সঞ্জয়কে হাসপাতালে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছিল– এটা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমান­ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

0
188


নসিবুদ্দিন সরকার– হুগলি­ সঞ্জয়û তো েকান মানসিক রোগী ছিল না যে তাকে হাসপতালে দড়ি দিয়ে হাত-পা বেঁধে রেখে চিকিৎসা করতে হবে? শুধু তাই নয়– শুনলাম অ্যাপেলো হাসপাতালে সঞ্জয়েরû ইউনিফর্ম তৈরির জন্য ৮০০ টাকা চাওয়া হয়েছিল। ওই টাকা দিতে না পারায় সঞ্জয়ûকে হাসপাতালে উলঙ্গ অবস্থায় ফেলে রেখে দেওয়া হয়েছিল। এটা আমার কাছে যেমন একটা অবর্ণনীয় দুঃখজনক ঘটনা তেমনি অত্যন্ত কষ্টদায়ক। রবিবার শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ডানকুনিতে সঞ্জয়ের বাড়িতে তার স্ত্রী ও পরিবারের লোকজনদের সমবেদনা জানাতে গিয়ে অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে ওই কথা বললেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন– তিনি সঞ্জয়ের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এসেছেন। সঞ্জয়ের স্ত্রী রুবি রায়ের কাছে সঞ্জয়ের মৃতু্যর দুঃখজনক ঘটনা শুনে স্তম্ভিত হয়ে যান। অ্যাপেলোতে ভর্তি ছিল সঞ্জয়। তাঁর চিকিৎসা চলছিল। হাসপাতাল থেকে বারবার তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের লোকদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল সঞ্জয় ভালো আছে বলে। কিন্তু হাসপাতালের বেডে সঞ্জয়ের হাত-পা বাঁধা ছিল। খাবার জল চেয়ে ছটফট করলেও তাঁকে জল খেতে দেওয়া হয়নি। এটা অত্যন্ত অমানবিক ঘটনা বলে মন্তব্য করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সঞ্জয়ের স্ত্রী রুবি রায়কে ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে বলেছেন। যেভাবে হাত-পা বেঁধে ফেলে রেখে দেওয়া হয়েছিল– তা এক কথায় মানবাধিকার লঙ্ঘন ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। থানায় অভিযোগ হবে। তদন্ত হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যা বলেছে সে তো আর আমার কাছে রামায়ণ– গীতা হবে না। এর উপযুক্ত তদন্ত প্রয়োজন বলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিমত। আমাদের নেত্রী বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এসব বিষয়ে কঠোর মনোভাব নিয়েছেন। সঞ্জয় অত্যন্ত পপুলার ছেলে ছিল। পিজিতে তাকে শেষ মুহূর্তে ভর্তি জন্য সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। আরও আঘাতজনক ঘটনা হল অ্যাপোলো থেকে যখন পিজিতে নিয়ে আসা হয় তখনও তাদের কাছ থেকে অ্যাম্বুলেন্স চার্জ বাবদ ৩৪০০-৩৬০০ টাকা আদায় করা হয়। কল্যাণ বন্দ্যোপাদ্যায় বলেন– তিনি কোনও মতামত দিচ্ছেন না। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করবে।
অন্যদিকে– সঞ্জয়ের স্ত্রী রুবি রায় বলেন– আমার যে মানুষটাকে ওরা (অ্যাপোলো) খুন করেছে তার জবাবদিহি করতে হবে। না হলে ওই বেসরকারি নার্সিংহোমকে বন্ধ করে দিতে হবে। আগেও আমার মতো অনেকের কপাল পুড়েছে ওই নার্সিহোমে চিকিৎসা করাতে গিয়ে। তাঁদেরও অবস্থা আমার মতো হয়েছে। তাঁরা যদি আমার মতো সামনে আসত তাহলে আমার মানুষটা বেঁচে যেত। আমরা ভালো চিকিৎসার জন্য ওখানে গিয়েছিলাম। ওরা কেন আমাদের বলেনি রোগী ভালো নেই– অন্য কোথাও নিয়ে যান। ওরা কেন বলেছে তাদের রোগী ভালো আছে। সুুস্থ মাথায় জল না দিয়ে ভেন্টিলেশনে ফেলে রেখে ওরা খুন করেছে। এর শেষ দেখে ছাড়ব। এফাইআর করতে যাব। আগুন ঠান্ডা হতে দেব না। আমার ৩০ বছর বয়সি মানুষটা চলে গেল। রেখে গেল তার হতভাগ্য দীন-দুঃখী এক স্ত্রী ও তার দু’বছরের ফুটন্ত এক নিষ্পাপ ফুলের মতো পিতৃহারা শিশুকে। এখন আমি কি করব! কেমন করে ওই নিষ্পাপ ফুলের মতো বাবা হারানো শিশুকে মানুষ করে তুলব? অল্প বয়সে স্বামীকে হারিয়ে এমনই প্রলাপ বকছেন সঞ্জয়ের স্ত্রী রুবি রায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here