মোপেডে বসিয়েই এবার হাসপাতাল থেকে মেয়ের শব আনতে হল

0
202

বেঙ্গালুরু– ২২ ফেব্র&য়ারি­ আরও একটি হ*দয়বিদারক ঘটনা। তবে এবার ওড়িশার দানা মাজির মতো স্ত্রীর মৃতদেহ কাঁধে বহন করে হাসপাতাল থেকে টানা ১২ কিমি হেঁটে নিজের গ্রামে যাওয়ার ঘটনা নয়। বরং এবারের ঘটনাস্থল কর্ণাটক। তবে এটাও সমান মর্মান্তিক।
২০ বছরের তরুণী টি রbাম্মা ছিলেন শ্রবন সমস্যায় আক্রান্ত এক দারিদ্র পীড়িত পরিবারের সন্তান। তার পিতা ডি থিম্মাপ্পা– একজন ফুল বিক্রেতা। তার মেয়ে প্রবল জ্বর এবং সর্দির সমস্যায় ভুগছিল শনিবার সকাল থেকেই। কিন্তু অসুস্থ মেয়ের চিকিৎসার জন্য আকুতিই সার! অ্যাম্বুল্যান্স চেয়ে বহুবার করুণ আর্জি জানিয়েছিল উদ্বিগ্ন পিতা। কিন্তু তাতে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। মাত্র ১৫০ টাকা পকেটে নিয়ে পিতা থিম্মাপ্পা হুঁশ হারানো মেয়েকে মোপেডে করে ৬কিমি দূরে অবস্থিত একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দিকে রওনা দেন। পিছনের সিটে বসিয়ে বোনকে শক্ত করে ধরে থাকে তার ভাই। স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি তুমাকুডY জেলার কোরিজিনাহাল্লিতে অবস্থিত। রবিবার গুরুতর অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে সেখানে পৌঁছেও তেমন কোনও সাহায্য পায়নি পরিবারটি। ডাক্তাররা প্রায় বেহুঁশ রbাম্মার জন্য কয়েকটি ট্যাবলেট দিয়ে ঘরে চলে যেতে বলেন।
রbাম্মা ইশারায় তার পিতাকে জানিয়েছিল– সে মোটেই ভালো বোধ করছে না। থিম্মাপ্পা পরে সাংবাদিকদের বলেছেন– তিনি মাধুগিরিতে অবস্থিতি হাসপাতালে অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুল্যান্স চান। কিন্তু– তা পাওয়া যায়নি। মাধুগিরির দূরত্ব সেখান থেকে ২১ কিমি। উপায়ান্তর না দেখে রbাম্মাকে কাছেই একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ক্লিনিকের ডাক্তার তরুণীকে কিছু ট্যাবলেট দেন। থিম্মাপ্পা পরে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন– ‘আমরা কোনও ক্রমে ওই মোপেডে বসিয়ে রbাম্মাকে রাত ১১টা নাগাদ ঘরে নিয়ে আসি। সারা রাত আমার মেয়ে ঘুমতো পারেনি। সকালে তার কাঁপুনি শুরু হয়– প্রবল শ্বাসকষ্টও হচ্ছিল। ভোরে তার অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। আমরা তাকে ফের মাধুগিরিতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। এক্ষেত্রেও আমরা কোনও অ্যাম্বুল্যান্স পাইনি। আমার মেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলল। রbাম্মাকে আবারও মোপেডে বসিয়ে ওই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসি। সেখানে ডাক্তাররা আমাদের বলে দেন– এখানে তার চিকিৎসা হবে না– কারণ অবস্থা গুরুতর। তাকে পার্শ্ববর্তী শহরের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। বহু চেষ্টা করে এবারও অ্যাম্বুল্যান্স পাওয়া গেল না। আমরা বাধ্য হয়ে আবারও ওই প্রাইভেট ক্লিনিকে মেয়েকে নিয়ে যাই। সেখানে ডাক্তাররা জানায়– আমার মেয়ে ইতিমধ্যেই মারা গেছে।
শোকার্ত পিতা ও মেয়েটির ভাই এবারও লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি অ্যাম্বুল্যান্স চেয়ে কাকুতি-মিনতি করতে থাকি। কিন্তু অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করতে কেউ এগিয়ে আসেনি। শেষ পর্যন্ত পিতা-পুত্র মোপেডে মেয়ের শব নিয়ে ছুটে যায় সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে–যদি এখানে অ্যাম্বুল্যান্স পাওয়া যায়। কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীরা সাফ বলে দেন– ‘অ্যাম্বুল্যান্স জীবিত রোগীদের জন্য। এতে মৃতদেহ বহন করা যাবে না।
চোখে পানি নিয়ে থিম্মাপ্পা বলেন– ‘তখন আমার পকেটে মাত্র ৯৫টাকা। কোনও টেম্পো বা লরি ভাড়া করা ছিল আমার সাধ্যের বাইরে। আমি আমার মেয়ের শব ফের মোপেডে বসিয়ে মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে এলাম। এবারও তার ভাই মোপেডের পেছনে বোনের দেহ শক্ত করে ধরে ছিল– যাতে তা পড়ে না যায়।’
টুমাকুডY জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিক রঙ্গস্বামী অবশ্য বলেন– ‘থিম্মাপ্পার সব কথা সত্যি নয়। প্রাইভেট ক্লিনিকে তার মেয়েকে নিয়ে যাওয়া ছিল বিরাট ভুল। আমি সব বিষয়টি তদন্ত করে দেখব। তবে একথাও ঠিক– আমরা মৃতদেহ বহন করার জন্য অ্যাম্বুল্যান্স দিই না। আত্মীয় স্বজনদেরই মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়।’
এই ঘটনা নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সমাজের অমানবিকতা নিয়ে। আর সরকারি পরিষেবার বেহাল দশা ও নিয়ম-কানুনের বর্বরতা নিয়েও। দরিদ্র এবং দলিতদের অবস্থা কর্ণাটকের মতো তথ্য প্রযুক্তির জন্য বিখ্যাত রাজ্যও যে স্বাধীনতার এতোগুলি বছর পরেও খবু একটা বদলায়নি– ২০ বছরের তরুণী রbাম্মা তার আরও একটি উদাহরণ হয়ে রইল।

সন্তানহারা অসহায় বাবার সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে তামাকুডY জেলার স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিক রাঙ্গেস্বামী। তাঁর দাবি– পরিবারের তরফে কোনও অ্যাম্বুলেন্সের জন্য সাহায্য চাওয়া হয়নি। অভিযোগ মেনে ভুল স্বীকার করা তো দূরের কথা– উলটে সন্তানহারা পিতার ঠিক কী ভুল হয়েছিল– কোথায় ভুল হয়েছিল তা জানাতে ভুল করলেন না ওই আধিকারিক। তিনি বলেন– পরিবারের বড় ভুল হয়েছে মেয়েটিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে যাওয়া। এই ঘটনায় ফের একবার প্রকাশ্যে তথাকথিত ‘শিক্ষিত’ সমাজের নির্মম র*প। প্রত্যেকে যদি নিজের কর্তব্যটুকু করতেন– তাহলে হয়তো অকালে চলে যেতে হত না একটি প্রাণকে।
(শধ-৫২৭)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here