মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেকর্ডের ভাঁড়ারে বুধবার যুক্ত হল আরও এক রেকর্ড

0
221

কলম প্রতিবেদক ­ এক কথায় অভূতপূর্ব– নজিরবিহীন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেকর্ডের ভাঁড়ারে বুধবার যুক্ত হল আরও এক রেকর্ড। চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা– অনুভূতিকে খোদ শহর কলকাতার বড়মাপের বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রের প্রতিনিধিদের টাউন হলে বৈঠকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন– কেন তিনি জননেত্রী। কেন তাঁর পরিচিতি ‘আমি মানুষেরই লোক’। তাই মানুষের স্বার্থে কোনওরকম ঢাক ঢাক গুড় গুড় না করেই শহরের ঝাঁ-চকচকে হাসপাতালগুলির চিকিৎসা পরিষেবার নামে নানা বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কার্যত কষাঘাত করেন তিনি। রাজ্যের স্বাস্থ্য মানচিত্রে এ দিন এক নতুন সংস্কারের আস্বাদ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। যাঁর অকাট্য যুক্তি– বাস্তববোধের সামনে কার্যত মিয়ÁËাণ হয়ে েগলেন বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রের ম্যানেজমেন্টের কর্তাব্যক্তিরা। মুখ্যমন্ত্রীর ‘সত্যের’ সামনে আমতা আমতা করেই সাজাতে হয়েছে তাঁদের যুক্তি। যা নিয়ে ধন্য ধন্য করেছেন সাধারণ মানুষ।
প্রথম দফায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ছ-মাসের মধ্যেই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল ঢাকুরিয়ার আমরি হাসপাতালে। তখনই বেসরকারি হাসপাতালগুলির চিকিৎসা অবহেলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীও। কিন্তু– ওই দফায় কিছু নির্দেশ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েই থেমেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় দফায় এক বছরের মধ্যেই সিএমআরআই তছনছের ঘটনায় ভাঙচুরের নিন্দা করেও তিনি এড়িয়ে যাননি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে ওঠা মাত্রাছাড়া বিল এবং চিকিৎসায় গাফিলতির প্রসঙ্গ। নিজে সমীক্ষা করিয়েছেন ৯৪২ টি এ ধরনের বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে। সেখানে উঠে এসেছে– লাগামছাড়া বিল– চিকিৎসায় অবহেলা– স্বচ্ছতার অভাব– প্যাকেজের কথা বলেও রোগীদের কাছে নানা অছিলায় বাড়তি টাকা আদায় ইত্যাদির মতো বিষয়। যার জেরে ৭০ জনকে েশা-কজ করা হয়েছে। ৩৩ জনের লাইসেন্স বাতিল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
গরিব মানুষদের কম পয়সায় চিকিৎসার কথা বলেও– সেই নিয়ম মানা হয় না। আর এইসবের প্রতিষেধক দেওয়ার পথ ধরেই এ দিন বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে লাগাম পরানোর উদ্যোগে সফল হলেন মুখ্যমন্ত্রী।
গোটা বাম আমলজুড়ে সস্তায় সরকারি জমি পেয়ে একের পর এক বেসরকারি হাসপাতাল গড়ে উঠেছে ইএম বাইপাসকে কেন্দ্র করে। রাষ্টÉায়ত্তকরণের পক্ষে ধারাবাহিক গলা ফাটানো বামেরা এ রাজ্যের সরকারে থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগে রাশ টানা তো দ(রের কথা– টুঁ শধও করেনি। এই সমস্ত হাসপাতালের বিরুদ্ধে হাজারও অভিযোগ আসা সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী– স্বাস্থ্যমন্ত্রী তো দ(রের কথা– কোনও রাষ্টÉমন্ত্রীও বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রের কর্ণধারদের সঙ্গে বৈঠকে বসেননি। অথচ– সেই কাজটিই এ দিন অবলীলায় করে দেখালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক ধাক্কায় দেশের বুকে নিজের উচ্চতাকে অন্য জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করলেন তিনি। কারণ– মধ্যবিত্ত থেকে প্রান্তিক মানুষকে রক্ষা করতে এমন পদক্ষেপ আর কোনও মুখ্যমন্ত্রীর নেওয়ার নজির হাতের কাছে নেই।
এ দিন কলকাতার নামজাদা প্রায় সব বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের প্রতিনিধিরা হাজির হয়েছিলেন টাউন হলে। কিন্তু– মুখ্যমন্ত্রী প্রথমেই বুঝিয়ে দেন– েবসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রের বিরুদ্ধে তাঁর কাছে খতিয়ে দেখা তথ্যের অভাব নেই। যেমন– মেডিকায় কিডনি পাচার চক্র– কেপিসিতে বিল না মেটানোয় মৃতদেহ না ছাড়া– অ্যাপেলোতে গরিব মানুষকে চিকিৎসা না দেওয়ার মতো ঘটনা। মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে অভিযোগের আকারে আসা এই সমস্ত ‘বাউন্সার’ েকানওমতেই আটকাতে পারেননি হাসপাতালের ঝানু কর্তাব্যক্তিরা। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলে দেন– কেন হাসপাতালে হেল্প ডেস্ক থাকে না? নিত্য রোগীদের কেন বিলের তথ্য জানানো হয় না? অ্যাপেলো বা সিএমআরআই কর্তাদের কাছে তিনি স্পষ্ট জানতে চান– কেন আপনারা রাজ্যের হেলথ স্কিমে আসছেন না? প্রশ্নবাণে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন হাসপাতালের প্রতিনিধিরা। তিনি এ কথাও বলেন– সামান্য রোগে সব ধরনের টেস্ট করানো হয়। যা শুধুমাত্র বিল বাড়ানোর জন্য। এ সবের মাঝেও অবশ্য– হাসপাতাল ভাঙচুরের নিন্দা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু– তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন– হাসপাতালের গাফিলতিতে কারও মৃতু্য হলে তার ক্ষতিপূরণও দিতে হবে ওই হাসপাতালকে। বারেবারে মুখ্যমন্ত্রী মানবিক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সেবাধর্মের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। আর সব ঠিকঠাক চলছে কি না – তা দেখার জন্য নিয়ন্ত্রক কমিশন গঠনের কথাও বলেছেন। এভাবেই সমাজের এক জ্বলন্ত সমস্যাকে নিয়মে বাঁধতে উদ্যোগী মুখ্যমন্ত্রী। যা নতুন দিনের আলো বলেই মানছেন প্রত্যেকে। এ দিনের বৈঠকের পর রাজ্যবাসী আশায় বুক বেঁধেছেন– এই পদক্ষেপ র*পায়ণের ব্যাপারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here