বেসরকারি হাসপাতালের লাগামছাড়া বিলের রাশ টানতে বৈঠকে বসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

0
160

কলম প্রতিবেদক­ যেমন ঘোষণা– তেমন কাজ। বেসরকারি হাসপাতালের লাগামছাড়া বিলের রাশ টানতে বৈঠকে বসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ– বুধবার টাউন হলে বেলা ১টায় সমস্ত বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে বেসরকারি হাসপাতালের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।
চিকিৎসায় গাফিলতি কিংবা ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বিল বানানো। বেসরকারি হাসপাতালগুলির একাংশের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ নিত্য-নৈমিত্তিক হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাগত সমস্যা মেটাতে এবার বেসরকারি হাসপাতালগুলির অনিয়মের বিরুদ্ধে কড়া দাওয়াই দিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। জানা গিয়েছে– বৈঠকে বেসরকারি হাসপাতালগুলির লাগাম ছাড়া বিলের সমস্যা মেটাতে একটি ‘মাল্টি ডিসিপ্লিনারি এক্সপার্ট গ্র&প’ গঠন করা হতে পারে। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের উচ্চপদস্থ কর্তাদের এই এক্সপার্ট গ্র&পের প্রধান হিসেবে রাখা হতে পারে বলেও স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। বৈঠকে যে সমস্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে তা হচ্ছে– বেসরকারি হাসপাতালগুলির বিলে নজরদারি– অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা– চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারে লাগাম। এ ছাড়াও স্বাস্থ্য দফতরের কমিটির হাতে আরও ক্ষমতা সহ ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট শাখা জোরদার করার মতো সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে বলে সূত্রের খবর। তবে আজ মুখ্যমন্ত্রীর এই বৈঠকে কী ঘটবে- তা নিয়ে আগাম েকানও মন্তব্য করতে চাননি রাজ্য স্বাস্থ্যকর্তারা। অন্যদিকে– এ দিনের বৈঠক সম্পর্কে শহরের অন্যতম বেসরকারি হাসপাতালের কর্তারাও মুখে কুলুপ এঁটেছেন। একবালপুরের দুই অন্যতম বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কথায়– বৈঠকে উপস্থিত থাকব। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই বক্তব্য বাইপাস থেকে শুরু করে শহরের অন্যান্য হাসপাতাল কর্তাদের।
উল্লেখ্য– গত কয়েক বছরে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পেলেও– বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা এবং বিলের সাযুজ্য না থাকায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় গাফিলতি এবং অহেতুক হাজার হাজার টাকার বিল ধরানোর অভিযোগ একাধিকবার জমা পড়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর– ক্রেতা সুরক্ষা দফতর সহ রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে। ক্রেতা সুরক্ষা দফতর এবং কাউন্সিল সূত্রে জানা গিয়েছে– গত দু’বছরে েবসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক– নার্সদের বিরুদ্ধে কয়েকশো অভিযোগ জমা পড়েছে। যার মধ্যে অনেক েক্ষত্রে মানুষ বিচারও পেয়েছেন। উল্লেখ্য– দিন কয়েক আগে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের অনুষ্ঠানে গিয়েও বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন– ‘রোগীদের অযথা পরীক্ষা করাবেন না। নিজেদের দক্ষতার সাহায্যে চিকিৎসা করাতে চেষ্টা করবেন।’ একইভাবে বেসরকারি হাসপাতালে রাজ্যে বিধায়কদের চিকিৎসাতেও লাগামছাড়া বিল আসার প্রেক্ষিতে অধ্যক্ষকে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর করতে বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত– গত সপ্তাহে একবালপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালে স্থানীয় কিশোরীর মৃতু্যর ঘটনায় চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। একইসঙ্গে হাসপাতালের বিরুদ্ধে মাত্রাতিরিক্ত বিলের কথাও সামনে আসে। উত্তেজিত জনতা ওই হাসপাতাল ভাঙচুর করে। যার প্রেক্ষিতে গত শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী হরিশ পার্কের এক অনুষ্ঠানে এই ভাঙচুরের নিন্দা করেন। এ ছাড়াও সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালের সম্পত্তি নষ্ট করাও বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এরপরেই বিলের েকাপ থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে মুখ্যমন্ত্রী বেসরকারি হাসপাতালের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here