ধোনির দূরন্ত শতরানে মাতোয়ারা রবিবাসরীয় ইডেন

0
176


সেখ আবুল হোসেন
‘এম এস ধোনি– আনটোল্ড স্টোরি’ সিনেমার চিত্রনাট্যে ধোনি রাঁচিতে নিজের স্কুল ‘ডিএভি জওহর বিদ্যা মন্দির’-এর মাঠে যখন ব্যাট হাতে বড় বড় শট খেলা শুরু করেছিলেন– তখন ওই স্কুলের একদল খুদে পডYয়া গোটা এলাকায় খবর ছড়িয়ে দেয়– ‘মাহি মার রাহা হ্যায়’– ‘মাহি মার রাহা হ্যায়’। ধোনির পরিচিত ব্যাটিং ঝড়ের খবর শুনে সিনেমায় মুহূর্তের মধ্যে ওই স্কুল মাঠের আশপাশটা ভরে গিয়েছিল পাড়া-প্রতিবেশী এবং স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের ভীড়ে। এ দিনের ইডেনেও ঠিক একই চিত্রনাট্য। আগের দিন বিজয় হাজারেতে কর্নাটকের বিরুদ্ধে সামান্যের জন্য অর্ধশতরান মিস করা ধোনি এ দিন ইডেনে ছত্তিশগড়ের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে রীতিমতো জ্বলে উঠলেন। ছয় মেরে অর্ধশতরান করার পাশাপাশি ছয় মেরে ধোনি সেঞ্চুরি হাঁকান। এ দিনও বোধহয় ইডেনে মারমুখী মেজাজে ধোনিকে ব্যাট করতে দেখে কেউ কলকাতার আনাচে-কানাচে ‘মাহি মার রাহা হ্যায়’ কোরাসের সাহায্যে খবরটা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। নইলে বিজয় হাজারের এমন গুরুত্বহীন ম্যাচে ফাঁকা ধু-ধু করতে থাকা ইডেনের গ্যালারি বেলা বাড়তে বাড়তে ক্রমে ভরে যেত না।
ঘরের মাঠে সদ্য শেষ হওয়া ইংল্যান্ড সিরিজের আগেই ধোনি ভারতীয় সীমিত ওভার ক্রিকেট দলের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। এর মাঝে আইপিএলেও তাঁর টিম ফ্র্যাঞ্চাইজি রাইজিং পুণে সুপার জায়ান্টস আবার ধোনিকে দলের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছিল না তাঁর। জাতীয় দলের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও আসন্ন জুনে ইংল্যান্ডে আয়োজিত হতে চলা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে টিম ইন্ডিয়ার জার্সিতে ধোনির খেলার কথা। সেটাকে মাথায় রেখেই নাকি মাহি রাজ্য ক্রিকেট দল ঝাড়খণ্ডের হয়ে বিজয় হাজারে ট্রফিতে খেলার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু রাজ্য দলের হয়ে প্রথম ম্যাচে তিনি দলকে জেতাতে ব্যর্থ হন। তিনি বড় রান করতে না পারায় তাঁর দলও কর্নাটকের কাছে বড় রানের ব্যবধানে হার স্বীকার করে। মাথায় সেই পাহাড়প্রমাণ চাপ নিয়ে ক্যাপ্টেন কুল এ দিন অবশ্য ব্যাট হাতে নিজেকে ছাপিয়ে গেলেন। রবিবাসরীয় ইডেনে তাঁকে দেখা গেল সেই আগের মেজাজে। হাঁকালেন চোখ ধাঁধানো একটি ঝাঁ-চকচকে সেঞ্চুরি। শতরান হাঁকানোর পর ধোনি নিজের রানের গতি আরও খানিকটা বাড়িয়ে দিলেন। তারপর আরও দু’টি বাউন্ডারি এবং ওভারবাউন্ডারি মারেন তিনি। এমনকী দলের দায়িত্ববান নেতার মতো ইনিংসের শেষ বলটাও খেলে ঝাড়খণ্ডকে ক্রমে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেন ক্যাপ্টেন কুল।
আগের দিন শক্তিশালী কর্নাটকের বিরুদ্ধে এবারের বিজয় হাজারে ট্রফিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সামান্য একটা ভুলের কারণে মাত্র ৪৩ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ঝাড়খণ্ড নেতা। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে– ধোনি ওই ম্যাচে ক্রিজে আর কিছুক্ষণ টিকে থাকতে পারলে– ঝাড়খণ্ডকে ৫ রানে ম্যাচটা হারতে হতো না। বিষয়টি নিজেও বেশ ভালো করেই জানতেন ক্যাপ্টেন কুল। আর তাই প্রতিযোগিতায় নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে এ দিন ১০৭ বলে ১২৯ রানের একটি অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলে বসলেন মাহি। মূলত তাঁর এই ইনিংসটি সাজানো ছিল ১০টি চার এবং ৬টি বিশাল ছয় দিয়ে। এটা ছিল ধোনির ঘরোয়া একদিনের ক্রিকেটের সপ্তম সেঞ্চুরি। পাশাপাশি রাজ্যদলের নেতার ভূমিকায় ইডেনে প্রথম শতরানও। একটা সময় টিম ঝাড়খণ্ড যখন ৫৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে রীতিমতো ধুঁকছিল– তখনই ক্রিজে নেমে সপ্তম উইকেটে শাহবাজ নাদিমের সঙ্গে ১৫১ রানের পার্টনারশিপ খেলেন ধোনি। ৯০ বলে ৫৩ রান করেন ঝাড়খণ্ড দলের অলরাউন্ডার ক্রিকেটার শাহবাজ নাদিম। মূলত দলের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারের ব্যাটিং ঝড়ের সুবাদে ৫০ ওভারে ২৪৩ রান তোলে টিম ঝাড়খণ্ড।
২৪৪ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে ৩৮ ওভার ৪ বলে মাত্র ১৬৫ রান করে অলআউট হয়ে যায় ছত্তিশগড়। অধিনায়ক মুহাম্মদ কাইফ ২৩ রানের মাথায় ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হওয়ার পর ছত্তিশগড়ের আর কোনও ব্যাটসম্যান ঝাড়খণ্ড বোলারদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারেননি। তিনটি করে উইকেট তুলে নেন শাহবাজ নাদিম এবং বরুণ অ্যারোন। তুলনায় কমজোর ছত্তিশগড়কে সহজে ৭৮ রানে হারানোয় আগের দিনে ইডেনে কর্নাটকের বিরুদ্ধে পাওয়া ক্ষতের ওপর এ দিন কিছুটা হলেও প্রলেপ লাগাতে সফল হল টিম ঝাড়খণ্ড।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here