রোকেয়া মিনারের উদ্বোধন হল কলকাতায়

0
168

কলম প্রতিবেদক­ বাংলায় নারী শিক্ষা আন্দোলনের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘আঞ্জুমান এ খাওয়াতীনে ইসলাম’(১৯১৬) পেরিয়েছে একশো বছর। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল বর্তমানে মাইলফলক। এই মহীয়সী নারীরû সাবেক বাসভবন ১৬২/১ আচার্য জগদীশচন্দ্র রোডে ভূপেশ ভবনে সম্মুখস্থ ফুটপাথে মঙ্গলবার রোকেয়া স্মারক মিনারের উদ্বোধন করেন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আবু তালেব খান। মিনারটি নির্মাণে বিশ্বকোষ পরিষদের সম্পাদক পার্থ সেনগুপ্ত ও অন্যান্য সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশ্বকোষ পরিষদ ও সাংসদ আহমদ হাসান ইমরানের উদ্যোগে সাড়া দিয়ে কলকাতা পুরসভা এই মিনার নির্মাণের অনুমতি দেয়।
স্মারক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক কলম পত্রিকার সম্পাদক ও সাংসদ আহমদ হাসান ইমরান সাহেব। এ ছাড়া আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আমজাদ হোসেন– প্রাক্তন সাংসদ প্রবোধ পাণ্ডা– অধ্যাপিকা মিরাতুন নাহার– আলিয়া মাদ্রাসা কলেজেরû প্রাক্তন অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মণিরুজ্জামান– নতুন গতির সম্পাদক ইমদাদুল হক নুর– সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান–জামাতে ইসলামি হিন্দের রাজ্য সভাপতি মুহাম্মদ নুরুদ্দিন– প্রাক্তন বিধায়ক ননী গোপাল চৌধুরি– আল-আমীন মিশনের হাফিজুর রহমান প্রমুখ।
সাংসদ আহমদ হাসান বলেন– বেগম রোকেয়া মননে– চিন্তায়– নারীশিক্ষার প্রসারে ও বিভিন্ন গ্রন্থ রচনা করে বাংলা ভাষায় অনস্বীকার্য অবদান রেখে গেছেন। ২১ ফেব্র&য়ারি ভাষা দিবসের দিনে বেগম রোকেয়ার বাড়ির সামনে স্মারক হিসাবে মিনারের উদ্বোধন এক ঐতিহাসিক ঘটনা হয়ে থাকবে। এই বাড়িতেই ডিসেম্বরের এক শীতের ভোরে ফজরের নামায পড়তে উঠে তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ– ওপার বাংলা ও অসমে নারী শিক্ষার প্রসার ও সমাজ উন্নয়নে বেগম রোকেয়া এক অগ্রণী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বাংলাদেশে তাঁর কর্মকাণ্ডকে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও এপার বাংলায় তেমন স্বীকৃতি পাননি এই মহীয়সী নারী। বেগম রোকেয়া নারীশিক্ষার জন্য যে দীর্ঘ সংগ্রাম করেন– তৎকালীন সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ও মুসলিম আলেম-উলামারা কেউই তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি। দমে না গিয়ে সমাজ উন্নয়নের আন্দোলনে একাই কাজ করছিলেন তিনি।
সাংসদ ইমরান আরও বলেন যে– রাজ্যে ও বেগম রোকেয়ার কর্মক্ষেত্র কলকাতায় তাঁর নামে একটি কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ করা হলে তা তাঁর কর্মকাণ্ডের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করার অন্যতম নিদর্শন হতে পারে। লেডি ব্রেবোর্ন কলেজের নাম বদলে ‘বেগম রোকেয়া সাখাওয়াতে’র নামে নতুন নামকরণ করারও প্রস্তাব দেন তিনি।
ড. আবু তালেব খান তাঁর ভাষণে বলেন– বেগম েরাকেয়াকে আদর্শ করে আজকের মুসলিম মেয়েদের এগিয়ে যেতে হবে। তাঁর মতাদর্শ মেনে েময়েরা যদি এগিয়ে যায় তবেই বাংলার সার্বিক উন্নতি সাধিত হবে। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান ছাত্রছাত্রী সংখ্যা ৫০০০ এবং তার মধ্যে ১৮০০ জন ছাত্রী। এটা খুবই আনন্দের যে আগের থেকে অনেক বেশি পরিমাণে মুসলিম মেয়েরা পড়াশোনায় আগ্রহী হয়েছে। বক্তব্যের শেষে তিনি এও জানান যে– আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য নির্মিত গার্লস হস্টেলের নামকরণ বেগম রোকেয়ার নামে করার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পেশ করবেন তিনি।
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন– ইসলাম নারীদের সবচেয়ে বেশি অধিকার দিয়েছে। তারপরও অন্য ধর্মের মেয়েরা মুসলিম মেয়েদের তুলনায় এগিয়ে। আর মুসলিম মেয়েরা হল ‘অবরোধবাসিনী ’। এর কারণ আমাদের খুঁজতে হবে। রোকেয়ার শিক্ষাকে আদর্শ করে এগিয়ে যেতে হবে সামনের দিকে।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আফরোজা বেগম। অনুষ্ঠান শেষে সবাইকে বিশ্বকোষ পরিষদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদজ্ঞাপন করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here