জলপাইগুড়ি শিশুপাচারকাণ্ড­ সিআইডির নজরে জেলার শিশু আধিকারিক– চার চিকিৎসক এখনও অধরা জুহি চৌধুরি

0
160

কলম প্রতিবেদক­ জলপাইগুড়ি শিশুপাচার কাণ্ডে অভিযুক্ত বিজেপি নেত্রী জুহি চৌধুরিকে জালে পুরতে লুক আউট নোটিশ জারির পথে হাঁটতে চলছে সিআইডি। তদন্তকারীদের আশঙ্কা– অসম হয়ে দিল্লি কিংবা অন্যত্র পালাতে পারেন বিজেপি নেত্রী। সোমবার বিকেলের পর অভিযুক্ত নেত্রীর মোবাইল বন্ধ থাকায় তার টাওয়ার লোকেশন শনাক্তকরণের কাজে খুব একটা এগনো সম্ভব হয়নি। একদিকে জুহি চৌধুরির খোঁজে যেমন হন্যে হয়ে পড়েছেন সিআইডি আধিকারিকরা তেমনই তদন্ত করতে গিয়ে কার্যত কেঁচো খুঁড়তে কেউটের সন্ধান পেয়েছেন। জানতে পেরেছেন– শিশু পাচারচক্রের মূল হোতা চন্দনা চক্রবর্তীকে শুধু বিজেপি নেত্রী জুহি চৌধুরি নন– সাহায্য করেছেন চার চিকিৎসকও। তাছাড়া জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিক সাসমিতা ঘোষেরও ভূমিকাও সন্দেহের |র্ধ্বে নয়। ইতিমধ্যেই অবশ্য জেলা শিশু রক্ষা আধিকারিককে শোকজ করেছেন জেলাশাসক রচনা ভাগবত। পাঁচজনেই তদন্তকারীদের আতস কাচের নীচে রয়েছেন।
সিআইডি সূত্রে খবর– কয়েক মাস আগে বাদুড়িয়া শিশুপাচার কাণ্ডের তদন্তে নেমে যেমন চক্রের সঙ্গে বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছিল– তেমনই জলপাইগুড়িতেও একইরকমভাবে চার চিকিৎসকের ভূমিকা যথেষ্টই সন্দেহজনক। চারজনের বিষয়ে ইতিমধ্যেই েখাঁজখবর নেওয়া শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। যাতে তাঁরা পালাতে না পারেন তার জন্য ওই চার চিকিৎসকের উপরে নজরদারি রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসার সাসমিতা ঘোষের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছেন সিআইডির আধিকারিকরা। চন্দনা চক্রবর্তীর বিমলা েহাম ও দত্তক সংস্থা নর্থ বেঙ্গল পিপলস ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ ওঠা সত্ত্বেও জেলা চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসার হিসেবে কেন তিনি ব্যবস্থা নেননি তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাসমিতা ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে– নোঅবজেকশন সার্টিফিকেট দেওয়ার বিনিময়ে তিনি চন্দনা চক্রবর্তীর কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছিলেন। যদিও এ দিন নিজের দফতরে বসে সেইসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাসমিতা ঘোষ। সিআইডির তদন্তকারীদের আশঙ্কা– যে ১৭টি শিশুকে অবৈধভাবে দত্তক দেওয়া হয়েছিল তার মধ্যে অন্তত ৪ টি শিশু বিদেশে পাচার হয়েছে। û
অন্যদিকে জলপাইগুড়িতে চন্দনা চক্রবর্তীর
মালিকানাধীন হোমে থাকা বিভিন্ন শিশুকে ইতিমধ্যেই অন্যান্য হোমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলির নওপাড়া সমাজকল্যাণ সমিতির হোমে ৫ টি শিশুকে পাঠানো হয়েছে। সেই পাঁচ শিশুর মধ্যে রয়েছে চার মাসের মধুরা ও নয় মাসের ঈzপ্সিতা। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে– মধুরাকে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে সিঙ্গাপুরের এক নিঃসন্তান দম্পতির হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন চন্দনা চক্রবর্তী। গত রবিবারই দিল্লি হয়ে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সিআইডির হাতে গ্রেফতার হন তিনি। ফলে মধুরাকে পাচারের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here