মইনুল হাসান

শতবর্ষের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। এ দেশে মুসলিমদের সবচাইতে বড় সংগঠন– যারা স্বাধীনতা আন্দোলনে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। সেইসঙ্গে মুসলিম সমাজের সার্বিক উন্নয়নে কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে। আজকে সারা দেশজুড়ে যে হট্টমেলা চলছে– সেখানে দৃঢ়তার সঙ্গে বিরোধিতার রাস্তায় নেমেছে। দেশে শান্তি– ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং সম্প্রদায়ে-সম্প্রদায়ে ভালোবাসা গড়ে তুলতে– দেশের গণতন্ত্র– ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংবিধান অটুট রাখার লড়াইতে সবাইকে শামিল করার ব্রত নিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ।

ভারতে মুসলমানদের সবচাইতে বড় সংগঠনটির নাম জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। ১৯১৯ সালে অমৃতসরে সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই অর্থে আগামী বছরে শতবর্ষ হবে। অবশ্য আমার এই লেখাটি শতবর্ষের জন্য নয়। সে চেষ্টা পরে করা যেতে পারে। এখন কিছুটা বেদনা থেকে এই লেখাটা শুরু করছি। ইদানীং দেখছি যে– জামাত– জমিয়ত ইত্যাদি শব্দবন্ধ যুক্ত হয়ে কোনও সংগঠনের নাম উচ্চারিত হলেই অনেকের ভ্রু উপরের দিকে উঠে যায়। সব সংগঠনকে একই মাত্রায় ফেলার চেষ্টা হয়। মনে করা হয় হিংসা– বিদ্বেষ– মারামারি– রক্তপাতের সঙ্গে সবাই যুক্ত। কোনও কোনও রাজনৈতিক নেতা ‘জামাত’ শব্দে সবাইকে এক করতে চান। আসলে সংগঠনগুলির অতীত ও বর্তমান কর্মধারা সম্বন্ধে না জেনে মন্তব্য করতে বাধে না। আর ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণারও অভাব তাদের আছে। ইসলাম যে শান্তির ধর্ম– অযথা রক্তপাত যে সেখানে নিষিদ্ধ সেটা উপলব্ধি করার মতো মন ও মানসিকতা অনেকেরই নেই। এই পরিপ্রেক্ষিত থেকে উলামায়ে হিন্দ সম্পর্কে কয়েকটি কথা বলার প্রয়োজন মনে করছি। এই লেখা যখন লিখছি তখনই কেরলে বিধ্বংসী বন্যা হয়েছে। হিন্দের নেতারা কেরলে ত্রাণ ও পুনর্গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন। একটা ছবিতে পুনর্গঠনের কাজে সাহায্য করতে দেখা যাচ্ছে মৌলানা মাহমুদ মাদানী ও মৌলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরিকে।

