চলে গেলেন দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি আলতামাস কবীর

0
175

কলম প্রতিবেদক­ চলে গেলেন দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি আলতামাস কবীর। রবিবার কলকাতার বাইপাসের এক বেসরকারি হাসপাতালে বেলা ২.৫২ ইন্তেকাল করেন তিনি। মৃতু্যকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। সুপ্রিম কোর্টের উজ্জ্বলতম বিচারপতিদের মধ্যে অন্যতম আলতামাস কবীরের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা আইনজীবী মহল।
বেসরকারি ওই হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে– গত ৮ ফেব্র&য়ারি জ্বর ও সর্দি-কাশি সহ একাধিক সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি। আইসিইউর ১১৭ নম্বর শয্যায় তাঁর চিকিৎসা চলছিল। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান এই বিচারপতির কিডনি– হার্ট– উচ্চ রক্তচাপ– ইউরেনারি– টিউবারকোলসিস (টিবি) সমস্যা সহ ডায়াবেটিসের সমস্যাও ছিল। জানা গিয়েছে– ২০০৭ সালে তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপনও করা হয়েছিল। এ দিন তাঁর বিভিন্ন অঙ্গ বিকলের পাশাপাশি ‘সেপটেসিক শকের’ ফলে তাঁর মৃতু্য হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শনিবার থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে এ দিন দুপুর ২.৫২ নাগাদ তিনি ইন্তেকাল করেন। প্রাক্তন এই বিচারপতির স্ত্রী ও এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছেন। এ দিন রাতে আলতামাস কবীরের লাশ সল্টলেকের কবীরকুঞ্জতে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ– সোমবার সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সল্টলেকের কবীরকুঞ্জ থেকে তাঁর লাশ নিয়ে যাওয়া হবে কলকাতা হাইকোর্টে। সেখানেই হাইকোর্টের বিচারপতি– স্টাফ ও আইনজীবী সহ সাধারণ মানুষ তাঁকে শেষবারের জন্য শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। এরপর ফের তাঁর লাশ নিয়ে যাওয়া হবে সল্টলেকের কবীরকুঞ্জতে। যেখানে তাঁর আত্মীয়-পরিজনরা শেষশ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। এরপর কলকাতার গোবরা ৩ নম্বর কবরস্থানে আসর নামাযবাদ জানাযা হবে বলে এমনটাই জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে বিচারপতি শহীদুল্লাহ মুন্সি– যিনি খবর পেয়ে ছুটে এসেছিলেন বেসরকারি ওই হাসপাতালে। বিচারপতি শহীদুল্লাহ মুন্সি জানান– আলতামাস কবীর ছিলেন– এক বড় মাপের মানুষ। তিনি ছিলেন একজন আইনবেত্তা। সুপ্রিম কোর্ট থেকে অবসরের পর তিনি নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজে। এ দিন খবর পেয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন হাইকোর্টর প্রাধন বিচারপতি নিশিথা মাত্রে সহ একাধিক বিচারপতি। এ ছাড়াও কুবীরকুঞ্জে এসেছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি সহ তাঁর অন্যান্য সহকর্মীরা। এ দিন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির লাশ কবীরকুঞ্জে পৌঁছতেই তাঁর প্রতিবেশীরা ফুল নিয়ে ছুটে আসেন শেষশ্রদ্ধা জানাতে। তদারকি করেন তাঁর প্রতিবেশী বিধাননগরের মেয়র এবং বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত। শেষশ্রদ্ধা জানাতে এসে সব্যসাচী দত্ত বলেন– আমি এক অভিভাবককে হারালাম। এ ছাড়া এ দিন তাঁকে শেষশ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন– বিধায়ক সুজিত বসু। এ দিন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতির মৃতু্যতে টু্যইটারের মাধ্যমে শোকজ্ঞাপন করেছেন রাষ্টÉপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এ দিন টু্যইটারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোকজ্ঞাপন করে বলেন– সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি আলতামাস কবীরের মৃতু্যতে তিনি শোকাহত। ভারত ও পশ্চিমবঙ্গ এক নক্ষত্রকে হারিয়েছে। তাঁর পরিবার ও সহকর্মীদের প্রতি আমার সমবেদনা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here