এবার স্বয়ং স্বাস্থ্যকর্তাদের তোপের মুখে পড়তে হল অ্যাপেলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে

0
160

কলম প্রতিবেদক ­ এবার স্বয়ং স্বাস্থ্যকর্তাদের তোপের মুখে পড়তে হল অ্যাপেলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। হাসপাতালের ব্যাখ্যা সন্তুষ্ট করতে পারল না স্বাস্থ্যকর্তাদের। শেষ পর্যন্ত– নবান্নে পেশ করা স্বাস্থ্যকর্তাদের রিপোর্টে অ্যাপেলো হাসপাতালের গাফিলতি ও বেআইনি ভূমিকার কথাই উঠে এসেছে। সূত্রের খবর– যার জেরে পদক্ষেপ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করতে পারেন স্বাস্থ্যসচিব আর এস শুক্লা। খোদ রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠিও বেসরকারি হাসপাতাল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকার প্রশংসা করে শনিবার বলেছেন– ‘এই নিয়ে খবরের কাগজে পড়েছি। সরকার ভালো কাজ করেছে।’
রোগী পরিবারের নিছক অভিযোগ নয়– খোদ রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্তারাই শনিবার সন্দেহ প্রকাশ করলেন অ্যাপেলো হাসপাতালের ভূমিকা নিয়ে। শুক্রবার ডানকুনির বাসিন্দা সঞ্জয় রায়কে বিল না মেটানোর অভিযোগে সময়ে ছাড়তে না চাওয়া এবং মাত্রাতিরিক্ত বিল হওয়ায় – অ্যাপেলো কর্তাদের বৈঠকে ডেকেছিলেন স্বাস্থ্য সচিব আর এস শুল্কা। এ দিন দুপুরে স্বাস্থ্যভবনে হওয়া এই বৈঠকে অ্যাপেলো কর্তাদের সাফাই সন্তুষ্ট করতে পারেনি স্বাস্থ্যকর্তাদের। যার জেরে স্বাস্থ্যসচিব নিজেই জানিয়ে দেন– ‘আমরা সন্তুষ্ট নই। আরও ভালো ব্যবস্থা নেওয়া যেত। যে পরিমাণ টাকা নেওয়া হয়েছে– তাতে আরও ভালো চিকিৎসা করা সম্ভব ছিল।’ স্বাস্থ্য অধিকর্তা বিশ্বরঞ্জন শতপথি বলেন– ‘যকৃৎ ও প্লীহায় রক্তক্ষরণের কথা বলা হয়েছে– কিন্তু এ বিষয়ে চিকিৎসার সঠিক কাগজপত্র দেখাতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফুসফুসের আঘাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল– তা-ও পরিষ্কার নয়। সবদিক তাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ তিনি এ কথাও জানান– ‘তুলনায় কম খরচেও এই চিকিৎসা সম্ভব ছিল। তাই আরও কাগজপত্র দেখার প্রয়োজন রয়েছে।’ পরে স্বাস্থ্য সচিব বৈঠকের রিপোর্ট নবান্নে মুখ্যসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে জমা দেন। সে সময় নবান্নে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রে খবর– হাসপাতালের ব্যাখ্যা এবং স্বাস্থ্যসচিব–অধিকর্তাদের অভিমত নিয়ে মুখ্যসচিব– স্বরাষ্টÉ সচিব মলয় দে এবং স্বাস্থ্য সচিবকে নিয়ে বৈঠকও করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সঞ্জয় রায়ের চিকিৎসা এবং বিল না মেটানোর অভিযোগে তাঁকে সময়ে না ছাড়া নিয়ে শুক্রবার থেকেই শহরের নামজাদা বেসরকারি হাসপাতাল অ্যাপেলোর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। তাতে ঘৃতাহুতি পড়ে ক্লিনিক্যাল এসট্রাবলিস্টমেন্ট অ্যাক্টকে কাঁচকলা দেখিয়ে সঞ্জয়ের পরিবারের কাছে ফিক্সড ডিপোজিটের কাগজ জমা রাখায়। যা নিয়ে প্রাক্তন পরিবহণ মন্ত্রী মদন মিত্র অ্যাপেলো কে কার্যত তুলনা করেন ‘শ্মশান’-এর সঙ্গে। সূত্রের খবর– আগামী ৩ মার্চ রাজ বিধানসভায় পেশ করা হবে ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্টের সংশোধনী। যাতে লাইসেন্স প্রাপ্তিকে আরও কঠোর করা এবং চিকিৎসা গাফিলতিতে বেসরকারি হাসপাতালকে জরিমানা করার সংস্থান থাকছে বলে খবর।
