তুর্কি সেনাবাহিনীতে নারী সদস্যদের হিজাব পরিধানের অনুমতি

0
207

তুরস্ক ছিল মুসলিম বিশ্বের খিলাফতের কেন্দ্র। পরবর্তীতে কামাল আতাতুর্ক খিলাফতের উচ্ছেদ সহ তুরস্কের ইতিহাস– সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবন থেকে ইসলামের সমস্ত প্রভাব ও পরিচিতি মুছে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তুরস্কের সামরিকবাহিনী ছিল এর অন্যতম।
তবে তুরস্কে এখন বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। প্রেসিডেন্ট এরদোগানের নেতৃত্বে তুরস্কের নতুন প্রজন্ম তাদের ইসলামি বিশ্বাস ও ঐতিহ্যকে আর বর্জন করে চলতে রাজি নয়। মঙ্গলবার এই ধরনেরই আরেকটি পদক্ষেপ নিয়েছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তারা ঘোষণা করেছে– তুরস্কের সেনাবাহিনীর নারী-সদস্যরা যদি চায় তবে তারা ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরিধান করতে পারবে। কামাল আতাতুর্কের ক্ষমতা গ্রহণের পর এই প্রথম তুরস্ক সেনা– বিমান ও নৌ-বাহিনীর সদস্যরা হিজাব পরার অনুমতি পেল। তুরস্ক প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের নতুন নিয়মাবলিতে বলা হয়েছে– তুরস্কের নারী-সেনারা তাদের টুপি ও হেলমেটের নীচে হিজাব পড়তে পারবে। তবে তা ইউনিফর্মের রঙের মতোই হতে হবে এবং এতে কোনও আলাদা নকশা থাকা চলবে না।
উল্লেখ্য– কামাল আতাতুর্কের সময় থেকে তুরস্কের সেনাবাহিনীতে দাড়ি রাখা কিংবা জুম্মার নামায পড়া অপরাধ বলে গণ্য হত। কোনও আধুনিক মাদ্রাসা থেকে পাশ করা ছাত্র কিংবা ছাত্রীকে সেনাবাহিনীতে গ্রহণ করা হত না। তুরস্ক সেনাবাহিনীর যারা ইসলাম অনুসরণ করতে চায়– তাদের কোনও ধর্মীয় স্বাধীনতা ছিল না। তুরস্কে এই আইনগুলো এখন অনেকটাই শিথিল করা হয়েছে। এটা যে এক বড় ধরনের পরিবর্তন– তা বোঝা যাবে এই ঘটনা থেকে যে বছর ২০ আগে তুরস্কের এক হিজাব পরিধানকারী মহিলা পার্লামেন্টে প্রবেশ করলে তাঁকে অপমান করে সংসদ থেকে বের করে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি আমেরিকায় বসবাস করেন। সেই হিজাব পরিধানকারী সাংসদ মারভে কাভাস্কি এখন হয়তো তুরস্কে এলে খুশি হবেন কারণ পার্লামেন্টে ইদানীং বিভিন্ন দলের বেশ কিছু হিজাব পরিধানকারী নারী সাংসদ রয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here