বিজেপি নেত্রীর বিরুদ্ধে শিশুপাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ

0
170

জলপাইগুড়ি– ১৯ ফেব্র&য়ারি­ শিশুপাচার-কাণ্ডে নাম জড়াল বিজেপি নেত্রীর। সূত্রের খবর– জলপাইগুড়ির হোমে শিশু পাচারচক্রে সিআইডি যে এফআইআর করেছে– তাতে নাম রয়েছে বিজেপির মহিলা মোর্চার নেত্রী জুঁহি চক্রবর্তীর। যদিও নেত্রীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।
জানা গিয়েছে– বিজেপির মহিলা মোর্চার সাধারণ সম্পাদক জুঁহি চৌধুরি। তাঁর বাবা রবীন্দ্রনাথ চৌধুরি বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য। শিশু পাচারকাণ্ডে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে জলপাইগুড়ির স্কুল শিক্ষিকা চন্দনা চক্রবর্তীকে। এই স্কুলশিক্ষিকার সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয় জুঁহির। সিআইডি সূত্রের দাবি– হোমরে লাইসেন্স নবীকরণ ছাড়াও অনুদানের বিষয়ে বহবার একসঙ্গে দিল্লি গিয়েছেন দু’জনে। দিল্লিতে জলপাইগুড়ির হোমকে অনুদান পাইয়ে দিতে তদ্বির করেছেন এই বিজেপি নেত্রী। অভিযোগ– দত্তকের নাম করে চন্দনার হোম থেকে শিশুদের ভিন রাজ্য ছাড়াও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই সবই জানতেন জুঁহি। তবে জুঁহিকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি সিআইডি। তার খোঁজে রয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা।
রবিবার হোমকাণ্ডে চন্দনা চক্রবর্তীর নর্থ বেঙ্গল পিপলস ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের চিফ অ্যাডপশন অফিসার সোনালি মণ্ডলকেও সিআইডি গ্রেফতার করেছে। এ দিন জলপাইগুড়ি জেলা মু্যূবিচারবিভাগীয় আদালতে তোলার সময় চন্দনা চক্রবর্তী মিডিয়াকে জানিয়েছেন– তার এই শিশু দত্তকের ব্যবসায় অনেক পদস্থ অফিসাররা জড়িত । প্রয়োজনে সিআইডিকে সেই নামগুলি জানাবেন তিনি।
শবিবার চন্দনা চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করার পর রবিবার সোনালি মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। সিআইডির রাজ্য এসওজি’র ওসি সুগত ঘোষ জানিয়েছেন– দু’জনকে ১৪ দিনের সিআইডি হেফাজতে নিতে চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আরও তথ্য জানতেই দু’জনকে নিজেদের হেফাজতে নিচ্ছে সিআইডি। সিআইডি চন্দনাকে জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সিআইডি চন্দনাকে জেরা করে জানতে পেরেছে– ময়নাগুড়িতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সুবাদে ময়নাগুড়ির বিজেপি মহিলা যুব মোর্চার নেত্রী জুঁহি সরকার (চৌধুরি)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে বেশ কয়েক বছর আগে। চন্দনা চক্রবর্তী ময়নাগুড়ি আনন্দনগর নিম্নবুনিয়াদি প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। সেখানেই তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বিজেপির মহিলা যুব মোর্চার নেত্রী জুঁহি সরকারের। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর খোঁজে রয়েছে সিআইডি। এই জুঁহির মাধ্যমেই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারি অফিসে চন্দনার যাতায়ত ছিল। দিল্লির বেশ কয়েকজন আমলা ও মন্ত্রীর সঙ্গেও চন্দনাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন জুঁহি। শনিবার গ্রেফতারের দু’দিন আগে ময়নাগুড়িতে জুঁহিদের বাড়িতেই ছিল চন্দনা। শনিবার চন্দনাকে গ্রেফতার করার পর জুঁহির বাড়িতে তাকে গ্রেফতারের জন্য যাওয়া হলেও তাকে পায়নি সিআইডি। এ দিকে চন্দনা চক্রবর্তী কেন্দ্রীয় সরকারের সেন্ট্রাল অ্যাডপশন রিসোর্স অথরিটি (কারা)-র অনলাইনে সরকারি নিয়ম না মেনেই বেআইনিভাবে ূদ্দের দেূে মোটা অর্থে শিশু বিক্রি করত বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য– দক্ষিণ বাদুড়িয়ার শিশু পাচারের ঘটনার পরই কেন্দ্রীয় সরকারের ‘কারা’ থেকে রাজ্য সিআইডিকে চন্দনা চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে লিূিত অভিযোগ জানানো হয়। সেই অভিযোগ এবং জলপাইগুড়ি চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি ও রাজ্য প্রশাসনের অভিযোগের ভিত্তিতেই চন্দনাকে নিয়ে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। চন্দনা চক্রবর্তী এ দিন আদালতে বলেন– সিডিব্লিউ সি এবং সেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মী সুব্রত সরকার– জনৈক উত্তম বসু ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসিয়েছেন। তবে বেশ কয়েকজন পদস্থ সরকারি আধিকারিকের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বলে চন্দনা দাবি করেছেন। অতিরিক্ত সরকারি আইনজীবী প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন– এ দিন সিআইডি-র তরফে কোর্টে ১৪ দিনের হেফাজত চেয়ে আবেদন করা হয়। কিন্তু জলপাইগুড়ি মু্যূবিচারবিভাগীয় আদালত এ দিন চন্দনা চক্রবর্তী এবং সোনালি মণ্ডলকে ১৩ দিনের সিআইডি হেফাজতে দিয়েছেন। আপাতত জলপাইগুড়িতে দু’জনকে নিজেদের হেফাজতে রেূেই জিজ্ঞাসাবাদ করবে সিআইডি। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৭ (ই)– ৪২০– ৪১৭– ৪৬৮– ৪৭১– ১২০ বি– জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্টের ৭৫– ৮০– ৮১ ধারায় মামলা দায়ের করেছে সিআইডি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here