পিজি নার্সিংহোমের তিন অংশীদার গ্রেফতার

0
171

নিজস্ব প্রতিবেদক– বর্ধমানঃ বর্ধমানের পিজি নার্সিংহোমের তিন অংশীদারকে গ্রেফতার করল পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে ওই নার্সিংহোমের এক কর্মীকেও। ধৃতরা হলেন সেখ জয়নাল– মুন্সি মহম্মদ হাসিবুল কবীর ও আবদুল লতিব। এ ছাড়াও নার্সিংহোমের এক কর্মী সৌভিক সাঁতরা। ধৃতদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার পাশাপাশি জোর করে টাকা নেওয়ার মামলা রুজু করেছে পুলিশ। সাত দিনের হেফাজত নেওয়ার আবেদন করে ধৃত তিন অংশীদারকে সহ চারজনকেই এ দিন বর্ধমান আদালতে তোলা হয়েছিল। ধৃত তিন অংশীদারকে দু’দিনের পুলিশ হেফাজত এবং কর্মী সৌভিককে দু’দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে ভারপ্রাপ্ত সিজিএম সোমনাথ দাস।
ঝারখণ্ডের শিকারিপাড়ার মুলটি গ্রামের তপন লেটের প্রসূতি কন্যা চুমকিকে কয়েকদিন আগে ওই নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়েছিল। সন্তানের জন্ম দেওয়া পরে চুমকি লাগাতার রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। এই কারণেই বীরভূমের রামপুরহাট জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দিয়েছিল। কিন্তু তাঁকে বিএমসিএচে ভর্তি না করে অ্যাম্বুলেন্সের চালকের কথায় প্রভাবিত হয়ে নবাবহাটের ওই পিজি হাসপাতালে ভর্তি করে তাঁর পরিজনেরা। মেয়ে বর্ধমানে চিকিৎসাধীন থাকলেও তপনবাবু বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন। সেখানেই তাঁর মৃতু্য হয়। তারপরেই গ্রামবাসীরা চুমকিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যেতে বর্ধমানের ওই নার্সিংহোমে এসেছিলেন। কিন্তু নার্সিংহোমের মোটা অঙ্ক বিলের কথা শুনার পরেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। নার্সিংহোমের দাবি– ৪২ হাজার ৪২০ টাকা বিল বাকি রয়েছে চুমকির। সে টাকা না মেটালে রোগী ছাড়া হবে না বলেই জানিয়েছিল নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ—এমনি অভিযোগ চুমকির প্রতিবেশীদের। এরপরেই রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার রাতে ওই নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে বর্ধমান থানাতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বর্ধমান ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির জনস্বাস্থ্য কর্মাধক্ষ্য সঞ্জয় কোঙার। তাদের সেই অভিযোগ ভিত্তিতেই পুলিশ জয়নাল ও হাসিবুলদের গ্রেফতার করে এবং তাদের আদালতে পাঠায়। ধৃতদের বিরুদ্ধে মামলা করার ধরন নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলেন ধৃতদের আইনজীবী স্বপন ব্যানার্জি। পাশাপাশি তিনি জামিনের আবেদন করেন। সেই আবেদনের বিরোধিতা করেন সরকারি পক্ষের আইনজীবী। দু’পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত ধৃতদের জামিন নাকচ করেদেন। স্বপনবাবু বলেন– ‘মামলাকারী লিখিতভাবে পুলিশের কাছে যে অভিযোগ করেছেন তাতে তিনি লিখেছেন লোকমুখে শুনে ও কাগজে প্রকাশিত খবর পড়েই তিনি এই অভিযোগ করছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা সম্পূর্ণ আইন-বিরোধী। এটা পরিকল্পিত।’
এ দিকে ওই নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন রোগীদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার দিন পর্যন্ত প্রায় ৩০ জনের রোগী ভর্তি ছিল ওই নার্সিংহোমে। এ দিন সকালে নার্সিংহোমে পৌঁছে দেখা গেলে খাঁ-খাঁ করছে নার্সিংহোম। দু-একজন মহিলা স্টাফ ছাড়া কেউ ছিল না নার্সিংহোমে। তাদেরই একজন নাম প্রকাশ না করে বলেন– ‘চুমকির বাবার মৃতু্যর সঙ্গে নার্সিংহোম কোনওভাবেই যুক্ত নয়। নার্সিংহোম বন্ধ করতেই পরিকল্পিতভাবেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here