ভাঙচুরের নিন্দা মুখ্যমন্ত্রীর বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে কথা বলবঃ মমতা

0
175

কলম প্রতিবেদকঃ নার্সিংহোম বা হাসপাতালে ভাঙচুর করার তীব্র নিন্দা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার হরিশ পার্ক বুস্টার পাম্পিং স্টেশনের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন– নার্সিংহোম ভাঙার দরকার কি? ভাঙতে বেশিক্ষণ লাগে না– কিন্তু গড়তে অনেক কষ্ট করতে হয়। একটা এমআরআই মেশিন অর্ডার দিলে পাওয়া যায় ৩-৪ বছর বাদে। এসব কথা মনে রাখা দরকার। ‘ভেঙে দিন গুঁড়িয়ে দিন’ এই স্লোগানটাকেই কবর দিন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন– তিনি বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের সঙ্গে কথা বলবেন যাতে সেগুলি ঠিকঠাক চলে। প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রসঙ্গত সরকারি হাসপাতালগুলির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন– সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা এখন অনেক উন্নত হয়েছে। গত ৫ বছরে বেড সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ হাজার বাড়ানো হয়েছে। তবে েয হাসপাতালে আসন সংখ্যা ১০০০ সেখানে ২০০০ রোগী গেলে কী হবে? জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে মাটিতে রেখেও চিকিৎসা করা হবে। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে বাচ্চাদের হার্ট অপারেশন করা হচ্ছে। হাসপাতালে বিনামূল্যে স্ক্যান– অপারেশন– এমআরআই করা হচ্ছে। এখন ৯০ শতাংশ ডেলিভারি হয় সরকারি হাসপাতালে। জেলায় জেলায় আইসিইউ– ব্লাডব্যাঙ্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। সন্তান জন্ম দিতে যে মা মারা যায় তার সন্তান যাতে ঠিকভাবে বাঁচতে পারে– তার জন্য পিজিতে মাতৃদু?ের ব্যাঙ্ক করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত শহরের সৌন্দর্যায়নের কথা তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন– শহরের পার্ক– রাস্তা– ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা হরিশ মুখার্জি রোড থেকেই শুরু হয়েছে। আমি দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ থাকাকালীন এখানে প্রথম ত্রিধারার লাইট বসাই। বাসস্ট্যান্ড ও পে অ্যান্ড টয়লেটের কোনও ধারণাই আগে ছিল না। আগে টয়লেট করার জন্য সিনেমা হলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হত। কারণ তখন শুধুমাত্র সিনেমা হলগুলিতেই টয়লেট ছিল। তাও আবার চার-পাঁচ মাইল হেঁটে গিয়ে সিনেমা হল পাওয়া যেত। আমি আমার সাংসদ তহবিল থেকে প্রথম শহরে পে অ্যান্ড ইউজ টয়লেট বসানোর কাজ শুরু করি। এ ছাড়া কেওড়াতলা শ্মশানে মৃতদেহ দাহ করার জন্য বহু লোক আসে। যন্ত্রণা নিয়ে এখানে এসেও পানীয় জল বা বসার জায়গা েপত না। আমি ওখানে তাও করে দিয়েছি। আগে বিয়েবাড়ি বা অনুষ্ঠান বাড়ি ভাড়া পাওয়া কষ্টকর হত। পাঁচ লক্ষ বা দশ লক্ষ টাকায় ভাড়া পাওয়া যেত। এখন জয়হিন্দ প্রকল্পে মাত্র দশ হাজার টাকায় বাড়ি ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ৩৪ বছর ধরে একটি সরকার রাজ্যে ছিল। কেউ দিল্লিতে ক্ষমতায় ছিল। তারা এগুলো করার প্রয়োজনই মনে করেনি তারা। যখন করতে পারেননি– চুপচাপ থাকুন। আমাদের করতে দিন। ঋণের সাগর করে দিয়ে গেছেন আপনারা। এ বছরও ৪০ হাজার কোটি টাকা ঋণ শোধ করতে হবে আমাকে। একটি শিশু যদি ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে জন্মায়– কীভাবে সে দাঁড়াতে শিখবে। তার স্বাস্থ্য ভালো হবে কীভাবে? পড়াশোনা করবে কীভাবে?