চার হাজার খোল ও ৮ হাজার করতাল বিতরণ বোলপুরে

0
24

দেবশ্রী মজুমদার, বীরভূম, ০৫ ডিসেম্বরঃ ১৬ নভেম্বর নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী গ্রামে গ্রামে পবিত্র যাত্রা বেরোবে তৃণমূলের। তবে সেটা বেরোবে  বিজেপির রথ যাত্রার দিন অর্থাৎ  ১৪ তারিখ। বোলপুরে ডাকবাংলো মাঠে জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ঘোষণা করলেন, ১৪ তারিখ বেলা ৩টা নাগাদ ব্লকে ব্লকে গ্রামে গ্রামে খোল করতাল নিয়ে বের হবে এই কীর্তণের মিছিল। সেই উপলক্ষ্যে বোলপুর ডাকবাংলো মাঠে ছোট ছোট বুথ খুলে লাইন দিয়ে  সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার খোল ও ৮ হাজার করতাল বিতরণ হল। খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল কীর্তনীয়াদের জন্য।  বীরভূমের ১৯ ব্লক এবং মঙ্গলকোট, কেতুগ্রাম, আউশ গ্রাম মিলে ৫টি ব্লকে দুকোটি টাকা ব্যয়ে  বর্ধমানের খাগড়া থেকে আনা করতাল এবং নদীয়া থেকে আনা খোল বিতরণ হয় এদিন। একটি খোলের দাম পড়ে ৪ হাজার টাকা ও করতালের দাম পড়ে ৫০০ টাকা।  অনুব্রত মণ্ডল মঞ্চে কয়েজনকে বিতরণ করলেন।  সেই অনুষ্ঠানে মঞ্চে যেমন উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রনাথ সিনহা, অভিজিৎ সিংহরা, তেমনি বুকে ব্যাজ লাগিয়ে উপস্থিত ছিলেন আমন্ত্রিত অতিথি সুমন ভট্টাচার্য্য। প্রায় ২০০ পুলিশি নিরাপত্তা ছিল এদিনের অনুষ্ঠানকে ঘিরে।

এদিন অনুব্রত মণ্ডল  সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “ আমি ধর্মকে বিশ্বাস করি। আমি ব্রাহ্মণ সম্মেলন করেছিলাম। অগ্রাহায়ণ মাসে খোল করতাল বেরোয়। মন্দিরে মন্দিরে খোল কীর্তণ হয়। খোলের এত দাম হয়ে গিয়েছে। গরীব মানুষ কিনতে পারছে না। সে জন্য আমি বুথ প্রেসিডেন্ট এবং অঞ্চল প্রেসিডেন্টদের বললাম, তোমরা যদি হেল্প করো তাহলে এরকম একটা পোগ্রাম করতে পারি।  তারা বলল আমরা রাজী আছি। কেউ পাঁচটা, কেউ দশটা করে খোল পাঠিয়ে, বিলি হচ্ছে।  ১৪ ডিসেম্বর খোল করতাল নিয়ে ব্লকে ব্লকে গ্রামে গ্রামে মিছিল হবে। মন্দিরে মন্দিরে কীর্তন হবে।

১৪ ডিসেম্বর রামপুরহাটে বিজেপির রথ বেরোবে, সেই প্রসঙ্গে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, কার কি বেরোবে তা দেখে আমার দরকার নেই। কার মরা বেরোবে, তার দায়িত্ব আমার নেই।  উদ্ধারণপুর, তারাপীঠে, কংকালিতলায় শ্মশান আছে। কার মরা কখন মরা কোন শশ্মানে যাবে, তার ঠিকা কি আমি নিয়ে আছি নাকি?  এক সঙ্গে প্রতিটি ব্লকে খোল করতাল নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের মিছিল হবে।  বীরভূম জেলা শুদ্ধ হবে।  মানুষের ঘরে ঘরে রামের নাম পৌঁছে দেব।   বিশিষ্ট কীর্তণ সঙ্গীত শিল্পী সুমন ভট্টাচার্য্য বলেন,  এক সঙ্গে এক হাজার খোল নিয়ে নগর সংকীর্তন। আমাদের কোলকাতায় একজন বৈষ্ণব আচার্য্য ডঃ মোহনাব্রত ব্রহ্মাচার্যের স্মরণে।  কিন্তু এক সাথে চার হাজার খোল নিয়ে নগর সংকীর্তণ দেখি নি।  অতি সাধারণ মানুষের মধ্যে এগুলি বিতরণ করা হল। বুদ্ধিমান বাঙালি  গোষ্ঠীর সাহিত্য প্রকাশিত হয়েছিল পদাবলী সাহিত্য। তার সুরক্ষার জন্য কীর্তণ গান।  সাধারণ মানুষের মধ্যে শ্রীখোল ও করতাল বিতরণ। এত বড় উদ্যোগ। আমি কখনও দেখি নি।  এই দানের যথাযোগ্য মর্যাদা যেন আমরা রাখতে পারি।  বাংলার নিরপেক্ষ সুস্থ সংস্কৃতি যেন আমরা ধরে রাখতে পারি।  এইটি আমাদের মূল কথা। এর জন্য জেলা তৃণমূল সভাপতিকে কৃতজ্ঞতা জানাই।  তিনি বাংলার সংস্কৃতিকে সাহায্য করেছেন নিরপেক্ষ মানুষ হিসেবে। আমি তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানাই।  তবে বিজেপির রথ যাত্রা ও তৃণমূলের কীর্তণ মিছিল নিয়ে টান টান উত্তেজনায় বীরভূমবাসী। দেখার ধর্মীয় আবেগে সাথে রাজনৈতিক লড়াইয়ের সারনীতে ট্রাফিক জ্যাম সামলানোর দায়িত্বে যথেষ্ট চাপে পুলিশ প্রশাসন।

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of