ফের বেসরকারি হাসপাতালে রোগীমৃত্যুর অভিযোগ– বিক্ষোভ বারাসতে

0
331

জাহির হোসেন– বারাসত
মাকে সুস্থ করে তুলবে বলে জুম্মার নামায পর্যন্ত পড়তে পারেনি সামিউল। দুপুরে কোনওরকমে খেয়ে মাকে চোখের ডাক্তার দেখাবে বলে বারাসত রওনা দিয়েছিল। কিন্তু সুস্থ শরীরে আর বাড়িতে ফিরতে পারেনি মা। মৃত্যু হয়েছে মায়ের। রবিবার সন্ধ্যায় বারাসতে একটি বেসরকারি হাসপাতালের ঘটনা। চিকিৎসকদের গাফিলতিতে রোগীর মৃত্যু হয়েছে এই অভিযোগ তুলে হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ দেখায় রোগীর পরিবারের লোকজন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে– মৃত রোগীর নাম রেহেনা বিবি (৪৭)। বাড়ি আমডাঙার দারিয়াপুর গ্রামে। পুলিশ এবং জেলা স্বাস্থ্য দফতরে হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ করেছে মৃতের পরিবার। জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রলয় আচার্য বলেন– অভিযোগ পেয়েছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে তবেই জানা যাবে কীভাবে মৃত্যু হয়েছে। তবে তার আগেই অবশ্য জেলা স্বাস্থ্য দফতেরর পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে– জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।
শুক্রবার বাম চোখের চিকিৎসা করাতে বারাসতের রেণুকা আই হাসপাতালে আসেন আমডাঙার দারিয়াপুরের বছর সাতচল্লিশের রেহেনা। চোখের সমস্যা থাকলেও শারীরিকভাবে তিনি সুস্থ ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। হাসপাতালে আসার পর বেশ কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কথা বলে চিকিৎসকরা। এ জন্য চোখে একটি ড্রপ এবং একটা ইনজেকশন দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রেহানার ছেলে সামিউলের দাবি– ইনজেকশন দেওয়ার মিনিট খানেকের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ে মা। হলুদ হয়ে যায় সারাশরীর। বিষয়টি কর্তব্যরত চিকিৎসকদের নজরে আনা হলে কোনও অসুবিধা হবে না বলে আশ্বস্ত করা হয় তাদের। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে ততই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় প্রায় আধঘণ্টা পর অন্যত্র চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে বলেন পরিবারের লোকজন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা করতে পারেনি বলে অভিযোগ। হাসপাতাল অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে না পারায় শেষপর্যন্ত রাস্তা থেকে একটা গাড়ি এনে রেহেনাকে মধ্যমগ্রামের নারায়ণী হাসপাতালে নিয়ে যান পরিবারের লোকজন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে।

এরপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মৃতের পরিবারের লোকজন। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে রেণুকা আই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান তারা। চিকিৎসকদের গাফিলতিতে তার মায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ রেহেনার ছেলে সামিউলের। তিনি বলেন– রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা বারবার বলা সত্ত্বেও কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের কথায় কোনওরকম কর্ণপাত করেনি। তাছাড়া অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও তারা করেনি বলে অভিযোগ। দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করলে মাকে বাঁচানো যেত– দাবি সামিউলের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here