অতীত— যা এখনও জীবন্ত
অষ্টাদশ শতাব্দীতে দিল্লির শাহ ওয়ালিউল্লাহ’র নেতৃত্বে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী– দুর্নীতি বিরোধী তথা পাশ্চাত্যের শাসকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে ওঠে। ১৮০৮ থেকে ১৯১৫ পর্যন্ত উলেমা (ইসলাম ধর্ম বিশারদ)-রা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সংগঠিত সংগ্রাম করেছেন। শাহ আব্দুল আজিজ দেহলভী বলেন– ‘আমাদের দেশ ক্রীতদাস হয়ে আছে। স্বাধীনতা সংগ্রাম করা এবং দাসত্বের মুক্তি ঘটানো আমাদের কর্তব্য। হাজি ইমদাদুল্লাহ মোহাজির মাক্কি– মৌলানা কাশেম নানোতাভি– মৌলানা রশিদ আহমেদ গাঙ্গোহী– হাফিজ জামিন শাহিদ-এর মতো উলেমা’রা স্বাধীনতার লড়াইতে অস্ত্র তুলে নেওয়ার কথা বলেছেন।
১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন হয়। ব্রিটিশের অত্যাচারের মূললক্ষ্য হয় উলেমাগণ। এই বিদ্রোহে প্রায় ২ লক্ষ মানুষ শহিদ হন। তার মধ্যে উলেমা হচ্ছেন ৫১,২০০ জন। শুধুমাত্র দিল্লিতে ৫০০ জন উলেমাকে ফাঁসি দেওয়া হয়। ১৮৬৪ থেকে ১৮৭১ পর্যন্ত ৫টি বড় দেশদ্রোহের মামলা হয়। তার মধ্যে অন্যতম ‘ওয়াহাবি মামলা’– ‘আম্বালা চক্রান্ত মামলা’ ইত্যাদি। সমস্ত মামলাতে উলেমাদের অযথা দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন জেল দেওয়া হয়েছে।
উলেমারা সশস্ত্র বিদ্রোহে যুক্ত ছিলেন। লক্ষ্য ছিল দেশের স্বাধীনতা। কিন্তু পরপর কয়েকটি ঘটনায় অকৃতকার্য হচ্ছিলেন। বিশেষ করে ১৯১৬ সালে সিল্ক লেটার চক্রান্ত অকৃতকার্য হয়। উলেমাগণ তাঁদের কর্মপদ্ধতি পুনর্বিবেচনা করার পথে হাঁটছিলেন। এই সময়েই ২২২জন উলেমা গ্রেফতার হয়ে যান। শায়খ-উল-হিন্দ মৌলানা মহম্মদ হাসান– তাঁর শিষ্য মৌলানা হুসাইন আহমেদ মাদানী– মৌলানা ওবাইদুল্লাহ সিন্ধি– মৌলানা আবুল কালাম আজাদ– খান আবদুল গফফর খান সবাই মিলে তাঁদের কর্মপদ্ধতি পাল্টালেন। অহিংসাকে নিজেদের কর্মপদ্ধতি হিসাবে গ্রহণ করে অন্যান্য সবার সঙ্গে স্বাধীনতা আন্দোলনের লড়াইতে সমর্থন নিয়ে এগিয়ে এলেন।
১৯১৯ সালের নভেম্বর মাসে দিল্লিতে খিলাফত সম্মেলনের সময় শায়খ-উল-হিন্দ মৌলানা মাহমুদ হাসান-এর নেতৃত্বে একটি নতুন সংগঠন গড়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হল। অহিংস পথে স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্য ঘোষিত হল। নাম হল জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। প্রথম সভাপতি হলেন মুফতি-ই-আজম কেফাতুল্লাহ। এই সংগঠন একটা মোড় ঘোরানো সিদ্ধান্তে সশস্ত্র সংগ্রাম প্রত্যাহার করে অহিংসা ও অসহযোগের রাস্তা বেছে নিল। প্রথম সম্মেলন হল ডিসেম্বর ১৯১৯– অমৃতসরে।

স্বাধীনতা সংগ্রাম ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই স্বাধীতা আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। সেই সময় শায়খ-উল-হিন্দ ও মৌলানা আজাদ ঘন ঘন বন্দি হচ্ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে হিন্দ। ১৯২০ সালের জুন মাসে শায়খ-উল-হিন্দ অসহযোগিতার ফতোয়া ঘোষণা করেন। সেই সময় খিলাফত কমিটি ও কংগ্রেস অসহযোগ আন্দোলনে যায়। এই ফতোয়া তারই পক্ষে। ৫০০ উলেমা এই ফতোয়া সমর্থন করেন। ১৯২১ সালেও অসহযোগের ডাক দেওয়া হয় করাচি অধিবেশন থেকে। মৌলানা হুসাইন আহমদ মাদানী– মৌলানা মহম্মদ আলি জহর– মৌলানা শওকত আলী– ডা. কিচলু এবং জগৎগুরু শঙ্করাচার্য সহ অনেকে জেলবন্দি ছিলেন।
১৯২১ সালের নভেম্বরে জমিয়ত সম্মেলন থেকে বিদেশি দ্রব্য বয়কটের আহ্বান জানানো হয়– মৌলানা আজাদ নেতৃত্ব দেন। ১৯২২ ডিসেম্বরে বিধানসভা বয়কটের ডাক দেয় জমিয়ত। ১৯২৪ সালে মৌলানা হুসাইন আহমদ মাদানী পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি উত্থাপন করেন। ১৯২৭ সালে জমিয়ত প্রথম সাইমন কমিশন বয়কটের ডাক দেয়। ১৯৩০ সালে আমরোহা সম্মেলন থেকে (মে ১৯৩০) কংগ্রেসের সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।
মৌলানা সৈয়দ হুসাইন আহমদ মাদানী সংযুক্ত বা মিশ্র জাতীয়তাবাদের পক্ষে ছিলেন এবং ব্রিটিশের বিরুদ্ধে সমস্ত ধর্মের মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানিয়েছেন। বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে সম্প্রীতি ও সহযোগিতার কথা বার বার উল্লেখ করেছেন যা হাদিস ও কুরআনের মূল ভাবনার সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত।
ভারত ভাগ করার জন্য এখন মুসলমানদের দায়ী করার ঝড় চলছে। সকলের জেনে রাখা ভালো যে– ভারত ছাড়ো আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে জমিয়ত। ৫ আগস্ট ১৯৪২ জমিয়ত ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ডাক দেয়। ৯ আগস্ট কংগ্রেস বম্বে অধিবেশন থেকে এই আন্দোলনের আহ্বান জানায়। জমিয়তের বহু নেতা ও কংগ্রেস নেতারা কারাবরণ করেন।
১৯৪২ সালের পর জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ পাকিস্তান চিন্তায় বিরোধিতা করে। বিশেষ করে মৌলানা হুসাইন আহমদ মাদানী মুসলিম লিগ সৃষ্ট হিংসায় আক্রান্ত হন। ১৯৪৫-এর ১৪তম সম্মেলনে দেশ ভাগের বিকল্প ফর্মুলা সামনে নিয়ে আসে।

