ভাষা দিবসের মঞ্চ থেকে দু’টি ভাষাকে স্বীকৃতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

0
165

কলম প্রতিবেদক­ একুশে স্মরণ। পূর্ণ রাষ্টÉীয় মর্যাদায় আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের উদ্যাপনের মঞ্চ থেকেই আরও দু’টি ভাষাকে স্বীকৃতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন দেশপ্রিয় পার্কে ভাষা-শহিদ মঞ্চ থেকেই ওঁরাও সম্প্রদায়ের ভাষা কুরুক ও রাজবংশী-কামতাপুরীদের ভাষাকে স্বীকৃতি দিল রাজ্য সরকার। ১২ লক্ষ আদিবাসী ওঁরাও সম্প্রদায় কুরুক ভাষায় কথা বলেন। ইউনেস্কো এই ভাষাকে লুপ্তপ্রায় ভাষা হিসাবে ঘোষণা করেছে। মূলত তাঁদের ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়ে এই ভাষাকে অবলুপ্তির হাত থেকে রক্ষার উদ্যোগ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের রাজবংশী ও কামতাপুরী আবেগকে স্বীকৃতি দিতে এই ভাষাকেও স্বীকৃতি দিচ্ছে রাজ্য সরকার। তবে এদের যেহেতু নিজস্ব লিপি নেই –তাই সেই লিপি তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ির নেতৃত্বে তৈরি কমিটির হাতে ।
এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন– ‘আমি এখনও মনে করি অনেক ভাষা আছে– আঞ্চলিক ভাষা। আঞ্চলিক ভাষার মধ্যে আবার অনেক ভাষা। প্রতিটি ভাষাই গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাছে অনেক দিনের চাহিদা ছিল– আমি নেপালি ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়েছি– গুরমুখী ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়েছি। অলচিকি ও হিন্দিকেও স্বীকৃতি দিয়েছি। আমি আজকে আরও দু’টি ভাষাকে স্বীকৃতির কথা এখান থেকে ঘোষণা করছি। ভাষা দিবসকেই মঞ্চের ঘোষণার জন্য বেছে নিচ্ছি। কারণ একটিz ভাষা অন্য ভাষার প্রতি মমত্ব শেখায়।’
আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস হিসাবে রাজ্যজুড়েই এ দিন অনুষ্ঠান হয়েছে। তবে মুখ্য অনুষ্ঠানটি এ দিন ছিল দেশপ্রিয় পার্কে সন্ধেবেলায়। এ দিন সকালে ময়দানে একুশে ভাষা শহিদ উদ্যানে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়– মেয়র শোভন চটোপাধ্যায়-সহ বিশিষ্টরা। সন্ধ্যায় দেশপ্রিয় পার্কের শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি ছাড়াও ছিলেন– শোভন চট্টোপাধ্যায়– শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়– সুব্রত মুখোপাধ্যায়– সুব্রত বক্সি– ইন্দ্রনীল সেন– ইদ্রিশ আলি সহ বিশিষ্টরা। এ দিন এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনার জকি আহাদও। তিনিও এ দিন ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানান।
এখানেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন– ‘যখন কিছু ছিল না– তখন আমি শুভাদাকে দিয়ে দেশপ্রিয় পার্কে এই শহিদ বেদি তৈরি করেছিলাম। এখন কলকাতার একুশে উদ্যানে আমরা একটা ভালো স্মারক তৈরি করতে পেরেছি। আগামী দিনে দেশপ্রিয় পার্কের স্মারককে আরও ভালো করে গড়া হবে।’ আমাদের মধ্যে বাংলা ভাষা চর্চা কমা নিয়েও ক্ষেদ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি বলেন– ‘আমরা কখনও কখনও বাংলাতে কথা বলাটাই ভুলে গেছি। আমি এটা নিয়েও ভাবি। এই নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে বলছিলাম– ইংরেজি– হিন্দি– অলচিকি– নেপালি সমস্ত ভাষা আমরা পড়ব। যত জানব জানার শেষ নেই। কিন্তু বাংলা রাজ্যে ইংলিশ মিডিয়াম সব সাবজেক্ট হলেও বাংলাটা আমি কেন পড়ব না। যে বাংলাভাষায় কথা বলতে চায় সে ইংরেজি পড়েও বাংলা পড়বে। হিন্দিও পড়বেন সব ভাষাকে মিলিয়ে দেওয়াটাই তো ভাষা।’
তিনি আরও বলেন– ‘২০১৫ সালে আমরা কৃতজ্ঞ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাজি আমাদের একুশের উৎসবে আমন্ত্রণ করেছিলেন। একুশে ফেব্র&য়ারির মধ্যরাতের অনুষ্ঠানে হাজির থাকতে পেরে আমার দীর্ঘ দিনের ইচ্ছাপূরণ হয়েছে। আমরা ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে এসেছি। এটা আমার দীর্ঘ দিনের চাহিদা ছিল।’
এদিকে বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনার জকি আহাদ বলেন– ‘এই বাংলার পূর্বপুরুষেরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ডাকে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। এই যুদ্ধে এক কোটির বেশি বাঙালিকে আপনারা আশ্রয় দিয়েছিলেন। পশ্চিম বাংলার মানুষেরা নিজের অন্ন বস্ত্র ও বাসস্থান ভাগ করে নিয়েছিলেন। সে জন্য আপনাদের কাছে চিরঋণী হয়ে আছি।’ এ দিন তিনি আরও বলেন– ‘ ৭১ সালের পর ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কে এত ভালো সময় আগে কখনও আসেনি। ’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here