বাবা-মায়ের কথামতো চলতে না পারলে নিজেরা তাজমহল বানিয়ে থাকুক ছেলে-বউমা ­ হাইকোর্ট

0
221

কলম প্রতিবেদক­ আদালতের কড়া নির্দেশিকা সত্ত্বেও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ওপর কমছে না ছেলে-বউমার অত্যাচার। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বারবার। পুলিশ প্রশাসনও নিচ্ছে না কড়া পদক্ষেপ। এ নিয়ে বুধবার আরও একবার কড়া নির্দেশিকা দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ফের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়াল আদালত। এ দিন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন– বাবা-মায়ের বাড়িতে ছেলে-বউমাকে থাকতে গেলে তাদের কথামতোই চলতে হবে। নতুবা নিজেরা তাজমহল বানিয়ে তারা সেখানে থাকুক । ২৪ পরগনার বি¡ুŒপুর এলাকার একটি মামলা প্রসঙ্গে এ কথা জানালেন বিচারপতি। সেইসঙ্গে পুলিশ প্রশাসনকেও এই ধরনের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিতে বলেছেন বিচারপতি।

ছেলে-বউমার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বি¡ুŒপুরের চ্যাটার্জিপাড়ার বৃদ্ধ বাবা দিবাকর হালদার এবং মা অসীমা হালদার হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই মন্তব্য করেছেন বিচারপতি। তাঁরা ছেলে বিশ্বজিৎ হালদার এবং বউমা মিঠু হালদারের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেছেন। অভিযোগকারীদের পক্ষের আইনজীবী জানান– বাড়িতে যাতে অশান্তি না বাধে তার জন্য ২০১৩ সালে ওই এলাকাতেই ছেলেকে আলাদা বাড়ি তৈরি করে দিয়েছিলেন দিবাকরবাবু। এর কিছুদিন পরেই ছেলে সেই বাড়ি বিক্রি করে দিয়ে আবার বাবা-মায়ের বাড়িতে থাকতে শুরু করে। ওই বাড়িটি অসীমাদেবীর নামে করা ছিল। তারপরেই বৃদ্ধ দিবাকরবাবু ও অসীমাদেবীর ওপর অত্যাচার শুরু করে গুণধর ছেলে ও বউমা। এই ঘটনায় অসহায় বাবা-মা স্থানীয় ২০১৩ সালে ছেলে ও বউমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানায়। কিন্তু– সেখানে কাজ না হওয়ায় নিম্ন আদালতে এ নিয়ে মামলা করেন অভিভাবকেরা। সেখানেও ফল না পাওয়ায় শেষে সোমবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন বাবা-মা। বুধবার এই মামলা প্রসঙ্গে বিচারপতি আরও বলেন– বাবা-মা খারাপ হতেই পারে। কিন্তু– তা মেনে নিতে হবে। আর যদি ছেলে -বউমা তা মেনে নিতে না পারে তবে তারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাক। এ প্রসঙ্গে বিপক্ষের আইনজীবী সওয়াল করেন বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলে তারা থাকবে কোথায়। উত্তরে বিচারপতি জানান– বাড়ি থেকে বেরিয়ে তারা রাস্তায় গিয়ে থাকুক।
অন্যদিকে– এ দিনই হাওড়ায় এই ধরনের আরও একটি মামলায় পুলিশ প্রশাসনকে নিরাপত্তা ও সম্পত্তি রক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি। হাওড়ার আমতা থানা এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় ডাক্তার বাসুদেব চন্দ্র তার ছেলে অর*প চন্দ্র ও বউমা বন্দনা চন্দ্রের বিরুদ্ধে অত্যাচরের অভিযোগে হাইকোর্টে মামলা করেন। ২০১৬ সালের আগস্টে ছেলে -বউমার বিরুদ্ধে তিনি স্থানীয় থানায় মারধরের অভিযোগ করেন। তার ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু– কিছুদিনের মধ্যেই তারা ছাড়া পেয়ে যায়। ছাড়া পাওয়ার পরে তারা আবার বাসুদেববাবুর ওপর অত্যাচার শুরু করে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তিনি জেলার পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জানান। কিন্তু– তাতে কোনও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। শেষে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে বিচারপতি পুলিশ প্রশাসনকে এ বিষয়ে কড়া নির্দেশিকা দেন বিচারপতি। সেইসঙ্গে– বিচারপতি মন্তব্য করেন অসহায় বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব পুলিশ প্রশাসনের।
প্রসঙ্গত– গত সোমবার বাগুইআটি থানার দেশবন্ধু নগরে এক বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ায় ছেলের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে বলেছিল আদালত। সেইসঙ্গে– মায়ের সম্পত্তিতে নজর না দেওয়া এবং অভিভাবকদের সামনে মাথানত করে চলার জন্যও ছেলে -বউমাকে কড়া নির্দেশিকা দিয়েছিল আদালত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here