২৩৪ আসনবিশিষ্ট তামিলনাড বিধানসভায় আস্থাভোটে জেতার জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৭ ভোটের

0
153

চেন্নাই– ১৮ ফেব্র&য়ারি ­ যুদ্ধ ঘোষণা আগেই হয়ে গেছিল। প্রয়োজন ছিল সম্মুখ সমরে নেমে শক্তি পরীক্ষার। সেটা যে টান টান স্নায়ুযুদ্ধের রপ নেবে সেটাও জানা ছিল। যেটা জানা ছিল না সেটাই এ দিন দ্রাবিড়ভূমি সহ তামাম দেশের মানুষকে উপহার দিয়ে বসল তামিলনাডYর বিধানসভার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। চেয়ার টেবিল ভাঙা– স্পিকারের টেবিল তছনছ করা– মাইক উপড়ানো– কাগজপত্র ছিনিয়ে ছিঁড়ে ফেলা– বিরোধী বিধায়কদের মার্শাল দিয়ে মারতে মারতে বের করে দেওয়া– হাতহাতিতে জামা টেনে ছিঁড়ে দেওয়া এবং সবশেষে প্রায় বিরোধী শূন্য বিধানসভায় ধ্বনি ভোটে আস্থাভোট করে তামিলনাডYর রাজত্বপাটে পালানিস্বামীকে টিকিয়ে দেওয়া। সবটাই যেন আগে থেকে ঠিক করে রাখা কোনও রাজনৈতিক চিত্রনাট্য। মাত্র ৫ আস্থাভোটে পাস হয়ে ইরাপ্পাডি পালানিস্বামী েনতৃত্বাধীন এআইএডিএমকে সরকার কতদিন টিকে থাকতে পারবে তা নিয়ে কিন্তু এ দিনই প্রশ্ন উঠে গেল।

২৩৪ আসনবিশিষ্ট তামিলনাড বিধানসভায় আস্থাভোটে জেতার জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৭ ভোটের। জয়ললিতা মারা যাওয়ায় তার আসন শূন্য। অসুস্থতার কারণে উপস্থিত থাকতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন ডিএমকের এক বিধায়কও। বাকি ২৩২ জনই এ দিন হাজির হয়ে যান বিধানসভার আস্থাভোটে অংশ নিতে। কংগ্রেসের পক্ষ েথকে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল তারা আস্থাভোটে অংশগ্রহণ করবে না। তারপরও তাদের ৮ বিধায়ক এ দিন বিধানসভায় আসায় সাময়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল শশীকলা শিবিরে। অধিবেশন বসতেই ডিএমকের পক্ষ থেকে স্পিকার পি ধনপালের কাছে দাবি জানানো হয় গোপন ব্যালটে ভোট নিতে। স্পিকার সাফ জানিয়ে দেন– সাংবিধানিকভাবে স্পিকারের হাতেই ক্ষমতা দেওয়া আছে আস্থাভোট কখন নিতে হবে আর কীভাবে নিতে হবে। তিনি সংবিধান মেনেই কাজ করবেন। যদিও তার সেই নিরপেক্ষতা শেষ পর্যন্ত বজায় থাকেনি। ডিএমকে তাদের দাবিতে অনড় থেকে হইহুল্লোড় শুরু করলে স্পিকার অধিবেশন মুলতবি করে দেন। দ্বিতীয়বার অধিবেশন বসতেই শুরু হয় আসল খেলা। ডিএমকে বিধায়কেরা ওয়েলে নেমে স্পিকারকে ঘিরে তাদের দাবি জানতে শুরু করে। স্পিকার সেই দাবি মানার পথে না হাঁটলে শুরু হয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের চূড়ান্ত অভব্য আচরণ। চিয়ার ছুেড় মারা– ভাঙচুর– অকথ্য গালিগালাজ– জামা েটনে ছেঁড়া– স্পিকারকে তার আসন থেকে হটিয়ে বসে যাওয়া এবং সব মিলিয়ে স্পিকারের নির্দেশ
ডিএমকে বিধায়কদের অধিবেশন কক্ষ ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ডিএমকে বিধায়কেরা শুনতে রাজি না হলে মার্শাল ডেকে তাদের কার্যত ঘাড় ধরে মারতে মারতে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে দ্বিতীয়বারের জন্য সভা মুলতবি করে বিকেল ৩টের সময় আস্থাভোট গ্রহণের কথা জানিয়ে দেন স্পিকার। মজার কথা ডিএমকের হই-হট্টগোলে কংগ্রেসের বিধায়কেরা নিØুপ ছিলেন। পালানিস্বামীও নীরব ছিলেন। নীরব ছিলেন পনিরসেলভমও। তৃতীয় দফার অধিবেশন বসতেই ব্লক গঠন করে ধ্বনি ভোট গ্রহণ করার কথা জানিয়ে দেন স্পিকার। এরপরই কংগ্রেসের আট বিধায়ক ও মুসলিম লিগের এক বিধায়ক অধিবেশন কক্ষ ছেড়ে চলে যান। ধ্বনি ভোটেই ১২২-১১ ভোটে পাস হয়ে যায় পালানিস্বামীর রাজত্বপাট। এরপরই তারা যেমন দলবেঁধে জয়ললিতার সমাধিতে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান তেমনি ডিএমকে বিধায়কেরা মেরিনা বিচে চলে যান ধর্না দিতে। পরে সেখান থেকেই আটক করা হয় করুণাপুত্র এম কে স্ট্যালিন সহ ডিএমকে বিধায়কদের। কিন্তু এতকিছুর পরও অনেক প্রশ্ন রয়ে গেল যার উত্তরটা অজানা থেকে গিয়েছে। বিরোধীহীন বিধানসভায় আস্থাভোট কি সাংবিধানিক? মাত্র ৫ ভোটে জেতা পালানিস্বামী কত দিন নির্বিঘ্নে সরকার চালাতে পারবেন? সবথেকে বড় প্রশ্ন রাজ্যের মানুষ এই সরকারকে মেনে নেবে কি না? চেন্নাইয়ে কিন্তু বিকাল থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে আমজনতার বিক্ষোভ। পনির কাঁটা সরিয়েও তাই কণ্টকমুক্ত হল না চিন্নাম্মার ছক। কাঁটার আসনেই আপাতত বসতে হবে পালানিস্বামীকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here