১৫০ বছরের পুরনো চন্ডীপুরের বেরা পরিবারের দুর্গাপুজো

0
60

 কুল বাঁচাতে স্বপ্নাদেশ মতো শুরু হয়ে ছিল দুর্গা পুজোর প্রচলন।তাও প্রায় দেড়শ বছর আগে।এর পরে বহু কিছুর পরিবর্তন হয়ে গেছে।ভেঙ্গে গেছে পরিবারের
আর্থিক ব্যবস্থার মেরুদন্ডটাও। তবু রীতি মেনে এখনও পূর্ব মেদিনীপুরের চন্ডিপুর থানার বরাঘুনি গ্রামের বেরা পদবীর বনেদি পরিবারে ধুমধাম করে পুজিতা হন দেবী দুর্গা।প্রায় দেড়শো বছর আগের সেই আর্থিক সামর্থ্য না থাকলেও রয়ে গেছে ঐতিহ্য ও পরম্পরা। সেই ঐতিহ্যই বাঁচিয়ে রাখাই পরবর্তী প্রজন্মের কাজ যা আজও আমরা মেনে চলি বলে দাবি করেছেন বরাঘুনি গ্রামে বেরা পরিবারের অন্যতম সদস্য নিত্যানন্দ বেরা ।
জানা গেছে ১৫০বছর আগে রাধানাথ বেরা পুত্র সন্তান লাভের জন্য এই পুজোর সূচনা করেছিলেন।
এ বাড়ির উত্তরসূরি এখন নলিনী ভৃষণ বেরার ছেলে নিত্যানন্দ বেরা ।আর্থিক দুরাবস্থার কারণে সারা বছর অবহেলায় পড়ে থাকা জমিদার বাড়ি পুজার কয়েক দিন আগে
থেকে ফের সেজে ওঠে।বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পরিবারের সদস্যরা মিলিত হন।
জানা গেছে আজো রীতি মেনে রথ যাত্রার পরে কটা শুভ দিন ধরে কাঠামো পুজোর মধ্যে দিয়ে এখানে পুজোর সূচনা হয়।সেই দিনই প্রতিমা তৈরির কাজে হাত দেন শিল্পীরা।শুক্লা
পঞ্চমী থেকে প্রতিপদ পর্যন্ত ছ’জন পুরোহিত পুজো করেন। ষষ্ঠীর দিন আমন্ত্রণ, অধিবাস ও বোধন হয়। সপ্তমীর দিন সকালে নবপত্রিকা স্নান করানো হয়। প্রাচীন ঐতিহ্য মেনেই সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও সন্ধি পুজো হয়। প্রাচীন নীতি মেনে সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত, তিনদিন এখনে কুমারী পুজো হয় যা এই বাড়ির মহিলারা সমস্ত পূজার কাজ করেন করেন। দশমীর দিন হয় অপরাজিতা পুজো। আগে এই পুজোতে বলি হলেও এখন আর বলি হয় না। এখন মাছ-মিষ্টি নিবেদন করা হয় মা দুর্গাকে। আগে আশপাশের গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পাত পেড়ে খেয়ে যেতেন  এই বাড়িতে। কিন্তু কালের নিয়মে সেসব এখন অতীত। তবে কলেবর কমলেও এখনও বেরা বাড়ির পুজা এলাকার মানুষের কাছে অন্য রকম নস্ট্যালজিয়া।তাই এই চারটা দিন এলাকার আট থেকে আশি সকল বয়সের মানুষেরা পুজা মন্ডপে ভীড় জমান।

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of