স্বাধীনতা ও তারপর
দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে জমিয়ত-এর মূল লক্ষ্য ছিল দেশের স্বাধীনতা অর্জন করা। এরপর সংগঠনের মূল কাজ হল মুসলমানদের সামাজিক– ধর্মীয়– অর্থনৈতিক ও শিক্ষার উন্নয়ন ঘটানো।
স্বাধীনতা এসেছিল রক্তবন্যার মধ্য দিয়ে। পঞ্জাব– হিমাচল– দিল্লি– হরিয়ানা– পশ্চিম ইউপি– বিহার– বাংলার দাঙ্গায় মানুষ জর্জরিত ছিল। মুসলমানরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। জমিয়তের নেতারা এমন এক দুঃসহ সময়ে মরণপণ লড়াই করেছেন মুসলমানসহ সমস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে। তাদের সফলতার কথা ইতিহাসের পাতায় জ্বলজ্বল করছে। কোনও অপপ্রচারেই তা মুছে ফেলা যাবে না।

স্বাধীনতার পর কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জমিয়ত তার সুচিন্তিত মতামত পেশ করেছে। লক্ষেøৗ সম্মেলন ছিল সেই ঝড়ো সময়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র ভেঙে পড়া সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানো নয়। এখানেই জমিয়ত নেতারা ঘোষণা করেন– তাঁরা কোনও রাজনীতি করবেন না। স্বাধীন দেশে ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থা তৈরি করতে তাঁরা নিরলস চেষ্টা চালাবেন– দেশে একটা ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের জন্য লড়াই করবেন— এই অভিমত ব্যক্ত করেন। সংবিধানে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং তাদের উন্নয়নের জন্য বিশেষ সংস্থান যেন থাকে তার জন্য গণপরিষদে লড়াই করেছেন সেই সময়ের জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মৌলানা হিফ্জুর রহমান। যিনি তখন গণ পরিষদের সদস্য ছিলেন। মৌলানা হিফ্জুর রহমান ও মৌলানা আসাদ মাদানী সব সময়েই সাম্প্রদায়িকতা ও দাঙ্গার বিরুদ্ধে জোরের সঙ্গে তাঁদের বক্তব্য রেখেছেন। এই সময় একটু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা জানিয়ে রাখতে দোষ নেই। বর্তমানে জমিয়তের অন্যতম প্রধান নেতা মৌলানা মাহমুদ মাদানী এবং আমি একই সময়ে ৬ বছর রাজ্যসভার সদস্য ছিলাম। অতি সজ্জন ব্যক্তি। নানা বিষয়ে তাঁর লেখাপড়া আমাকে মুগ্ধ করেছে। তিনিও সবসময় সাম্প্রদায়িকতার বিপদ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য রেখেছেন। মুসলমানদের উন্নয়ন ও ঐক্যের প্রশ্নে তিনি সবসময় জোরালো বক্তব্য রাখতেন। আমারও বাংলো ছিল ফিরোজ শাহ রোডে। নিয়মিত জমিয়ত অফিসে তাঁর সঙ্গ লাভ করেছি।