-আমরা যা করব– মানুষের জন্য করব। এত টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আমরা যা কাজ করেছি– অন্য কারও পক্ষে তা করা সম্ভব নয়। এখন মেয়ে জন্মালেই একটি করে মেহগনির চারা দেওয়া হচ্ছে তাকে। তার বয়স যখন ১৮ বছর হবে তখন এটির মূল্য ২.৫ লক্ষ টাকা থেকে ৪ লক্ষ টাকা হবে। মেয়েটির ভবিষ্যতের কোনও অসুবিধা হবে না। কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু করেছি। স্কলারশিপ দেওয়া চলছে। বাচ্চাদের বিনামূল্যে ব্যাগ– বই– টেস্ট পেপার দিচ্ছি। সবুজসাথী প্রকল্পে সাইকেল দেওয়া হচ্ছে। অষ্টম– নবম– দশম– একাদশ শ্রেণির পডYয়ারা সাইকেল পাচ্ছে। আগের বছর ৩০ লাখ সাইকেল দিয়েছি। এ বছরও একই পরিমাণে সাইকেল দেওয়া হবে।
২০০ কোটি টাকা দিয়ে স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ প্রোগ্রাম করা হচ্ছে। মেডিক্যাল–ইঞ্জিনিয়ার সহ উচ্চশিক্ষার পডYয়ারা আবেদন করতে পারবে এই স্কলারশিপ প্রোগ্রামে। ওবিসিদের সরকারি চাকরি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১৭ শতাংশ সংরক্ষণ করা হয়েছে।
খাদ্যসাথী প্রকল্পে ২ টাকা কেজি দরে ৮ কোটি মানুষ চাল পাচ্ছে। সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নতি হয়েছে। কন্যাশ্রী– যুবশ্রী– শিক্ষাশ্রী– খাদ্যসাথী– সবুজসাথী থেকে নানান প্রকল্প চালু করেছি। গ্রামাঞ্চলে ২০ হাজার শ্মশান রয়েছে। বৈতরণি প্রকল্পে আরও এক হাজার শ্মশান তৈরি করা হবে। কোনও দরিদ্র লোকের যদি মৃতের দাফন– সৎকাজের জন্য টাকা না থাকে সমব্যাথী প্রকল্পে তাঁকে দু’হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। সিভিক পুলিশ– বা আশাকর্মীদের জন্য স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু হবে। কন্ট্রাকচুয়েল কর্মীরা ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত কাজ করতে পারবে। কলকাতাতেও একাধিক উন্নয়ন হয়েছে। এখন যে কেউ এলে দেখবেন বিশ্বমানের যেকোনও শহরকে হার মানিয়ে দেবে কলকাতা। রোম একদিনে হয়নি। সমালোচনাটা জীবনের ধর্ম। সমালোচনা করুন– মনে মনে ভাবুন কী ছিল কী হয়েছে। এখন শহরে একাধিক সংস্থা মিলিয়ে কাজ করছে। ফুটপাথের একদিক কেএমডিএ– অন্যদিক এইচআরসি’র কোনওটা আবার কেএমসি’র। এখন সবার মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করছে। তবে রেসকোর্স আর্মির জায়গা। ওরা কোনওমতেই ওখানে উন্নয়ন করতে দিচ্ছে না।
দিল্লি-সহ ভারতের অন্যান্য শহরে জল কিনতে হয়। বাংলায় নো টাকা। তবে জলের অপচয় করবেন না। জলকে যাতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা যায় সে জন্য চিন্তাভাবনার নির্দেশ দেন শোভন ও ফিরহাদ হাকিমকে। যাতে মানুষ ১২ ঘণ্টা জল পায়– সে জন্য এই উদ্যোগ। কলকাতার এরিয়ার পর এরিয়ায় আগে জলকষ্ট ছিল। এখন জলের ব্যবস্থা হয়েছে। শহরের সব জায়গায় পরিস্টËুত পানীয় জল পৌঁছছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here