অনলাইনে নয়– বাস্তব জগতে বাস করো­ কেলিয়ানে কনওয়ে

0
227


ওয়াশিংটন­ ফেসবুক– টু্যইটার– আইএমও–হোয়াটসঅ্যাপ– হাইক প্রভৃতি কথিত ‘সোশ্যাল মিডিয়া’ এখন শুধু তরুণ প্রজন্মেরই নয়– বরং গৃহবধূ থেকে শুরু করে মধ্যবয়স্কদেরও জীবনকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। সোশ্যাল মিডিয়া যেমন তথ্য ও স্বাধীন মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে বহু দেশেই বিপ্লব নিয়ে এসেছে– তেমনি বিনা ব্যয়ে সংযোগ ও ‘বন্ধুত্ব’ স্থাপনের ক্ষেত্রেও দেশ-কাল-পাত্রের সীমারেখা মুছে দিয়েছে। এর ভালো দিক অবশ্যই রয়েছে কিন্তু ক্ষতিকর প্রভাবও প্রবলভাবে সামনে আসছে। বিশেষ করে– চ্যাটিং– ভিডিয়ো আপলোড– ফোটো বিনিময় প্রভৃতি আমাদের ভারতেও সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধকে ক্রমবর্ধমান হারে বিনষ্ট করে দিচ্ছে। এর ওপর রয়েছে ফেসবুক– হোয়াটসঅ্যাপ ও ইন্টারনেটে আসক্ত হওয়ার বিপদ। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা তথাকথিত সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় ব্যয় করছে। অনেকে না ঘুমিয়ে সারারাত ধরে এই নেশায় লিপ্ত থাকে। এর ফলে একদিকে যেমন পরিবার– আত্মীয়-স্বজন এবং পরিচিত বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক থাকছে না অন্যদিকে লাইফ স্টাইল পরিবর্তিত হয়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য ও মানসিক স্থৈর্যও বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই সম্পর্কে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ার এক কর্মকর্তা বলেছেন– ‘আমরা আমাদের সার্ভিসকে ‘সোশ্যাল মিডিয়া’ বলে অভিহিত করি না। এটা মিডিয়ার দেওয়া নাম। অনেকে বলছেন– সামাজিক মাধ্যম না বলে ‘অসামাজিক মাধ্যম’ বলে অভিহিত করা হলেও অতু্যক্তি হবে না।
সারাবিশ্বের এক সচেতন অংশ ও সমাজ বিজ্ঞানীরা এখন ফেসবুক– হোয়াটসঅ্যাপ প্রভৃতির ক্ষতিকর দিকগুলির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে শুরু করেছেন। বহু স্থানে শুধু মিডিয়া ক্যাম্পেন নয় বরং এর বিরুদ্ধে রীতিমতো আন্দোলনও শুরু হয়েছে। স্কুল-কলেজ এবং চার্চের মাধ্যমে পডYয়া ও অভিভাবকদের সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সম্প্রতি খ্রিস্টান জগতের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস-ও এর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেছেন– এমনকী খাবার টেবিলেও নতুন প্রজন্ম পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা না বলে স্মার্ট ফোনে চ্যাটিং বা টেক্সটিং-এ ব্যস্ত থাকছে।
এবার এ নিয়ে সরব হয়েছেন যুক্তরাষ্টেÉর হোয়াইট হাউজের পরামর্শদাত্রী কেলিয়ানে কনওয়ে। তিনি কলেজ ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে ‘কনজারবেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সে’ বলেছেন– প্রথমেই বলব– ‘অনলাইনে বাস কোরো না বরং বাস করো বাস্তব সময়ে। আমি অবাক হয়ে যাই যখন দেখি লক্ষ লক্ষ মানুষ অনলাইনে বাস করছেন (অর্থাৎ সবসময় অনলাইনে ব্যস্ত থাকছেন)। কেলিয়ানে কনওয়ে ওয়েবে নেশাগ্রস্তদের প্রতি লক্ষ করেই বলেছেন তারা ফেসবুক– টু্যইটার ও অন্য সোশ্যাল সাইটে প্রতিদিন প্রচুর সময় অপচয় করছে।
কনওয়ে ওই সম্মেলনে বলেন– মনে রেখো– এটা হচ্ছে কমিউনিকেশন বা যোগাযোগের একটি মাধ্যম মাত্র। কিন্তু এটা বাস্তবিক যোগাযোগ নয়। আর এটা আসল ও বাস্তব জীবনও নয়। কনওয়ে-কে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে কলেজের রক্ষণশীল ছাত্রছাত্রীরা সংস্কাকরমুক্ত আধুনিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে কী করে সঠিকভাবে চলতে পারে। তিনি তাদের ক্লাবে যোগ দিতে– চিঠিপত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করার এবং নিজের কাছের ও পরিচিত মানুষদের সঙ্গে কথাবার্তা বলার পরামর্শ দেন। তিনি আরও বলেন– প্রয়োজনমাফিক অনলাইন থেকে দূরে থাকো এবং তোমরা বাস্তব সময়ে ও বাস্তব জগতে বাস করার চেষ্টা করো। আর মানুষের সঙ্গে কথোপোকথন করার বিষয়টিও ভুলে যেও না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here