রাবাতায়ে মাসাজিদ-এর ওয়েবসাইট উদ্বোধন মসজিদ-মক্তব ও ইমামদের উন্নয়নে সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে­ইমরান

0
221

কলম প্রতিবেদক­শুধু রাজ্য সরকার বা ওয়াকফ্ বোর্ড নয়– ইমামদের সাম্মানিক বৃদ্ধির দিকে নজর দিতে হবে মুসলিম সমাজকেও। আমাদের গ্রাম বা মহল্লায় যে মসজিদ রয়েছে– সে মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ ও ইমাম-মোয়াজ্জেনদের মর্যাদা এবং বর্তমান জীবনযাত্রার মান অনুযায়ী সাম্মানিকের ব্যবস্থা করা একইসঙ্গে সমাজেরও দায়িত্ব। বিগত এক দশকে বাংলার মুসলমানদের অর্থনৈতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবস্থার বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে মধ্যবিত্ত ও এক উচ্চবিত্ত শ্রেণির। মসজিদ-মক্তবের উন্নয়ন ও বিকাশে তাঁদের নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। মসজিদের কল্যাণমূলক সংস্থা রাবাতায়ে মাসাজিদ ও আইম্মা’র উদ্যোগে রবিবার উর্দু অ্যাকাডেমিতে ‘মসজিদ– মক্তব ও ইমামদের জন্য’ অনুষ্ঠিত এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বলেন– সাংসদ ও দৈনিক ‘কলম’-এর সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরান।
ইমরান আরও বলেন– ইমাম-মোয়াজ্জেনদের সম্মানিক বৃদ্ধির যে দাবি উঠেছে– ওয়াকফ্ বোর্ডকে তা নিয়ে ভাবতে হবে। তবে এ কথা স্বীকার করতে হবে– পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওয়াকফ্ বোর্ডের মাধ্যমে ইমাম ও মোয়াজ্জেনদের ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন। ওয়াকফ বোর্ডের উদ্দেশ্যে তাঁর পরামর্শ– রাজ্যে বেদখল হয়ে থাকা ওয়াকফ্ সম্পত্তিগুলিকে উদ্ধার করে তার বিকাশ করতে পারলে প্রচুর আয় হবে। যা ইমাম ও মোয়াজ্জেনদের ভাতাসহ মুসলিম সমাজের উন্নয়নে ব্যবহার করা যাবে। তিনি এ প্রসঙ্গে পঞ্জাব– হরিয়ানা ও কর্নাটক ওয়াকফ্ বোর্ডের নজির পেশ করেন।
ইমরান আরও বলেন– ইমামদের অন্য কাজেও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যেমন ইমামতির পাশাপাশি নিরক্ষরতা দূরীকরণ– প্যারা-চিকিৎসা সহ নানা ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে একদিকে তাঁদের আয়ের ব্যবস্থা ও অন্যদিকে সমাজ উন্নয়নের কাজ করা যেতে পারে।
বিশ্বজুড়ে যে অস্থিরতা চলছে– তা নিয়ে এ দিন যথেষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আহমদ হাসান ইমরান। তিনি বলেন– মুসলিমরা এক সময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সারা পৃথিবীকে নেতৃত্ব দিয়েছে। সেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বর্তমানে ইউরোপ এগিয়ে চলছে। মানব সমাজের কল্যাণের পরিবর্তে মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে অবলীলায় রক্ত প্রবাহের প্রতিযোগিতায় নেমেছে তারা। সন্ত্রাস কিংবা অযথা রক্তপাত ইসলাম ধর্মের বিরোধী। কিন্তু মুসলিম দেশগুলিতে হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্তরে কোনও প্রতিবাদ নেই বলে মন্তব্য করেন সাংসদ ইমরান। তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য– বর্তমান বিশ্বে গণতন্ত্র শ্লোগান হিসাবেই রয়ে গিয়েছে। গণতন্ত্র ও মানবতার র*পায়ণ ও সমাজকে দিশা দেওয়ার ক্ষেত্রে আলেম-উলামাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের কথা বলেন তিনি। একইসঙ্গে সমাজকে ইমাম সাহেবদের যথাযোগ্য সম্মান প্রদানেরও পরামর্শ দেন তিনি।
মসজিদ ও মক্তব সম্পর্ক বলতে গিয়ে ইমরান সাহেব বলেন– এই দু’টি হল মুসলিম সমাজের স্তম্ভ। কিন্তু এগুলির প্রভাব বিনষ্ট করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে কিছু মানুষ। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করার কথা বলেন ইমরান সাহেব।
দাবি-দাওয়া আদায়ে ইমাম-মোয়াজ্জেনদের ঐক্য বজায় রাখার আবেদন জানান সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান। তিনি বলেন– ইমামদের বিচ্ছিন্নতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ কায়েম করার লক্ষ্যে সচেষ্ট রয়েছে কিছু মানুষ। তাদের প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করতে হবে। তাঁর মতে– ইমামদের মধ্যে ঐক্য বজায় থাকলে আরও গঠনমূলক কাজে অংশ নিতে পারবেন ইমামরা। একইসঙ্গে এ দিন তিনি বলেন– ওয়াকফ্ বোর্ডের দিকে তাকিয়ে রয়েছে বাংলার মুসলিম সমাজ। কিন্তু সেখানে দলাদলি বা অনিয়ম হলে তা লজ্জাজনক।
এ দিন সমস্ত মসজিদ ও ইমামদের নানা প্রয়োজনীয় তথ্য একছাতার তলায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে এ দিন ‘রাবাতায়ে মাসাজিদ ডট কম’ নামে একটি নতুন ওয়েবসাইট উদ্বোধন করা হয়। নতুন ওয়েবসাইটটি উদ্বোধন করেন সাংসদ আহমদ হাসান ইমরান। কামরুজ্জামানের মতে ইমাম ভাতা বিতরণে স্বচ্ছতা আনতেও সহায়তা করবে এই ওয়েবসাইট।
এ দিনের সভায় বিভিন্ন জেলা থেকে বড় সংখ্যায় ইমাম-মোয়াজ্জেন উপস্থিত হয়েছিলেন। তাঁরা ইমামদের ন্যূনতম বেতন দশ হাজার টাকা ও মোয়াজ্জেনদের ন্যূনতম বেতন ছয় হাজার টাকা ধার্য করার দাবি জানান।
এ দিনের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন– সংগঠনের সভাপতি মুফতী ইমদাদুল্লাহ্– সহ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন কাশেমী– নুরুল ইসলাম– সমাজসেবী হাফিজুর রহমান– ইদরিশ মণ্ডল প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here