একই দিনে হার স্বীকার কোহলিবাহিনী– ধোনিবাহিনীর সামান্যের জন্য কলকাতায় মুখরক্ষা হল না ঝাড়খণ্ডের

0
206


নিজস্ব প্রতিনিধি– কলকাতা ঃ ততক্ষণে পুণের মাঠে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার কাছে মাত্র তিনদিনেই চার ম্যাচের প্রথম টেস্ট ম্যাচটি ৩৩৩ রানে হেরে বসেছে কোহলির ভারত। সেটা তখনও জানতেন না ক্রিজে সৌরভ তেওয়ারির সঙ্গে ক্রিজে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঝাড়খণ্ডের হয়ে ম্যাচ বাঁচানোর চেষ্টায় থাকা অধিনায়ক ধোনি। কোহলির অধিনায়কত্ব ভারতকে বাঁচাতে পারেনি– অন্তত এটা সবাই ভেবেছিলেন ধোনির অধিনায়কত্ব বাঁচাবে ঝাড়খণ্ডকে? বাস্তবে আর সেটা হল না। কোহলি ব্রিগেডও পারল না। ধোনির ঝাড়খণ্ডও পারল না।
প্রতিপক্ষ কর্নাটক দলে রবীন উথাপ্পা– ময়াঙ্ক আগরওয়াল– মণীশ পাণ্ডে– স্টুয়ার্ট বিনির মতো একাধিক নামকরা ক্রিকেটাররা। সেখানে ঝাড়খণ্ড দলের একমাত্র মুখ মহেন্দ্র সিং ধোনি। তাসত্ত্বেও শক্তিশালী কর্নাটকের বিরুদ্ধে ধোনির দলের জয় দেখতে সকাল সকাল ইডেনে ভিড় জমাতে শুরু করেন কলকাতার ক্রিকেটপ্রেমীরা। টসে জিতে ধোনি প্রথম ফিল্ডিং নেওয়ায় গর্জন ক্রমে বেড়ে যেতে লাগে। তবে ম্যাচের শুরুতে ঝাড়খণ্ডের বোলাররা কর্নাটকের কাছে মার খেতে শুরু করায় ক্ষণিকের জন্য স্টেডিয়ামে নীরবতা ছেয়ে যায়। দলগত ৫১ রানে উত্থাপ্পা (৯) এবং ময়াঙ্ক আগারওয়াল (২৬) আউট হওয়ায় ঝাড়খণ্ড শিবিরে স্বস্তির বাতাসের আগমন ঘটতে থাকে। কিন্তু কর্নাটকের দুই ব্যাটসম্যান রবিকুমার সামর্থ এবং মণীশ পাণ্ডে ইডেনে ব্যাটিং ঝড় তোলায় আবারও দুশ্চিন্তার সাগরে ডুব দেয় টিম ঝাড়খণ্ড।
এরইমধ্যে মারমুখি মেজাজে ব্যাট করতে থাকা দুই ব্যাটসম্যান রবিকুমার সামর্থ ৭১ এবং মণীশ পাণ্ডে ৭৭ রান করেন। এরপর ব্যাট হাতে দলকে টানতে থাকেন পবন দেশপাণ্ডে (৩৬)। কে গৌতম (১৩) এবং জগদীশ সুচিতের ১৯ রানের সুবাদে কর্নাটক ২৬৬ রান তোলে। ঝাড়খণ্ডের রাহুল শুক্লা একা ৪টি উইকেট তুলে নিতে সমর্থ হয়েছেন। বরুণ অ্যারোন– মনু কুমার– আনন্দ কুমার দু’টি করে উইকেট পান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ঝাড়খণ্ড। মাত্র তিন রানে আনন্দ সিং এবং বিরাট সিংকে হারিয়ে ফেলে ঝাড়খণ্ড। ইশান কিষাণের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে টেনে নিয়ে যাওয়া ইশাঙ্ক জা>িও (২৫) স্টুয়ার্ট বিনির শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। ৩৬ রানে আউট হন ইশান।
এমন কঠিন পরিস্থিতিতে সৌরভ তেওয়ারির সঙ্গে ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে শামিল হন ধোনি। মূলত এই দু’জনে মিলে টিম ঝাড়খণ্ডকে ক্রমে জয়ের রাস্তায় টানতে থাকেন। যদিও ২টি ছয় এবং ৩টি চারের সাহায্যে ৫০ বলে ৪৩ রান করা ধোনি অফ স্ট্যাম্পের বাইরে এসে শট খেলতে গিয়ে প্রদীপের শিকার হওয়ায় ক্রমে খালি হতে থাকে ইডেনের গ্যালারি। পরে একার হাতে দলকে জয়ের পথে টানার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েও সফল হতে পারলেন না সৌরভ তেওয়ারি (৬৮)। তিনি সাজঘরে ফিরে যাওয়ার পরেও দলের জয়ের আশা জিইয়ে রেখে শেষদিকে ঝোড়ো ইনিংস খেলেন ঝাড়খণ্ডের দুই টেলএন্ডার রাহুল শুক্লা এবং মনু কুমার। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। পুণেতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে কোহলিদের ৩৩৩ রানের হারের দিনে কলকাতায় সামান্যের জন্য মাত্র ৫ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হল ধোনিদেরও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here