ভাঙচুরের বিরুদ্ধে সুর আরও চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

0
133

কলম প্রতিবেদক ­ ভাঙচুরের বিরুদ্ধে সুর আরও চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত শুক্রবার হরিশ পার্কে বুস্টার পাম্পিং স্টেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘ভেঙে দাও-গুঁড়িয়ে দাও’-এর রাজনীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে তা বরদাস্ত না করার কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দফতরের অনুষ্ঠানেও সেই সুর সপ্তমে উঠল। এ দিন বাগুইআটিতে প্রমোটারের আস্ফালনে স্কুল বাড়ি ভেঙে ফেলাকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা– ‘ভেঙে দেওয়া– গুঁড়িয়ে দেওয়া নিকেশ করবই। এটা আমার চ্যালেঞ্জ।’ এ প্রসঙ্গেই তাঁর বক্তব্য– ‘লোভের সীমা থাকা উচিত। একটা স্কুলকে ভেঙে দিয়ে ওখানে নাকি বাড়ি করবে– এসব হয় কখনও? এত কীসের লোভ? এসব কাজ সহ্য করা যাবে না। অভিযোগ সত্যি হলে– আমরা ব্যবস্থা নেবই।’ এরপরেই সাংসদ তহবিল থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়ে ওই স্কুল গড়ে দেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। এ দিনের অনুষ্ঠান থেকে রাজ্যের বিভিন্ন ক্লাব এবং ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের আওতায় থাকা সংস্থাগুলিকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
গত ২৭ জানুয়ারি রেড রোডে এক সরকারি অনুষ্ঠানে ধ্বংসাত্মক আন্দোলনের নামে সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের বিরুদ্ধে আইন তৈরির কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। যার জন্য এ দিন শেষ হওয়া চলতি বিধানসভা অধিবেশনেই আইনে সংশোধনী বিলও পাস করানো হয়। কিন্তু– শুধু বিল পাস করিয়েই যে তিনি থেমে থাকবেন না– তা মুখ্যমন্ত্রীর এ দিনের বার্তাতেই পরিষ্কার। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন– ভেঙে দাও– গুঁড়িয়ে দেওয়ার রাজনীতির তিনি নিকেশ করবেন। এ দিনের বত্তৃ«তায় বারেবারেই ফিরে এসেছে এই ভাঙচুর প্রসঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য– ‘কথায় কথায় জ্বালিয়ে দাও– পুড়িয়ে দাও। ভেঙে দাও– গুঁড়িয়ে দাও চলবে না। ক্ষোভ থাকলে জানাবার জায়গা আছে।’ বাম আমলের বিশেষ এই সংস্টৃñতিকে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন– ‘৩৪ বছর ভাঙতে ভাঙতে – গড়তে ভুলে গিয়েছি আমরা।’ বাগুইআটির স্কুল ভেঙে দেওয়া কাণ্ডেও তাই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন– এসব বরদাস্ত করতে তিনি নারাজ। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েদেন– আপাতত ত্রিপল টাঙিয়ে স্কুল চলবে। তারপর সাংসদ তহবিলের পাঁচ লক্ষ টাকায় স্কুল তৈরি করে দেওয়া হবে। যা শুনে চোখের জল চেপে রাখতে পারেননি ওই লীলাদেবী মেমোরিয়াল স্কুলের প্রধানশিক্ষক কৌশিক ভট্টাচার্য। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে তাঁর বক্তব্য– ‘তিনি যে আমাদের মা তা প্রমাণিত হয়ে গেল। তিনি যেভাবে স্কুলের পাশে দাঁড়িয়েছেন– আমরা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।’
ক্লাবগুলিকে বছর বছর আর্থিক সাহায্য েদওয়া নিয়ে বারবারই বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারকে। কিন্তু– বাংলার ক্রীড়া পরিকাঠামোকে এ গিয়ে নিয়ে েযতে এটার যে প্রয়োজনীয়তা রয়েছে তা এ দিন বুঝিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে –‘খেলাধুলো আমাদের গর্ব। একে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আমদের কর্তব্য। বাংলায় খেলাধুলো বেড়েছে। একে আরও বাড়াতে হবে।’ আগামী দিনে স্পোর্টস বা ক্রীড়াকে শিক্ষার অঙ্গ করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। কারণ– মানসিক শিক্ষার সঙ্গে শারীরিক কসরত-এরও প্রয়োজন আছে। ক্রীড়া পরিকাঠামো বাড়াতে ক্লাবের ভূমিকা রয়েছে– তাই এই আর্থিক সাহায্য। ১৩টি প্রথম সারির ক্লাবকে ৫০ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এ ছাড়াও রাজ্যের ৪ হাজার রেজিস্ট্রার্ড ক্লাবকে ২ লক্ষ টাকা করেও দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এই নিয়ে রাজ্যের প্রায় ১২ হাজার ক্লাব আর্থিক সাহায্য পেল। এ ছাড়াও ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন এর আওতায় থাকা সংস্থাগুলিকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে এককালীন অনুদান দেওয়ার কথাও জানান তিনি। খেলাধুলোর পাশাপাশি জেলায় জেলায় যুবসমাজে ‘চরিত্র গঠন’ ও ‘উৎকর্ষ’ প্রকল্প নিচ্ছে রাজ্য সরকার। ক্রীড়া ও যুবকল্যান ও পুলিশ দফতর একযোগে এই কাজ র*পায়িত করবে। গ্রামে-গঞ্জে ‘থিম সং’ও তৈরি করা হচ্ছে। ক্লাবপ্রতিনিধিদের খেলাধুলার পাশাপাশি– দাঙ্গা বা অন্যান্য খারাপ কাজের প্রতিবাদে এগিয়ে পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশিকা– ‘ খারাপ কাজ করব না। অন্যায় করব না। লোভ করব না। ভেবেচিন্তে কথা বলতে হবে। জীবনে যতটুকু প্রয়োজন সে’টুকুই করব। তার বেশি নয়। ’ মানসিক দূষণই বড় দূষণ বলে মন্তব্য তাঁর। আর– তা দূর করতেই খেলাধুলোর প্রয়োজন। বাংলা এই পথেই বিশ্বসেরা হবে বলে বিশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর।
গত ছ-বছরে রাজ্যে ১৫ টি নতুন স্টেডিয়াম– ৪৬ টি স্টেডিয়ামের সংস্কার– ২৩ টি নতুন যুব আবাস– ২২৮৪ টি মাল্টিজিম– ৬০৮ টি মিনি ইন্ডোর– ৩ টি নতুন সুইমিং পুল– ৯২২ টি যুব কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ১২ টি বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। জলপাইগুড়িতে তৈরি হয়েছে ‘ আন্তজার্তিক মানের ক্রীড়াক্ষেত্র’ তৈরি হয়েছে। এ সবের জন্য এ বার ক্রীড়া ও যুব দফতরের বাজেট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭৭ কোটি টাকা। এ দিনের অনুষ্ঠানে চুনি গোস্বামী– সমর বন্দ্যোপাধ্যায়– সৈয়দ নইমুদ্দিন– আখতার আলি– গুরুবক্স সিংয়ের মতো ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। ছিলেন বাঙালির গর্ব অলিম্পিয়ান দীপা কর্মকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন– দীপার যে কোনও সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়ে দেবে বাংলা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here