এ দিন তাই অ্যাপেলো কর্তাদেরকে বৈঠকে ডেকে প্রকৃত অবস্থা বুঝতে চান স্বাস্থ্যকর্তারা। কিন্তু– এখানেই আরও সংশয় দানা বাঁধে তাঁদের মনে। যা নিয়ে শেষপর্যন্ত স্বাস্থ্যসচিবকে সাংবাদিক বৈঠক করে বলতে হয়– ‘আমরা সন্তুষ্ট নই।’ যদিও– অ্যাপেলোর পক্ষে চিফ অপারেটিং অফিসার এ দিনই সাংবাদিক বৈঠকে জয় বসু বলেন– ‘চিকিৎসায় গাফিলতি ছিল না। রোগীর অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছিল। েরাগী পরিবারের ইচ্ছায় আমাদের অ্যাম্বুল্যান্সই বিনা খরচে পিজিতে পৌঁছে দিয়েছিলেন সঞ্জয় রায়কে। আমরা মেডিক্যাল বোর্ডও তৈরি করেছিলাম।’
কেন অসন্তুষ্ট রাজ্য সরকার? সূত্রের খবর– মোট পাঁচটি বিষয়ে তাঁদের আপত্তির কথা জানান স্বাস্থ্য কর্তারা। সূত্রে এও জানা গিয়েছে– নবান্নে পাঠানো রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে– চিকিৎসায় গাফিলতি– মেডিক্লেম কে কাজে না লাগানো– অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য সময়ে না ছাড়া– বেআইনিভাবে ফিক্সড ডিপোজিট জমা নেওয়া ইত্যাদি। এর ভিত্তিতেই আগামী দিনে রাজ্য সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। অন্যদিকে– এ দিন ভোরে বর্ধমানের রbা ঘোষ (৬০) নামে এক হ*দ্রোগীর মৃতু্য হয় অ্যাপেলো হাসপাতালে। ওই রোগীর পরিজনদেরও অভিযোগ– চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই এই মৃতু্য। হ*দ্রোগের সমস্যা নিয়ে গত ১১ ফেব্র&য়ারি রbা বোসকে ভর্তি করা হয় অ্যাপেলোয়। ২২ তারিখে তাঁর অপারেশনও হয়। এ দিন ভোরে তাঁর মৃতু্য হওয়ায় পরিবারের অভিযোগ অ্যাপেলো হাসপাতালের দিকে। ইতিমধ্যেই রোগীর পরিবার মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। তাঁরা েক্রতা সুরক্ষা আদালতে যাবেন বলেও হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে হুংকার দিয়েছেন। গত বুধবার টাউন হলের বৈঠকে অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে অ্যাপেলোর ভূমিকা সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। এ দিন স্বাস্থ্যকর্তাদের রিপোর্টে সেই অভিযোগেই কার্যত সিলমোহর পড়ল। এই বেসরকারি হাসপাতালের শিরঃপীড়া আরও বাড়িয়ে এ দিন মার্কিন যুক্তরাষ্টÉ থেকে বিধাননগর কমিশনে একটি চিঠিতে অ্যাপেলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন অনাবাসী ভারতীয় ডা. কুণাল সাহা। সবমিলিয়ে– একের পর এক ঘটনায় অ্যাপেলোর চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে সবমহলে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here