দুর্ভিক্ষের কালো ছায়া আফ্রিকার ৩ দেশের ওপর– সাহায্যের আহ্বান জানাল রাষ্টÉসংঘ

0
184

নিউ ইয়র্ক এবং নাইরোবি– ২১ ফেব্র&য়ারিঃ আশঙ্কা গভীর হচ্ছিল গত কয়েক মাস থেকেই। খরা– খাদ্যাভাব আর গোষ্ঠী সংঘর্ষে রকেটের গতিতে বাড়ছিল অপুষ্টি। অনাহার আর সংক্রমণ রোগে মৃতু্য বাড়ছিল লাফিয়ে লাফিয়ে। হাল ছেড়ে দিয়ে রাষ্টÉসংঘও অবশেষে ঘোষণা করল– দ্রুত ব্যবস্থা নিতে না পারলে ভয়াবহ অবস্থা হবে আফ্রিকার তিন দেশ– দক্ষিণ সুদান– ইয়েমেন এবং সোমালিয়ায়। দক্ষিণ সুদানের কিছু অংশে ইতিমধ্যেই দুর্ভিক্ষ ঘো¡ণা করা হয়েছে।
রাষ্টÉসংঘের আফ্রিকা সদর কার্যালয়ে এখন চূড়ান্ত ব্যবস্থা। তাদের শিশু সংক্রান্ত দফতরের কর্তাদের কপালে বড়সড় চিন্তার ভাঁজ– হাজার হাজার নবজাতককে বাঁচাবেন কী করে– কী করেই বা রুখে দাঁড়ানো যাবে অপুষ্টির বিরুদ্ধে। রাষ্টÉসংঘের রিপোর্ট বলছে– অন্তত ১৪ লক্ষ শিশুর স্বাস্থ্য নিয়ে সংশয়ের যথেষ্ট কারণ আছে।
ইয়েমেনের শহর-গঞ্জের মানুষ ভীত– সন্ত্রস্ত গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায়। সে দেশের সাড়ে ৪ লক্ষ ৬২ হাজারেরও বেশি শিশু অপুষ্টির শিকার। নাইজেরিয়ায় সংখ্যাটা সাড়ে ৪ লক্ষ। দুর্ভিক্ষর ব্যাপারে আগাম সতর্ক করে থাকে ‘ফিউজ নেট’ নামে একটি সংস্থা। তাদের তরফে জানানো হয়েছে– নাইজেরিয়ার বোর্নো প্রদেশে দুর্ভিক্ষ থাবা বসিয়েছে গত বছর থেকেই। দুর্ভিক্ষ নিয়ন্ত্রণে সব অঞ্চলে এখনও পৌঁছতেই পারেনি রাষ্টÉসংঘ এবং ত্রাণ সংস্থাগুলির প্রতিনিধিরা। সোমালিয়ায় দুর্ভিক্ষের শিকার ১ লক্ষ ৮৫ হাজার শিশু। সংখ্যাটা ২ লক্ষ ৭০ হাজারে পৌঁছে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ। দক্ষিণ সুদানের ইউনিটি প্রদেশে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়েছে ইতিমধ্যেই।
প্রসঙ্গত– দুর্ভিক্ষ ঘোষণা ক্ষেত্রে রাষ্টÉসংঘের নিজস্ব একটি মাপকাঠি আছে। কোনও অঞ্চলের ২০ শতাংশেরও বেশি মানুষ যদি রোজ ২১০০ কিলোক্যালোরি খাদ্যগ্রহণ করতে অসমর্থ হন এবং ৩০ শতাংশ শিশু ক্রমাগত অপুষ্টিতে ভুগতে থাকে তবে ওই অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয় রাষ্টÉসংঘের তরফে। আবার– ১০ হাজার জনের মধ্যে মধ্যে ২ জন পূর্ণবয়স্ক মানুষ বা ৪ জন শিশু অনাহারে মারা যায় তাহলেও দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হতে পারে।
আফ্রিকার তিন দেশের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পরই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন ইউনিসেফ-এর ডিরেক্টর অ্যান্থনি লেক। তিনি এই প্রসঙ্গে বলেন– এখনই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঝাঁপিয়ে পড়লে আমরা অনেককে বাঁচাতে পারব। আগামী মাসে ক্যামেরুন– চাদ প্রভৃতি দেশ সফরে যাচ্ছেন রাষ্টÉসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দূতরা। সন্ত্রাসবাদী হামলা এবং গোষ্ঠী সংঘর্ষ আফ্রিকাকে কোন অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই লক্ষ্য তাদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here