মার্কিন জনতার শত্র& সংবাদমাধ্যমঃ ট্রাম্প

0
130

ওয়াশিংটন– ১৮ ফেব্র&য়ারিঃ ক্ষেত্র যেন দ্রুত প্রস্তুত হচ্ছিল– বিশেষ করে গত ২০ জানুয়ারির পর থেকে। কারণ– ওই দিনই প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ আসলে এক যুদ্ধক্ষেত্র যার একদিকে ট্রাম্প এবং অন্যদিকে আমেরিকার সংবাদমাধ্যমের গরিষ্ঠ অংশ। মিডিয়ার প্রতি আগেও তোপ দেগেছেন তিনি। হোয়াইট হাউজের অভ্যন্তরে অরাজকতা সৃষ্টি হচ্ছে– এ রকম খবরে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমকে সরাসরি আক্রমণ করেন। এবারে তিনি যা বললেন তাতে একপ্রকার নিশ্চিত– যুদ্ধ শুরু হতে আর বেশি বাকি নেই। তিনি বলেছেন– আমেরিকার সংবাদমাধ্যম দেশের মানুষেরই শত্র&।
টু্যইটে তিনি আমেরিকার প্রথম সারির কয়েকটি মিডিয়ার নাম করেছেন। সেই তালিকায় আছে এনবিসিএন নিউজ– এবিসি– সিবিএস– সিএনএন এবং নিউ ইয়র্ক টাইমস। টু্যইট করে ওই তালিকার নীচে লিখেছেন– আমার শত্র& নয়– ওরা মার্কিনিদের শত্র&!
মার্কিন মিডিয়া যে হোয়াইট হাউজ নিয়ে আগ্রহ দেখাবে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। নিরাপত্তা পরামর্শদাতা সহ বেশ কয়েকজন কর্তা পদত্যাগ করেছেন বা তাতে বাধ্য হয়েছেন। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে– ট্রাম্প শিবিরের আরও কয়েকজন কর্তাব্যক্তি কাগজ-কলম নিয়ে তৈরি হয়ে আছেন– পদত্যাগপত্র লিখবেন বলে। সেখানেই ঘা দেয় মিডিয়া। আর তাতেই ফোঁস করে উঠেছেন ট্রাম্প।
আমেরিকায় কোনও প্রেসিডেন্ট তার দেশের সংবাদমাধ্যমকে এইভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন তেমন নজির সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্তত নেই। বরং প্রেসিডেন্টদের সংবাদমাধ্যম নিয়ে বরাবরই গদগদ হতে দেখা গিয়েছে–সেই উদাহরণকে সামনে রেখে বিভিন্ন দেশকে গণতান্ত্রিক আবহে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে লেকচার দিতে দেখা গিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের। এখন অনেকেই বলছেন– আমেরিকার সেই গলার জোর এবার চুপসে যাওয়ার পথে। হয়তো এটা প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত মত– কিন্তু তাকে তো নির্বাচিত করেছে দেশের মানুষই।
ট্রাম্প মিডিয়ার এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন– তার প্রশাসনের কাজকর্মে বেশিরভাগ মানুষই খুশি। কিন্তু তার বিরোধীরা এবং মিডিয়া মোটেই খুশি নয়। ট্রাম্প টু্যইট করে যেভাবে সংবাদমাধ্যমের শাপশাপান্ত করেছেন তা ইতিমধ্যেই মার্কিনিদের চর্চার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা ২৮ হাজার বার রিটু্যইট হয়েছে। ফরোয়ার্ড হয়েছে ৫৩ হাজার বার– লাইক করেছেন ৮৫ হাজারেরও বেশি মানুষ।
ফক্স নিউজের এক সমীক্ষা অবশ্য বলছে– ৪৫ শতাংশ ভোটারই মনে করেন– মিডিয়ার চাইতে হোয়াইট হাউজ বেশি বিশ্বাসযোগ্য। উল্টোটা মনে করেন ৪২ শতাংশ মানুষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here