হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইহুদি কবরস্থানের সংস্কারে অর্থ সংগ্রহ মার্কিন মুসলিমদের

0
218

জেফারসন সিটি– ২২ ফেব্র&য়ারিঃ আমেরিকায় গত কয়েক মাসে বর্ণবিদ্বেষী হামলার ঘটনা বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। হামলা– হেনস্থা কিংবা অশালীন মন্তব্যের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না এমনকী ইহুদি সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষজন কিংবা তাদের ধর্মীয় স্থান। সম্প্রতি আমেরিকার মিসৌরি প্রদেশে চেসেদ এমেথ কবরস্থানে ভাঙচুর চালায় অজ্ঞাত পরিচয় আততায়ীরা। একশোটিরও বেশি কবরের নামফলক পাথর উপরে ফেলা হয়েছে। ওই একই সময়ে ১১টি ইহুদি কমিউনিটি সেন্টার বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়। তবে আতঙ্ক ছড়াতে স্থানীয় কিছু ইহুদি বিদ্বেষীরাই এইসব কাণ্ড করছে বলে পুলিশের অনুমান। ইহুদিদের শতাধী প্রাচীন কবরস্থান এইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যাথিত স্থানীয় মুসলিমরাও। ‘এমপাওয়ার চেঞ্জ’ এবং ‘সেলিব্রেট মারসি মুসলিমস’ নামে দু’টি সংগঠন ওই কবরস্থান সংস্কারে অর্থ সংগ্রহে নেমে পড়েছে। ৫৫ হাজার ডলারের একটি তহবিল গঠনের আহ্বান জানিয়েছে তারা। আয়োজক লিন্ডসা সারসৌর এবং তারেক-আল-মেসিদি জানিয়েছেন– ওই কবরস্থানটি সংস্কারে লাগবে প্রায় ২০ হাজার ডলার। বাকি টাকা পাঠানো হবে দেশের অন্যান্য ইহুদি ধর্মীয় স্থান সংস্কারে।
সোশ্যাল সাইটে এই আহ্বান চালিয়ে এখন প্রচার চালানো হচ্ছে জোর। সেখানে লেখা হয়েছে– এই ধরেন ঘটনায় আমরা মর্মাহত। অমরা ঐতিহাসিক মদিনা সনদ অনুযায়ী ঐক্য– সহি¡ুŒতা এবং দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষার ওপরই জোর দিতে চাই। অর্থ সংগ্রহ অভিযানে শামিল মুসলিম স্বেচ্ছাসেবকরা বলছেন– পবিত্র কুরআনে যে শান্তি এবং সৌহার্দের কথা রয়েছে তাকে অনুসরণ করেই আমরা পথে নেমেছি। আমরা এটাও দেখিয়ে দিতে চাই যে– আমেরিকায় ঘৃণা– বিদ্বেষ কিংবা ধর্মীয় কুৎসার কোনও স্থান নেই।
সেন্ট লুইস রাব্বি সংগঠনের তরফে তাদের ফেসবুক পেজে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে– ওই ঘটনা তাদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করছে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে যাতে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয় সে জন্য উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছি আমরা।
রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য– আমেরিকায় ট্রাম্প জমানায় কট্টর জাতীয়তাবাদীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এদের মধ্যে আছেন শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীরাও। এদের একটি অংশ মুসলিম– হিন্দু কিংবা অন্য কোনও ধর্মাবলম্বীকে খাঁটি মার্কিনি বলে মনে করে না। সামনে রাখা হচ্ছে ‘এক দেশ এক জাতি’ স্লোগানও। যাতে বিভ্রান্ত এমনকী বিপথগামী হচ্ছে আমেরিকার তরুণ প্রজন্মের অনেকেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here