরের ভিত রয়েছে! তারা মাটি খোড়ার সময় নির্দিষ্ট নিয়মও মানেনি।

এই দুজন সেই খননকার্যের সময় পর্যবেক্ষক হিসেবে ঘটনাস্থলে হাজির ছিলেন। তাদের আরও দাবি, হিন্দুত্ববাদীদের কাছ থেকে প্রচণ্ড চাপ আসছিল এই ঘোষণা দেওয়ার জন্য যে, মুঘল বাদশাহ বাবরের প্রতিনিধি মির বাকি মন্দির ভেঙে মসজিদ তৈরি করেছেন।

সেই খনন কার্যের যিনি প্রধান ছিলেন, বি.আর মনি, পরবর্তীতে মোদি সরকারের সময় (২০১৬) জাতীয় যাদুঘরের ডিরেক্টর জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। এটা ছিল সেই ‘কাজ’-এর পুরস্কার বলে উল্লেখ করেছেন সুপ্রিয়া বর্মা।

শুধু ধারণাবশেই সংঘ পরিবারের চাপের মুখে এই ঘোষণা করা হয়েছিল, আজ পর্যন্ত কোনও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানাচ্ছেন এই পুরাতত্ত্ব গবেষকরা।
এএসআই দাবির পিছনে তিনটি কারণ ছিল–পশ্চিমের দেওয়াল, ৫০ টি পিলার ও প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানসমূহ।
এ্রর পরিপ্রেক্ষিতে গবেষকরা বলছেন, পশ্চিমের দেওয়াল মসজিদেই থাকে। এটা প্রতি মসজিদের বৈশিষ্ট্য। সেখানে ইমাম(যিনি নামাযে নেতূত্ব দেন) দাঁড়ান। ইসলামের পরিভাষায় একে বলে ‘মিহরাব’।এটা কোনওমতেই একটি মন্দিরে থাকতে পারে না।

আর যে পিলারগুলির কথা বলা হয়, সেগুলি সম্পূর্ণভাবে প্রমাণ হিসেবে ‘গড়া’ হয়েছে পরবর্তীতে। ভাঙা ইট আর কাদামাটি দিয়ে তৈরি করে ওগুলিকে প্রমাণ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন এই দুই গবেষক।

অন্যদিকে প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান বলে যেগুলিকে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে সেগুলিকে আদৌ খুঁজেই পাওয়া যায়নি ঠিকঠাক। খননকার্যের সময় ‘পবিত্র যুগল’-এর যে প্রতিকূতি পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়, তা আসলে পাওয়া গিয়েছিল ভাঙা মসজিদের মেঝে থেকেই। এবং সেই ছবির মলিন পুরুষ ও মহিলার যে সত্যিই সেই পৌরাণিক চরিত্রদের সঙ্গে মিল আছে তা নয়!

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of