কতটা সুরক্ষিত আমেরিকা– ট্রাম্প সরকারকে প্রশ্ন শ্রীনিবাসের স্ত্রী’র

0
206


কানসাস– ২৫ ফেব্র&য়ারি­ কয়েক দিন ধরেই মনের ভিতর কেমন যেন কু-ডাকছিল শ্রীনিবাসের স্ত্রী’র। কারণ নয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশগুলো কেমন যেন ভয় ধরাচ্ছিল বুকে। স্বামীকে বলেও ছিলেন– আমেরিকায় এখনও থাকা কি তাঁদের জন্য নিরাপদ? অবশ্য সে কথায় আমল দেননি স্বামী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্ত্রীর সেই আশঙ্কাই সত্য প্রমাণিত হয়ে গেল। আগামী দিনের জন্য যে স্বপ্ন দেখেছিলেন এই দম্পতি– তা আর পূরণ হল না। এক নিমেষে ভেঙে চুরমার তাঁদের দু’জনে মিলে দেখা সেই স্বপ্ন। এখন চোখে আর কোনও স্বপ্ন নয়। বরং এখন চোখ থেকে শুধুই নেমে আসছে জলের ধারা। আর অবশ্যই শূন্য বুকে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘আতঙ্ক’। যা প্রতিদিন– প্রতি সেকেন্ডে যেন শ্রীনিবাসের স্ত্রীকে একটু একটু করে গ্রাস করছে।
দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকায় রয়েছেন হায়দরাবাদের বাসিন্দা শ্রীনিবাস কুচিভোটলা। উচ্চশিক্ষা থেকে চাকরি– সবই করেছিলেন আমেরিকা থেকে। আর সেখানেই আচমকা নেমে এল জীবনের শেষ মুহূর্তও। তাঁর স্বামীর কি দোষ ছিল? কেন তাঁকে এভাবে অকালে চলে যেতে হল? এখন এইসব প্রশ্নই তাড়া করে বেড়াচ্ছে প্রয়াত শ্রীনিবাসের স্ত্রী সুনয়না কুচিভোটলাকে। চোখের দু’টো ভেজা পাতা যেন কিছুতেই শুকতে চাইছে না। ফের আরেক আশঙ্কা। আমেরিকায় কতটা সুরক্ষিত সংখ্যালঘুরা? শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে সেই প্রশ্নই ছুড়ে দিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের দিকে।
ট্রাম্প প্রশাসনের নয়া এক্সিকিউটিভ নির্দেশের পর ও প্রশাসনের বাতলে দেওয়া গাইডলাইনে প্রথম থেকেই একটু চিন্তায় ছিলেন সুনয়না। স্বামীকে মাঝে মধ্যেই সেই উদ্বেগের কথা বলেও ছিলেন। কিন্তু তাঁর স্বামী তাঁকে আশ্বস্ত করে বলতেন– ‘ভালো মানুষদের সব সময় ভালো হয়। আমেরিকাতে সব সময় ভালোই হয়।’ কিন্তু কি হয় তাঁর স্বামীর সঙ্গে? এ দিন সংবাদমাধ্যমের কাছে সুনয়না বলেন– ‘অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমার স্বামী আমেরিকায় এসেছিলেন। ৬ বছর ধরে একটি মার্কিন সংস্থায় কাজ করেছেন। এখানেই আমরা আমাদেরû বাড়িও তৈরি করেছি। েকাম্পানির উন্নতি কীভাবে হবে– সে কথা যেমন আমার স্বামী ভাবতেন– তেমনটাই ভাবতেন এই দেশটার জন্যও। এই সব কিছুর পর কি আমার স্বামীর এই ধরনের মৃতু্য প্রাপ্য?’ চোখের জল যেন বাঁধ মানছিল না সুনয়নার। গলা ধরে আসছিল এসব বলতে গিয়ে। কিন্তু তাঁকে যে তাঁর প্রশ্নের জবাব পেতেই হবে। থামলে যে হবে না। ফের সংবাদমাধ্যমের কাছে বলতে শুরু করেন সুনয়না। তিনি বলেন– ‘আগে বহুবার এ ধরনের বন্দুক হামলার কথা সংবাদপত্রে পড়েছিলাম। সেই সময়ই স্বামীকে প্রশ্ন করেছিলাম– কতটা সুরক্ষিত আমেরিকা আমাদের জন্য? আমরা এখানে থেকে ঠিক করছি তো? শ্রীনিবাস বলেছিলেন– ভালো মানুষদের সঙ্গে সব সময় ভালোই হয়।’
সুনয়না আরও বলেন– ঘটনার দিন রাতে পানশালায় গিয়েছিলেন তাঁর স্বামী ও তাঁর এক বন্ধু। হঠাৎই তির বেগে ছুটে আসে একগুচ্ছ প্রশ্ন। যার মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক প্রশ্ন ছিল– তাঁদের জাত কী? কী হচ্ছে গোটা ঘটনাটি– তা বুঝে ওঠার আগেই মুহূর্তের মধ্যে ছুটে আসে গুলি। ঝাঁঝরা হয়ে যায় তাঁর স্বামীর শরীর।
সুনয়না-র সাফ প্রশ্ন– যে দেশকে তাঁরা এত ভালোবেসেছিল– কেন তাঁদের সঙ্গে এটা হল? তিনি বলেন– ‘আমি সরকারের কাছে জানতে চাই কী দোষ ছিল আমার স্বামীর? কীভাবে বন্ধ করা সম্ভব এই হিংসাকে? ওই ব্যক্তি জাতের নামে খুন করে উচ্চস্বরে তা ঘোষণাও করে যে– সে ২জন মুসলিমকে মেরেছে। আমার প্রশ্ন– একমাত্র কি গায়ের রং দেখেই ওই ব্যক্তি কোন ধর্মের তা নির্ণয় করা যায়? গায়ের রং-ই কি বলে দেয় সে হিন্দু– মুসলিম নাকি খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী? না– কখনোই বলা যায় না। তাই গোটা ঘটনায় আমি আমার প্রয়াত স্বামীর তরফ থেকে সুবিচার চাই।’
ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত যখন গোটা দেশে সমালোচনার ঝড় তুলেছে– ঠিক তখন এই ধরনের একটি ঘটনা যে ফের তাঁর নীতিকে প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করাল– তা নিঃসন্দেহে বলাই যায়। (শধ-৫২০)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here