এবিভিপির মারে অধ্যাপকের পাঁজর ভেঙেছে– কিডনিতে চোট

0
197


নয়াদিল্লি– ২৬ ফেব্র&য়ারিঃ দিনকয়েক আগে দিল্লির রামজা কলেজের বাইরে অপেক্ষমান অধ্যাপক প্রশান্ত চক্রবর্তীকে এত নির্দয়ভাবে এবিভিপির ছাত্ররা পিটিয়েছিল যে– ওই অধ্যাপকের বুকের পাঁজর ভেঙে গিয়েছে। এ ছাড়া উপর্যুপরি লাথির ঘা খেয়ে অধ্যাপক চক্রবর্তীর ডানদিকের কিডনিও আঘাত পেয়েছে। একইসঙ্গে মেরুদণ্ডের হাড় সরে গিয়েছে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের নামকরা অধ্যাপক প্রশান্ত চক্রবর্তী ফেসবুকে এইসবের বিবরণ দিয়েছেন। তিনি এখন তলপেটে ব্যথার জন্য চিকিৎসা করাচ্ছেন। ডাক্তররা বলেছেন– ভারী বুট দিয়ে আঘাত করায় তার বুকের কয়েকটি পাঁজর ভেঙে গিয়েছে। এইসব সমস্যার জন্য তাঁকে বেশ কিছুকাল চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে বলেছেন চিকিৎসকরা। অধ্যাপক চক্রবর্তী দ্রুত সেরে উঠে ছাত্রছাত্রীদের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। অধ্যাপক চক্রবর্তী এখনও সেদিনের রক্তাক্ত অভিজ্ঞতার কথা মনে করেন আর শিউরে ওঠেন। রামজা কলেজের বাইরে আরও অনেকের সঙ্গে তিনি অপেক্ষা করছিলেন। এমন নয় যে– পথে লোক ছিল না– অনেক লোক ছিল। কিন্তু মারমুখী এবিভিপি ছাত্ররা তার দিকেই তেড়ে আসে। তাকে কিল-চড়-ঘুসি মেরে ফেলে দেওয়ার আগে একজন বলে ওঠে– ‘মারো শালা আইসাওলাকো।’ ‘আইসাওলাকো’ মানে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন– যাদের সেদিন বেদম পেটায় এবিভিপি সমর্থকরা।
অধ্যাপক চক্রবর্তী ফেসবুকে লিখেছেন– ‘খুব অবাক হলাম যখন দেখলাম যে– আমি মার খাচ্ছি দেখেও পুলিশ এগিয়ে এল না। তাহলে এরা দাঁড়িয়েই বা ছিল কেন? জানতে ইচ্ছে করে? এক মারমুখী ছেলে আমার গলায় একটি মাফলার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে আমাকে মারার চেষ্টা করে। তখন পুলিশ প্রথম সক্রিয় হওয়ায় ওরা পালায়।’ অধ্যাপক চক্রবর্তী ফেসবুকে প্রতিদিনই কিছু না কিছু লিখছেন। ২৫ ফেব্র&য়ারি লিখেছেন– ‘আশ্চর্য– এত বড় ঘটনার পরও কোনও তদন্ত হল না। পুলিশ আমাকে এভাবে মারার জন্য কাউকে আটক করেছে বলেও তো জানি না। সত্যিই এখন আমরা এক ফ্যাসিস্ট জমানায় বাস করছি। ছাত্র এবং সমব্যথীদের থেকে বিপুল সমর্থন পেয়েছি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here