মুসলিম! মার্কিন বিমানবন্দরে ২ ঘণ্টা আটকে ছিলেন মুহাম্মদ আলির পুত্রও

0
197


ওয়াশিংটন– ২৫ ফেব্র&য়ারিঃ বাবা মুহাম্মদ আলি তার মুষ্ঠির জোর আর ক্ষিপ্রতার শক্তিকে রিংয়ে অনবরত প্রমাণ করে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছিলেন। আর ছেলে জুনিয়ার মুহাম্মদ আলি অবশ্য আটকে গেলেন। তবে রিংয়ে নয়– তার দেশেরই এক বিমানবন্দরে। নিজের দেশের এয়ারপোর্টে তাকে ঠায় দু’ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকলে হয়– পিতৃপ্রদত্ত নামের জন্য।
ঘটনা গত ৭ ফেব্র&য়ারির। জুনিয়র আলি এবং তার মা খালিলা আলির সঙ্গে ফিরছিলেন জামাইকা থেকে। কিন্তু ফ্লোরিডার ফোর্ট লউডারডেল-হলিউড বিমানবন্দরে অভিবাসন অফিসারদের এমন ট্যাঁরাব্যাকা প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে তা বোধহয় স্বপ্নেও ভাবেননি। তার মা– মুহাম্মদ আলির দ্বিতীয় স্ত্রীকে দু-একটি প্রশ্নেরই পরই ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু জুনিয়র আলিকে নিয়ে যাওয়া হয় এয়ারপোর্ট সংলগ্ন একটি ছোট্ট ঘরে। দু’ঘণ্টা টানা জেরা চলে তার! এমনকী ওই সময়ে তার মাও জানতে পারেননি তিনি কোথায়– কী অবস্থায় আছেন।
জুনিয়র আলির মুখপাত্র ক্রিস মানসিনি সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন– কিংবদন্তি মুষ্ঠিযোদ্ধার পুত্রকে বারবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল– তিনি মুসলিম কি না। আর এই নামটিই বা তিনি পেলেন কোত্থেকে!
এই ঘটনায় রীতিমতো স্তম্ভিত হয়ে যান ৪৪ বছরের জুনিয়র আলি। হজম করতেই তার লেগে গিয়েছে বেশ কয়েক দিন। তিনি এবারে ভাবছেন– স্বরাষ্টÉ মন্ত্রকে অভিযোগ জানাবেন। তার মুখপাত্রও সাংবাদিকদের বলেছেন– এটা যে মুসলিম বিদ্বেষী ঘটনা তা নিয়ে এখন আর কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই।
জুনিয়র আলিকে যেদিন আটকানো হয়েছিল ঠিক তার চারদিন আগেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুসলিম বিরোধী নিষেধাজ্ঞায় স্থাগিতাদেশ দেয় ফেডারেল আপিল কোর্ট। সাত দেশ থেকে মুসলিমদের প্রবেশে ট্রাম্পের সেই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিতর্কের ঝড় তখন তুঙ্গে আমেরিকার রাজনৈতিক অঙ্গনে। যার জোর ঝাপ্টায় দেশের সামাজিক পরিসরেও উঠতে থাকে নানা প্রশ্ন।
জুনিয়র আলির অভিযোগ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি আমেরিকার কাস্টমস এবং সীমান্ত নিরাপত্তা দফতর। তাদের তরফে শুধু বলা হয়েছে– অন্য দেশ থেকে যারা আমেরিকায় এসেছে কিংবা ফিরেছে এই সময়ে– তারা প্রত্যেকেই পর্যবেক্ষণের আওতায় ছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সমাজতাত্ত্বিকরা বলছেন– আমেরিকায় এখন যা পরিস্থিতি– তাতে আলি পুত্রকে এইভাবে হেনস্থা তেমন অবাক হওয়ার মতো কোনও ঘটনা নয়। পাসপোর্টে কিংবা আইডি কার্ডে নামে মুসলিম গন্ধ থাকলেই হল। তিনি আলির পুত্রই হোন কিংবা কোনও ছাপোষা শিক্ষক। তার সেলিব্রিটি তকমা থাক বা নাই থাক। স্বচ্ছন্দভাবে চলাফেরা এখন নির্ভর করছে বরাতজোরের ওপর। অভিবাসন অফিসারদের শ্যেনদৃষ্টি একবার পড়লেই হল। দু-চার ঘণ্টা কোন ছাড়– দু-চারদিনও জেরা সামলাতে হতে পারে তাকে।
শুক্রবার এই ঘটনা জনসমক্ষে আসার পর সোশ্যাল সাইটে বহু মানুষ উগরে দিচ্ছেন ক্ষোভ। কেউ কেউ আবার মজা করে লিখছেন– জুনিয়র আলির জায়গায় যদি সিনিয়র আলি থাকতেন তাহলে হয়তো গল্পটা অন্যরকম হত! তার মুষ্ঠির জোর কত সেটা বোধহয় এই যাত্রায় অভিভাবাসন কর্তাদের টের পাইয়ে দিতেন হারে হারে!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here