আজমীর শরীফ ঘোষণা
২০১৬ সালের ১৩ নভেম্বর আজমীর শরীফে জমিয়তের সাধারণ অধিবেশন বসে। দেশের ইসলামতত্ত্ববিদ– উলেমাগণ মিলিত হন সেখানে। এখান থেকে আহ্বান জানানো হয় বিভিন্ন চিন্তার মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির। একটা সাধারণ দাবিতে একই মঞ্চে সমবেত হওয়ার কথা বলা হয়। সেই সময়ের সভাপতি উদাত্ত আহ্বান জানান— it is the special duty of all muslims in general and islamic Ulema in particular to get awake and to paper over their differences and put their collective energies in common cause for betterment of the nation and the community.
ইসলামের নামে অনেক ভুল প্রচার হয়ে থাকে। অনেক সময় মূলস্রোতের প্রচারমাধ্যমগুলি ইসলামভীতির চেষ্টা চালিয়ে যায়। ইসলাম মানেই যেন সন্ত্রাসবাদ– রক্তপাত– নারীদের প্রতি অত্যাচার— এই সব বোঝানো হয়ে থাকে। জমিয়ত তার এই অধিবেশন থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘোষণা করেছে যে– একমাত্র ক্ষমতা দখলই ইসলামের উদ্দেশ্য নয়। সমানাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং হিংসা ও বিশৃঙ্খলা পৃথিবী থেকে দূর করা ইসলামের প্রধান লক্ষ্য।
এই অধিবেশনেই সারা পৃথিবীব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়। মানুষে-মানুষে দ্বন্দ্বের নিরসন করার প্রার্থনা হয়। সমস্ত রকম সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতা করা হয়। এই প্রসঙ্গে দারুল উলুম দেওবন্দের দেওয়া ফতোয়াকে জোরের সঙ্গে সমর্থন করা হয়। সমস্ত ন্যায়বিচার পছন্দ করেন এমন সব মানুষের কাছে আহ্বান জানানো হয় যে– শুধুমাত্র সন্ত্রাসবাদকে ঘৃণা করলেই হবে না– যে সমস্ত কারণগুলি সন্ত্রাসবাদের জন্ম দেয় তাও দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে।
দলিত এবং অন্যান্য পিছিয়ে পড়া মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি— ন্যায়বিচার ও সমানাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইতে এটা প্রয়োজন। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করার বিষয়টিও আলোচনা হয়। আর একটি যা এখন বহু আলোচিত (বিবাহ ও তালাক সম্পর্কে) সে সম্পর্কে এই অধিবেশন থেকে যা বলা হয়েছে– তা তাদের ওয়েবসাইট থেকেই তুলে দিচ্ছি—
“We have to wage jihad against wrong-practices prevalent in performing Nikah and Talaq. We have to spearhead movement for giving proper rights to women in accordance with Islam.
বর্তমান সময় ও কর্মধারা
২০১৪ সালে বিজেপি সরকার কেন্দ্রে আসার পর তাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে সংখ্যালঘু মুসলমান ও দলিতদের প্রান্তিক করে দেওয়া। সেই কারণে গোরক্ষা বাহিনীর নামে– লাভ জেহাদের নামে– বাড়িতে গো-মাংস রাখার অজুহাতে মুসলমানদের উপর আক্রমণ চলছে। সারা দেশে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ সারা দেশে আমান (শান্তি) ও একতা যাত্রা করেছে। সারা দেশে ৮০০টির বেশি শহর ছুঁয়ে গেছে শান্তিযাত্রা। দিল্লির যন্তরমন্তরে যাত্রা সূচনা করেছেন সংগঠনের সভাপতি ক্বারী মুহাম্মদ উসমান ও পুণেতে সাধারণ সম্পাদক মৌলানা মাহমুদ মাদানী। উভয়েই তাঁদের প্রারম্ভিক ভাষণে দেশের ঐক্য ও সংহতি রক্ষার কথা বলেন। ক্রমাগত বেড়ে ওঠা হিংসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে– এমন হত্যা যদি চলতে থাকে তাহলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। এই আমান যাত্রা সব অংশের মানুষের মধ্যে গভীর ছাপ ফেলে গেছে।
কথাগুলো বলতে হল তার কারণ সাধারণত মূল ধারার জাতীয় সংবাদপত্রগুলিতে এইসব সংবাদ কোনও গুরুত্ব পায় না। বরং অতি উৎসাহে ছাপা হয় সন্ত্রাসবাদীদের নাম ও তার ধর্মপরিচয়।
শতবর্ষের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। এ দেশে মুসলমানদের সবচাইতে বড় সংগঠন। যারা স্বাধীনতা আন্দোলনে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। সেইসঙ্গে মুসলমান সমাজের সার্বিক উন্নয়নে কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে। আজকে সারা দেশজুড়ে যে হট্টমেলা চলছে– সেখানে দৃঢ়তার সঙ্গে বিরোধিতার রাস্তায় নেমেছে। কোনও রাজনৈতিক লাভের আশায় নয়। দেশে শান্তি– ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সম্প্রদায়ে-সম্প্রদায়ে ভালোবাসা গড়ে তুলতে। দেশের গণতন্ত্র– ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংবিধান অটুট রাখার লড়াইতে সবাইকে শামিল করার ব্রত নিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। তাই যখনই ‘জামাত’ মানে সবই সমান– সবাই সন্ত্রাসবাদী বলে অভিমত প্রকাশ করা হয় তখন হতাশ হই। সেই কারণে এতগুলো কথা বলতে হল।
লেখক প্রাক্তন সাংসদ

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of