বাধা দিলে কাশ্মীরে সাধারণ মানুষকেই গুলিঃ সেনাপ্রধান

0
144


এনসি অবাক– রিজিজুঃ ঠিকই বলেছেন
নয়াদিল্লি– ১৬ ফেব্র&য়ারিঃ কাশ্মীরে যারা সেনাবাহিনীর কাজে বাধা দিচ্ছে– তাদের দেশবিরোধী হিসেবে গণ্য করে কঠোরতম ব্যবস্থা নেবে সেনাবাহিনী। এই হুঁশিয়ারি দিলেন সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত। হালে বন্দিপুরায় তল্লাশি করতে গিয়ে সেনাবাহিনীর মেজর দহিয়া সহ মোট ৪ জন জওয়ানের মৃতু্য হয়েছে জঙ্গিদের আক্রমণে। এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই সেনাপ্রধান বলেছেন– কিছু স্থানীয় মানুষের সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ আচরণের জন্য আমাদের বেশি ক্ষতি হচ্ছে। বন্দিপুরার প্যারিমহল্লায় সেনাবাহিনীর জওয়ানরা তল্লাশি করতে গেলে স্থানীয় মানুষ ব্যাপকভাবে পাথর ছুড়তে থাকে। সেই পাথর-হানা থেকে বাঁচতে গিয়ে বন্দি হয়ে পড়েন জওয়ানরা। সেই সুযোগে গ্রেনেড ছুড়ে ৪জনকে খুন করে জঙ্গিরা।
সেনাপ্রধান রাওয়াত বলেছেন– যদি সাধারণ মানুষ আমাদের কাজে বাধা দেয়– অভিযানে সমস্যা করে এবং তাদের জন্য আমাদের ক্ষতি হয় তাহলে এবার অস্ত্র প্রয়োগ করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী দেশের মানুষের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী কখনও অস্ত্র প্রয়োগ করে না। সেই কারণেই কাশ্মীরে এতকাল সেনাবাহিনী থাকা সত্ত্বেও যা লড়াই হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর (সিআরপিএফ– বিএসএফ– সীমান্ত সুরক্ষা বল– পুলিশ ইত্যাদি) সঙ্গে– কিন্তু সেনাবাহিনীর সঙ্গে হয়নি। সেনাবাহিনী বিদেশ থেকে কোনও জঙ্গি দেশে ঢুকলে তাকে মারতে দ্বিধা করে না। সেনাবাহিনীর বর্শামুখ সবসময় থাকে বিদেশি শত্র&র বিরুদ্ধে। এই প্রথম সেনাবাহিনী জম্মু-কাশ্মীরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিদেশি দেশবিরোধীর মতোই আচরণ করার কথা ঘোষণা করল। সেদিক থেকে রাওয়াতের এই ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ। রাওয়াত বলেন– ‘স্থানীয় মানুষের একাংশ জঙ্গিদের পালানোরও সুযোগ করে দিচ্ছে। তাই স্থানীয় মানুষের মধ্যে যারা হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছে তারা যদি সরে না দাঁড়ায়– আইএস বা পাকিস্তানের পতাকা উড়িয়ে ভারতবিরোধী কাজ করে যায় তাদের আমরা দেশবিরোধী হিসেবেই গণ্য করব। কঠোরতম ব্যবস্থা নেব। প্রথম দিন হয়তো আমাদের চোখে ধুলো দিয়ে কেউ পালিয়ে যেতে সক্ষম হতে পারে। কিন্তু আজ না হয়– কাল তারা ছাড়া পাবে না। আমরা ঠিক ধরবই। এখনও সুযোগ দিচ্ছি– ভালো চান তো সরে দাঁড়ান– নয়তো কঠোর ব্যবস্থার মুখে পড়বেন।’ জম্মু কাশ্মীরের ন্যাশনাল কনফারেন্স সেনাপ্রধানের মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছে– যেখানে কাশ্মীরের কম বয়সী ছেলেদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া চালিয়ে জঙ্গিদের থেকে বিচ্ছিন্ন করার দরকার– সেখানে সরাসরি গুলি করার হুমকি দিচ্ছেন সেনাপ্রধান। এর জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্টÉ প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেছেন– সেনাপ্রধান যা বলেছেন তা দেশের স্বার্থেই বলেছেন। কোনও ভুল বলেননি তিনি। এ দিকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে– গত ৩০ মাসে নিরাপত্তা বাহিনীর ১৮৮ জন সদস্য কাশ্মীরে খুন হয়েছেন। ৮২ জন সাধারণ মানুষের মৃতু্য হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি বড় বড় কথা বলে ক্ষমতায় এসে জওয়ান ও সাধারণ মানুষের জান বাঁচাতে কিছুই করতে পারেননি। ২০১৬ সালে মোট ১০৫ জন সেনা জওয়ান খুন হয়েছেন কাশ্মীরে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here